Hindusthan Samachar
Banner 2 सोमवार, मार्च 25, 2019 | समय 07:00 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

চিনে উইঘর মুসলমানদের নির্যাতন, নিশ্চুপ ইসলামি দুনিয়া

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 13 2019 7:47PM
চিনে উইঘর মুসলমানদের নির্যাতন, নিশ্চুপ ইসলামি দুনিয়া
ঢাকা, ১৩ মার্চ (হি.স.) : নিজেদের দেশের মাটিতে সন্ত্রাসবাদকে কঠোর হাতে নির্দ্ধিধায় দমন করে চিন। এর জলজ্যান্ত উদাহরণ হচ্ছে সিনজিয়াং প্রদেশে প্রায় এক কোটি উইঘর মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে প্রায় দশ লক্ষ মুসলমান কার্যত বন্দিশিবিরে রয়েছে। চিন বলছে, তাদের বন্দি করা হয়নি। শিবিরে রেখে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা আসলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এর মধ্য দিয়ে তারা উগ্রবাদকে মোকাবিলা করছে। উগ্রবাদীদের চিন্তাভাবনাকে পরিবর্তন করছে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এই নিপীড়ন যখন চলছে তখন বিশ্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ৪৯ টি দেশ প্রায় কোনোই কথা বলছে না। শুধুমাত্র তিনটি প্রতিবাদের ঘটনা পাওয়া গেছে সাম্প্রতিক সময়ে। গত বছর এক ডজন উইঘুর শরণার্থীকে চিনে ফেরত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় মালয়েশিয়া। জানুয়ারিতে কুয়েত পার্লামেন্টের চারজন সদস্য প্রকাশ্যে এসব মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। গত মাসে চিনের এমন আচরণের জোরালো নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামি আকসোয় বলেন, "চিনের বিভিন্ন কারাগারে ১০ লাখেরও বেশি উইঘুরকে খেয়ালখুশিমতো গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে ‘ব্রেন ওয়াশ’ করা হয়েছে। এসব এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়। চিন সরকার একবিংশ শতাব্দীতে এসে নতুন করে বন্দিনির্যাতন শিবির চালু করেছে এবং পর্যায়ক্রমিকভাবে নির্যাতন করছে। এটা মানবতার জন্য একটি বিরাট বিব্রতকর অবস্থা। হতাশার কথা।" কিন্তু বাকি ৪৬টি মুসলিম দেশ এ বিষয়টিকে এড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের সংবাদপত্রে ভারতের মুসলমানদের নিয়ে কোনও ঘটনা ঘটলে যেভাবে ফলাও করে ছাপা হয়, চিনের উইঘর মুসলমানদের নিয়ে কোন খবর ছাপা হয় না। বাংলাদেশের রাজনীতিকরাও নীরব। আওয়ামি লিগ থেকে বিএনপি জামায়াত হেফাজত ও অন্যান্য ইসলামি দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরান, পাকিস্তান বা ইন্দোনেশিয়ার মতো বিশাল সব মুসলিম দেশগুলোতে এ বিষয়ে কোনো নজরই দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি চিন সফর করেন সৌদি আরবের ক্ষমতার নেপথ্যের নেতা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সিনজিয়াং প্রদেশে সন্ত্রাস বিরোধী, উগ্রবাদ বিরোধী পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার চিনের রয়েছে বলে মন্তব্য করে কার্যত তিনি চিনকে অনুমোদন দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যায় নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আছে। এ অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তার প্রয়োজন চিনের সমর্থন। তাছাড়া, তাঁর আরও অর্থের প্রয়োজন আছে। নীরবতার কারণ কি ? চিন নিয়ে যারা গবেষণা করেন তারা বলছেন, "এর প্রধান কারণ হল, চিন বড় অংকের ঋণ দিচ্ছে। অস্ত্র পাঠাচ্ছে। আরব দেশগুলোকে ঋণ দিচ্ছে ২০০০ কোটি ডলার। পাকিস্তানকে ৬০০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মধ্য এশিয়ার নিকটবর্তী মুসলিম দেশগুলোকে আরও ঋণ দেওয়ার কথা শোনা যায়। শুধু কাজাখস্তানেই যৌথভাবে শিল্প বিষয়ক প্রকল্পে ঋণ দেওয়া হয়েছে ২৭০০ কোটি ডলার। তাই মুসলিম বিশ্বের এসব দেশের প্রয়োজন হল অর্থ। তাই তারা মুখে কুলুপ এঁটেছে। একই কাজ করছে তাদের অনুগত গণমাধ্যমগুলো।" হিন্দুস্থান সমাচার/ শ্রেয়সী/ সঞ্জয়
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image