Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, मार्च 23, 2019 | समय 10:31 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

ফের পাল্টে গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যপট

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 13 2019 7:46PM
ফের পাল্টে গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যপট
ঢাকা, ১৩ মার্চ (হি. স.) : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃশ্যপট, পরিস্থিতি পাল্টে গেল। মঙ্গলবার শেষ বিকেলে শাসক আওয়ামি লিগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলিগ সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নব-নির্বাচিত সহ-সভাপতি নূরুল হকের কাছে ছুটে এসে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে সমঝোতার পথ তৈরি করেছিলেন। নূরুল হকও সহ-সভাপতি ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছাড়া সব পদে ফের নির্বাচনের দাবি থেকে সরে আসেন এবং বুধবার থেকে ছাত্র ধর্মঘটের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। কিন্তু ভোট বর্জনকারী অন্যান্য সংগঠন তার এ ঘোষণা মেনে নেয়নি। তোপের মুখে পড়েন নুরুল হক। পরে রাতে ঘোষণা দেন, অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সহমত পোষণ করে তিনি চান পুননির্বাচন। তারই পুনরাবৃত্তি করে এদিন বিকেল তিনটার দিকে নূরুল হক হাজি মহম্মদ মুহসীন হলে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি সব পদেই আবার নির্বাচন চান। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন, "পুনঃনির্বাচনের ব্যাপারে বলেন, সকলের কর্মপ্রয়াস, আন্তরিকতা, সময় ও শ্রম সেগুলোকে নস্যাৎ করার এখতিয়ার, আমার নেই। প্রত্যেকটি প্রক্রিয়া, প্রত্যেকটি কার্যক্রম রীতিনীতি মেনে হবে। নতুন করে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়।" একই সঙ্গে ডাকসু নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এদিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণা করা না হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বাম ছাত্রজোটের লিটন নন্দী। তিনি বলেছেন, "তিন দিনের মধ্যে যদি ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনঃতফসিল দেওয়া না হয়, একই সঙ্গে এই নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, তাঁরা যদি পদত্যাগ না করেন এবং মামলা প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব রক্ষার্থে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দিতে বাধ্য হব।" ছাত্রলিগ বাদে ভোট বর্জনকারী ডাকসুর পাঁচটি প্যানেল পুননির্বাচন চেয়ে এদিন দুপুরে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের পর উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন লিটন নন্দী। তিনি বলেন, "আমরা উপাচার্যকে বলেছি, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ করে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। বরং তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করা হবে। আমরা জানতে চেয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে এত দিন যারা ফৌজদারি অপরাধ করলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি কোনো উত্তর দেননি।" নুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, "শত কারচুপির পরও আমাকে সহ-সভাপতি এবং আখতার হোসেনকে সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে আমার প্যানেল থেকে হারাতে পারেনি। তবে অন্যদের হারিয়ে দিতে পেরেছে তারা নীলনকশা করে। এখন আমরা দেখছি যে ছাত্রলিগ বাদে অন্য সব সংগঠন পুনঃনির্বাচন চাইছে এবং সে লক্ষ্যে তারা আন্দোলন করছে। আজ উপাচার্য স্যারকে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে। আমি তাদের প্রতিনিধি হিসেবে, এত কারচুপির মধ্যেও যেখানে নির্বাচিত হয়েছি, আমি তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করছি। আমিও চাই, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বাতিল করে ৩১ মার্চের মধ্যেই পুনরায় নির্বাচন করতে হবে।" গত সোমবার নির্বাচনের দিন রোকেয়া হলে নিজের ওপর হামলার বিষয়ে নুরুল হক বলেন, "রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদা ছাত্রলিগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ফোন দেন এবং তারা আমার ওপর হামলা চালিয়েছিল। তাদের লেডি মাস্টার বাহিনী রয়েছে, শোভন ভাইয়ের (ছাত্রলিগের সভাপতি) নেতৃত্বে তারা আমার ওপর হামলা চালিয়েছিল।" নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে জানিয়ে নুরুল হক বলেন, "ছেলেদের হলগুলোয় যেটা দেখেছি, বিশেষ করে, প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জোর করে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন তারা, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো অলিখিতভাবে ইজারা নিয়েছেন, সেই ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন। তাদের বলেছে, তারা প্রত্যেকে যেন ভোট দিতে গিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নষ্ট করে। এ ধরনের অনিয়ম আমরা দেখেছি।" ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে নতুন করে নির্বাচনের দাবিতে মঙ্গলবার রাত থেকে অনশন শুরু করেছেন পাঁচ ছাত্র। হিন্দুস্থান সমাচার/ বাসুদেব/ শ্রেয়সী/ সঞ্জয়
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image