Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, मार्च 23, 2019 | समय 23:58 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

গন্নাকাটারা অভিশাপ নয়, সমাজেরই অংশ— এই বার্তায় ‘মিশন স্মাইল’

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 13 2019 8:05PM
গন্নাকাটারা অভিশাপ নয়, সমাজেরই অংশ— এই বার্তায় ‘মিশন স্মাইল’
কলকাতা, ১৩ মার্চ (হি স) : বিশ্বে প্রতি তিন মিনিটে একটি গন্নাকাটা বা ক্লেফট লিপ বাচ্চা জন্মাচ্ছে। ভারতে এ রকম মানুষের সংখ্যা ১০ লক্ষের উপর। প্রতি বছর এ রকম প্রায় ৩৫ হাজার বাচ্চা জন্মাচ্ছে এ দেশে। তবে, কোনও পরিবারে গন্নাকাটা বাচ্চা হলে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। শৈশবে খুব সহজেই এর অস্ত্রোপচার করে নেওয়া সম্ভব। বুধবার কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান বিশেষজ্ঞরা। বেশ ক’বছর ধরে এ রকম বাচ্চাদের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের কাজ করছে ‘মিশন স্মাইল’ নামে একটি সংস্থা। এ ব্যাপারে অভিজ্ঞ চিকিৎসক তথা একটি নামী হাসপাতালের শল্য বিভাগের প্রধান এবং ‘মিশন স্মাইল’-এর ট্রাস্টি অঞ্জনা মালহোত্র বলেন, “এ রকম বাচ্চা হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ মায়ের অপুষ্টি। আরও নির্দিষ্ট করে বলা যায় তাঁর শরীরে আয়রণ ও ফ্রলিক অ্যাসিডের স্বল্পতা। বিয়ের অনেক আগে থেকে এ ব্যাপারে মেয়েদের দিকে নজর দেওয়া ভাল।” গন্নাকাটা বাচ্চা জন্মানো রোধে অন্যান্য সতর্কতার মধ্যে আছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে বিয়ে, বংশগত জিনঘটিত সমস্যা প্রভৃতি। এ কথা জানিয়ে অঞ্জনা মালহোত্র বলেন, “বাচ্চার জন্মের ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে কাটা ঠোঁট জুড়ে নেওয়া দরকার। আর ভেতরের প্যালেট অস্ত্রোপচার হওয়া দরকার বাচ্চার এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে।" ‘মিশন স্মাইল’-এর সিইও কর্ণেল (অবসরপ্রাপ্ত) শিবাজী সমাদ্দার বলেন, সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রতি ৭ হাজার বাচ্চার এক জন এ রকম জন্মাচ্ছে। ২০০২ থেকে এখন পর্যন্ত গোটা দেশে আমরা এ রকম প্রায় ৫০ হাজার মানুষের চিকিৎসা করেছি। এদের বেশির ভাগই চরম অবহেলিত নানা শ্রেণির বাচ্চা। অস্ত্রোপচার করেছি প্রায় ৩৮ হাজার জনের। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মিশনে এই কাজ করি। ১০০ তম মিশনটি হচ্ছে ১৫ থেকে ২১ মার্চ। গার্ডেনরিচে দক্ষিণ পূর্ব রেলের হাসপাতালে। ওই শিবিরে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার হবে ১০০ জন গন্নাকাটা মানুষের। এই উপলক্ষে সমাজে এ রকম বাচ্চাদের প্রতি সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দিতে আগামী রবিবার সকাল সাতটায় ঘন্টা দেড়েকের একটি পদযাত্রা ‘ওয়াকাথন’-এর ডাক দিয়েছে ‘স্মাইল ইন্ডিয়া’। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পাশে প্রায় দু‘কিলোমিটার পরিক্রমা করবে এটি। শিবাজীবাবু বলেন, “আগে অনেকে এ রকম বাচ্চা জন্মালে ঈশ্বরের অভিশাপ বলে মনে করতেন। সমাজে প্রায় অচ্ছুৎ হয়ে থাকত এ রকম বাচ্চা। জল বা মায়ের দুধ নিতে না পেরে সদ্যোজাত শিশু শুকিয়ে যায়। এক দশমাংস বাচ্চা প্রথম জন্মদিন হওয়ার আগেই মারা যেত। এখন সমাজ অনেকে সচেতন হয়েছে। আমরা তাদের সর্বতোভাবে সহায়তার চেষ্টা করছি।" হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক/ সঞ্জয়
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image