Hindusthan Samachar
Banner 2 रविवार, मार्च 24, 2019 | समय 01:00 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হল ‘সর্বাত্মক’ কর্মবিরতি

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 13 2019 8:57PM
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হল ‘সর্বাত্মক’ কর্মবিরতি
কলকাতা, ১৩ মার্চ (হি.স.) : আজ বিভিন্ন দাবির ভিত্তিতে ফের আন্দোলনে নামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠন ‘জুটা’-সহ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। আবুটা ও অবকুটা-র (যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) ডাকে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষকদের কর্মবিরতি পালিত হয়। উদ্যোক্তাদের দাবি, কর্মবিরতি ছিল সর্বাত্মক। কোনও বিভাগে কোনও ক্লাস হয় নি। অল বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন, সংক্ষেপে ‘আবুটা’-র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্পাদক গৌতম মাইতি এবং ওয়েববকুটা-র স্থানীয় শাখার গৌতম সরকার জানা, দুপুর ২টো থেকে অরবিন্দ ভবনের গাড়িবারান্দায় ধরনা কর্মসুচি পালিত হয়। ২৫০-এরও বেশি শিক্ষক এই এতে অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনের দাবি: ইউজিসির ৭ম বেতন সং শোধন কার্যকর করা, বিধিবদ্ধ সমিতিগুলিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের সংস্হান কার্যকর করার জন্য স্ট্যাচুটের সংশোধন, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো, এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের জনবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিল প্রভৃতি। বিভিন্ন দাবির ভিত্তিতে গত ১০ এপ্রিল ‘জুটা’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সল্টলেক ক্যাম্পাসে অবস্থানের ডাক দিয়েছিল। বুধবার যাদবপুরে তারা অবস্থান বিক্ষোভ এবং অর্ধ দিবস কর্মবিরতির ডাক দেয়। এই অধ্যাপক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় জানিয়েছেন, দ্রুত ইউজিসি’র নিয়ম মেনে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংশোধিত সপ্তম বেতনহার কার্যকর করা, চৌহান কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছর ১০০ শতাংশ কেন্দ্রীয় সহায়তা করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কমিটিতে তাঁদের প্রতিনিধি রাখা প্রভৃতির দাবি সংগঠনের রয়েছে। দুপুর ২-৫টা পর্যন্ত ''জুটা''-র এই কর্মসূচি হয়। এর আগে গত ৬ এপ্রিল যাদবপুরে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল ‘আবুটা’। তাদের বক্তব্য ছিল, উচ্চ শিক্ষার অবাধ বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের নয়া নকশা, শিক্ষার স্বাধিকার হরণকারী ইউজিসি-কে গ্রেডেড অটোনমির বিধি প্রত্যাহার করতে হবে, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে হবে প্রভৃতি। ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নেয়নি ‘জুটা’। ‘জুটা’-র বক্তব্য ছিল, দাবিগুলি সমর্থনযোগ্য হলেও, এখনই কর্মবিরতিতে যেতে নারাজ আমরা। গত এপ্রিল মাসে যাদবপুরে ‘আবুটা''-র ডাকা কর্মবিরতিতে অংশ নেয়নি জুটা। তাহলে এবার কেন ‘আবুটা’ আপনাদের সঙ্গে শরিক হল? এই প্রশ্নের উত্তরে পার্থপ্রতিম রায় ''হিন্দুস্থান সমাচার’-কে জানান, “আমাদের দাবিগুলি মূলত একই। গতবার আমরা ''আবুটা’-র ডাকা কর্মবিরতিতে যাইনি। কারণ, আমরা ধাপে ধাপে আন্দোলনটাকে দানা বাধাতে চাইছি। ‘আবুটা’-র কর্মবিরতির প্রস্তাব আমাদের অর্থাৎ ‘জুটা’-র কর্মপরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে করতে পারি না। তাই আমরা ওঁদের সমর্থন জানালেও কর্মবিরতিতে যেতে পারি নি। এর পর সল্টলেকে এবং যাদবপুরে দু''দফা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছি আমরা। গত নভেম্বর মাসে এই সব দাবির ভিত্তিতে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু উনি জবাব দেননি এবং আমাদের সঙ্গে দেখা করার কোনও সময় ধার্য করেননি। তাই বাধ্য হয়ে আজ অর্ধদিবস, বেলা দুটো থেকে পাঁচটা কর্মবিরতির ডাক দিই। দাবি মান্যতা না পেলে এর পর আমরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যাব। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের এই ক্ষোভ আগামী নির্বাচনে কতটা প্রতিফলিত হতে পারে? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (জুটা) সাধারণ সম্পাদক পার্থ প্রতিম রায় বলেন, দেখুন সামগ্রিক ভোটারের তুলনায় এই বঞ্ছিত শিক্ষকদের শতাংশ হয়তো ততটা বেশি নয়। হতে পারে সেই কারণে রাজ্য সরকার কোনও রকম গুরুত্ব দিচ্ছে না শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার প্রতি। এই রাজ্য সরকার আমাদের প্রতি পুরোপুরি উদাসীন। তবে এটাও ঠিক, বিভিন্ন শিক্ষকদের সম্মিলিত সংখ্যাটা ফেলে দেওয়ার মতো নয়। তাঁদের সম্মিলিত রায় অনেক সময় ভোটের কিছু আসনে এদিক ওদিক করে দিতে পারে। এর আগে ২০০৬ সালের নয়া বেতনহার কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ মন্ত্রক ঘোষণা করেছিল ২০০৮-এর ৩১ জানুয়ারি। এ কথা জানিয়ে পার্থবাবু এই প্রতিবেদককে বলেন, “সেটা রাজ্য অর্থাৎ তৎকালীন বাম সরকার নীতিগতভাবে মেনে নেয় এবং শীঘ্রই সেটা দিতে শুরু করে। কিন্তু এবারের সপ্তম বেতনহার ঘোষিত হয়েছে অনেক আগে, ২০১৭-র নভেম্বরে। ২০১৬-র ১ জানুয়ারি থেকে এটা কার্যকরী করার কথা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত রাজ্য কোনও রকম আগ্রহ দেখাচ্ছে না।'''' রাজ্যের শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানান, আগে নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষকদের বর্ধিত বেতনের ‘রেট্রসপেক্টিভ’ মেয়াদের অর্ধেক পরিমাণ কেন্দ্রীয় সরকার বহন করত। বাকিটা দিত রাজ্য। এর পর রাজ্যের অনুমতি ছাড়াই এবং রাজ্যের আপত্তি সত্ত্বেও কেন্দ্র সেটি কার্যকরী করছে না। কেন্দ্র ঠিক করেছে, ২০১৬-র ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯-এর ১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই ‘রেট্রোস্পেকটিভ’ কালের বকেয়া দেয় ৮০% রাজ্য বহন করলে বাকি ২০ শতাংশ কেন্দ্র বহন করবে। রাজ্যের বক্তব্য, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ রাজ্যের পক্ষে বহন করা খুবই অসুবিধাজনক। এ ব্যাপারে পার্থপ্রতিমবাবুর বক্তব্য, অন্যরা পারলে পশ্চিমবঙ্গ কেন পারবে না? কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি তো বটেই, দেশের প্রায় সব রাজ্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নয়া বেতনহার ইতিমধ্যে কার্যকর করেছে। হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক/ সঞ্জয়
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image