Hindusthan Samachar
Banner 2 रविवार, मार्च 24, 2019 | समय 01:03 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

পদ্ম শিবিরে অর্জুন : নজরের কেন্দ্রে বারাকপুর লোকসভা

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 14 2019 5:37PM
পদ্ম শিবিরে অর্জুন :  নজরের কেন্দ্রে বারাকপুর লোকসভা
কলকাতা, ১৪ মার্চ (হি.স.): বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে জোড়াফুল প্রতীকে দাঁড়াতে না পেরেই পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলের চারবারের বিধায়ক অর্জুন সিং। বুধবার রাত ৮.৩০ মিনিট নাগাদ দিল্লিগামী বিমান ধরেন অর্জুন সিং| তাঁর সঙ্গেই ছিলেন ভাটপাড়া পুরসভার ২৮ জন কাউন্সিলর, হালিশহর পুরসভার ১১ জন কাউন্সিলর, নৈহাটির ৬ জন কাউন্সিলর এবং পানিহাটি ও খড়দহ পুরসভার একাধিক কাউন্সিলর| এর পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তুমুল জল্পনা| যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরেই গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন অর্জুন সিং| উত্তরীয় পড়িয়ে অর্জুনকে এ দিন বিজেপিতে স্বাগত জানান কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। এর পর তিনিই বলেন, অর্জুন সিং নিজমুখে তৃণমূল ত্যাগের কারণ জানাবেন। কৈলাশবাবু এ কথা বলার পরই মুখ খোলেন বারাকপুর অঞ্চলের ডাকাবুকো নেতা অর্জুন সিং। এখন পর্যন্ত অন্দরের যা খবর, তাতে বারাকপুরে বিজেপির তরফে অর্জুন সিংয়ের প্রার্থী হওয়ার কথা | সে ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রে ভোটটা অনেক বেশি জমে যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। স্বাধীনতার পর থেকে কেন্দ্রটিতে বামেদের প্রাধান্য ছিল। ১৯৫১-র লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী জিতলেও ১৯৫৭-তে পিএসপি প্রার্থী হারিয়ে দেন কংগ্রেসকে। ১৯৬২ তে জেতেন সিপিআইএম-এর রেণু চক্রবর্তী। ১৯৬৭ ও ১৯৭১-এ সিপিএমের মহম্মদ ইসমাইল বারাকপুর লোকসভা ভোটে জেতেন। ১৯৭৭-এ তিনি হেরে যান কংগ্রেসের সৌগত রায়ের কাছে। ১৯৮০-তে মহম্মদ ইসমাইল আসনটি আসন পুনরুদ্ধার করেন ইন্দিরা কংগ্রেসের দেবী ঘোষালকে হারিয়ে। ১৯৮৪ তে দেবীবাবু জিতে যান তিনি পরাস্ত করেন সিপিএমের নেতা মহম্মদ আমিনকে। এর পর ১৯৮৯, ’৯১ ও ’৯৬— পর পর তিনটি লোকসভা ভোটে দেবীবাবু হেরে যান সিপিএমের তড়িৎ তোপদারের কাছে। এর পরেও ১৯৯৮, ’৯৯ এবং ২০০৪-এ জিতে তরিৎবাবু সাংসদ হন। তাঁর বিজয়রথ থামে ২০০৯ সালে | তৃণমূল কংগ্রেসের দীনেশ ত্রিবেদী হারিয়ে দেন তাঁকে। ২০০৪ সালে অর্জুনবাবু লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন বারাকপুরে । ভোট পান ২,৭৭,৯৭৭। লোকসভা কেন্দ্রটিকে যাঁরা হাতের তালুর মতো চেনেন, তাঁদের দাবি গত কয়েক দশকে এলাকায় বেড়েছে অর্জুন সিংয়ের প্রভাব এবং প্রতিপত্তি। এ বছর তিনি ভীষণভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট না পেলে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে রটেছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। এই মর্মে কথাবার্তাও চালাচ্ছিলেন বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে। অবশেষে এখন তিনি বিজেপির সৈনিক। এখন পর্যন্ত এলাকায় বাম প্রার্থী হিসেবে গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের দাঁড়ানোর কথা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর গার্গী সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য। বিধানসভা উপনির্বাচনে দল তাঁকে নোয়াপাড়ায় প্রার্থী করেছিল। যদিও গার্গী অর্জুন সিং এর এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় তৃণমূল প্রার্থী সুনীল সিংয়ের কাছে হেরে যান। গার্গী প্রার্থী হলে আগামী ভোটে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কাটাকাটিতে বেশ কিছু সুবিধা পাবেন বলে কারও কারও অনুমান। আমডাঙ্গা, ভাটপাড়া, বারাকপুর, বীজপুর, জগদ্দল, নৈহাটি এবং নোয়াপাড়া— এই সাতটি বিধানসভা নির্বাচন কেন্দ্র নিয়ে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র। গোটা এলাকা মূলত একসময় শিল্পাঞ্চল বলে পরিচিত ছিল। নানা ধরনের প্রচুর কারখানা এবং চটকল ওই চত্বরে রয়েছে। বাসিন্দাদের একটা বড় অংশ হিন্দিভাষী। গত কয়েক বছরে কারখানাগুলি অধিকাংশ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কারখানার জমিতে আবাসন নির্মাণ নিয়ে তৈরি হয়েছে মাফিয়া গোষ্ঠী। কাঁচা টাকা উড়ছে এলাকায়। এই কারণে বিভিন্ন দলে তৈরি হয়েছে অন্তর্কলহ। যার প্রভাব এসে পড়েছে তৃণমূলের অন্দরে। গত লোকসভা ভোটে বারাকপুর থেকে দীনেশ ত্রিবেদী পেয়েছিলেন ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ২০৬ ভোট। সিপিএমের সুভাষিনী আলি পেয়েছিলেন ২ লক্ষ ৭২ হাজার ৪৩৩ ভোট। ব্যবধান ছিল ২ লক্ষ ৭ হাজার ৭৭৩। বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এবার অন্য নানা হিসেবে কাজ করবে। কারণ গত লোকসভা নির্বাচনে নোয়াপাড়ায় ভোট হয়েছিল হাড্ডাহাড্ডি। ভাটপাড়ায় পিছিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার মুকুল রায়ের ফ্যাক্টর কাজ করবে বারাকপুর কেন্দ্রে। অর্জুন সিং এখনও বারাকপুরের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা। তিনি আজ বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ৩০ বছর থেকেছি। বামপন্থীদের সঙ্গে লড়াই করে রাজ্যে পরিবর্তন এনেছি। কিন্তু, যখন ‘দেশহিতের প্রশ্ন’ উঠল, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান মেনে নিতে পারিনি।” পুলওয়ামা হামলার কথা উল্লেখ করে এদিন অর্জুন বলেন, দেশের এত জন জওয়ান মারা যাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর পিছনে রাজনীতির গন্ধ খুঁজতে চেয়েছেন। এ বিষয়টি তাঁর একেবারেই সমর্থনযোগ্য বলে মনে হয়নি। আর সেজন্যই দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব সুনিশ্চিত করতে নরেন্দ্র মোদীর হাত শক্ত করবেন বলে বিজেপিতে যোগ দান। এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব কিভাবে এর মোকাবিলা করবে সেটা একটা বড় প্রশ্ন। হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক / কাকলি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image