Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, मार्च 23, 2019 | समय 10:47 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

বাড়ছে অর্জুনের নিরাপত্তা, অন্য বিজেপির নেতাদের দিকেও নজর কেন্দ্রের

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 14 2019 6:26PM
বাড়ছে অর্জুনের নিরাপত্তা, অন্য বিজেপির নেতাদের দিকেও নজর কেন্দ্রের
কলকাতা, ১৪ মার্চ (হি.স.) : দলে সদ্য যোগ দেওয়া অর্জুন সিংকে নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার| সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে তিনি নেতৃত্বকে ইতিমধ্যে তাঁর নিরাপত্তার অভাবের কথা জানিয়েছেন। বিজেপির তিনমন্ত্রী গতকাল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলে সব বুথকে অতি স্পর্শকাতর (সুপার সেনসিটিভ) ঘোষণার দাবি জানান। এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, “কেন? কোন যুক্তিতে? বাংলায় কী হয়েছে? গোটা দেশে তো সুপার ইমার্জেন্সি চলছে। আসলে ওরা ভয় পেয়েছে। বিজেপি শুধু মানুষকে নয়, সংবাদ মাধ্যমকেও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। টাকা ছড়াচ্ছে, ভয় দেখাচ্ছে। ভয়ের পরিবেশ গোটা দেশেই। মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে।" এই মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক চলছে নানা মহলে| সূত্রের খবর, অর্জুনবাবুর আবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার একটা কথা চলছে। এখনও তিনি দিল্লিতে| ওয়াই ক্যাটাগোরির নিরাপত্তা নিয়ে এই সপ্তাহান্তে তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা। চলতি বছরেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু এর পর ২৮ সেপ্টেম্বর বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নিরাপত্তা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি, ঝাড়গ্রাম সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় শাসক দলের ক্যাডারদের হাতে আক্রান্ত হন দিলীপবাবু। ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা তাঁর জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছিল বিজেপি| পঞ্চায়েত ভোটের আবহে রাজ্যে যে ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, তাতে যে কোনো সময় দিলীপবাবুর উপর আক্রমণ হতে পারে বলে মনে করছিল বলে মনে করছিল দল। যে কারণে তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আঁটোসাঁটো করতে সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের কাছে দরবার যায়| গত এপ্রিল মাসে ঠিক হয়, তিনি জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাবেন। সামনেই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন। তাই শাসক দলের সঙ্গে রাজ্য বিজেপির রাজনৈতিক যুদ্ধ আরও বাড়বে। সেই সময় শাসক দলের আক্রমন আরও বাড়বে বলে মনে করছে দিল্লি। তাই লোকসভা নির্বাচনের আগেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। অর্জুনবাবুর নিরাপত্তাও আঁটোসাঁটো করা হবে| ২০১৫-র জানুয়ারি বিজেপির তত্কালীন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহাকে ওয়াই ক্যাটেগরি নিরাপত্তা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার৷ গোয়েন্দা সংস্থাগুলির রিপোর্টের ভিত্তিতে রাহুলের নিরাপত্তার জন্য সিআরপিএফ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক৷ রাজ্য সরকারকে আগাম কিছু না জানিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতির জন্য কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার বন্দোবস্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাজ্যের শাসকদল| তৃণমূলের নেতাদের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিপন্থী৷ তৃণমূলের এই সমালোচনার উত্তরে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব আবার তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন৷ দলের তত্কালীন মুখপাত্র রীতেশ তেওয়ারি বলেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পান?’ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির আর এক নেতা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পান| তিনি হলেন মুকুল রায়| সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ২০০৯ সালে রাজ্য তাঁর নিরাপত্তার বলয় ‘ওয়াই’ থেকে কমিয়ে ‘এক্স’ করে দেয়| মাওবাদী হামলার আশঙ্কা করে কেন্দ্র তাঁর নিরাপত্তা বৃদ্ধির সুপারিশ করে| কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে খুশি হননি| সেই সুপারিশ কার্যকর করেনি রাজ্য। কিন্তু ২০১৫-র ১২ ডিসেম্বর দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করে রাজ্যে ফিরতে না ফিরতেই, ফের ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ফেলা হয় মুকুলবাবুকে| ২০১৭-র ১১ অক্টোবর সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন মুকুল রায়। ৩ নভেম্বর তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এর ঠিক পরে তাঁর বিরুদ্ধে বিধাননগর পৌরনিগমের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন কলকাতা হাইকোর্টে। দেবরাজবাবু প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির একজন সাধারণ কর্মী। তাহলে তাঁকে কী করে ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়? হামলার আশঙ্কায় নিজেদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবিতে ফেব্রুয়ারি মাসে রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন মুকুল রায়। তিনি দাবি করেন, নদিয়ার তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় রাজ্যের বিরোধী দলের নেতা নেত্রীদের মধ্যে এক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন তিনি। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বলেন, তৃণমূল বিধায়ক খুনের ঘটনায় মমতার প্রশাসন আমাকে হেনস্থা করতে চাইছে। তাই বিধায়ক খুনের ঘটনায় পরিকল্পনা করে তাঁর নাম জড়ানো হয়েছে বলে রাজনাথ সিংকে নালিশ জানান মুকুলবাবু। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি বলেন, সত্যজিৎ বিশ্বাস নদিয়ার একজন প্রভাবশালী বিধায়ক। তাঁর নিরাপত্তা দিতে রাজ্য সরকার ব্যার্থ হয়েছে। তাই ভোটের আগে বিরোধী দলের সব বিধায়কের নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে ভাবার অনুরোধ করেছেন মুকুল রায়। হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক/ সঞ্জয়
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image