Hindusthan Samachar
Banner 2 सोमवार, मार्च 25, 2019 | समय 07:41 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

অর্জুন সিংয়ের বিজেপিতে যোগ দেওয়াতে প্রভাব পড়বে বিধানসভা নির্বাচনেও

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 14 2019 7:38PM
অর্জুন সিংয়ের বিজেপিতে যোগ দেওয়াতে প্রভাব পড়বে  বিধানসভা নির্বাচনেও
কলকাতা, ১৪ মার্চ (হি.স.) : অর্জুন সিং তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়াতে শুধুমাত্র লোকসভা নির্বাচনে নয়, ২০২১ সালে আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও একথা মানতে নারাজ শাসকদল তৃণমূল। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, বিধানসভা ভোট তো দূরের কথা অর্জুন সিং বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় লোকসভা ভোটে একবিন্দুও প্রভাব পড়বে না। দলের অবস্থানকে এদিন একথা স্পষ্ট করেন খোদ বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় এবং নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বিজেপির সদর কার্যালয়ে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে বিজেপিতে যোগ দেন বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ জননেতা বিধায়ক তথা ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অর্জুন সিং। অর্জুন সিং ভাটপাড়া বিধানসভা থেকে চারবারের বিধায়ক। তাই বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তার প্রভাব রয়েছে। শুধু ভাটপাড়া নয়, নৈহাটি জগদ্দল নোয়াপাড়াতেও তাঁর প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলেও তাঁর প্রভাবও রয়েছে, তেমনই রয়েছে রবিনহুড ইমেজ। স্বাধীনতার পর থেকে কেন্দ্রটিতে বামেদের প্রাধান্য ছিল। ১৯৫১-র লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী জিতলেও ১৯৫৭-তে পিএসপি প্রার্থী হারিয়ে দেন কংগ্রেসকে। ১৯৬২ তে জেতেন সিপিএম-এর রেণু চক্রবর্তী। ১৯৬৭ ও ১৯৭১-এ সিপিএমের মহম্মদ ইসমাইল বারাকপুর লোকসভা ভোটে জেতেন। ১৯৭৭-এ তিনি হেরে যান কংগ্রেসের সৌগত রায়ের কাছে। ১৯৮০-তে মহম্মদ ইসমাইল আসনটি আসন পুনরুদ্ধার করেন ইন্দিরা কংগ্রেসের দেবী ঘোষালকে হারিয়ে। ১৯৮৪ তে দেবীবাবু জিতে যান তিনি পরাস্ত করেন সিপিএমের নেতা মহম্মদ আমিনকে। এরপর ১৯৮৯, ’৯১ ও ’৯৬— পর পর তিনটি লোকসভা ভোটে দেবীবাবু হেরে যান সিপিএমের তড়িৎ তোপদারের কাছে। এর পরেও ১৯৯৮, ’৯৯ এবং ২০০৪-এ জিতে তড়িৎবাবু সাংসদ হন। তাঁর বিজয়রথ থামে ২০০৯ সালে | তৃণমূল কংগ্রেসের দীনেশ ত্রিবেদী হারিয়ে দেন তাঁকে। তবে ২০০৪ সালে অর্জুনবাবু লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন বারাকপুরে । ভোট পান ২,৭৭,৯৭৭। তবে এবার অর্জুন সিং তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়াতে বারাকপুর লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা বীজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া, বারাকপুর, আমডাঙ্গা কেন্দ্রেও প্রভাব পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা। বিজেপির এখন পাখির চোখ হচ্ছে বারাকপুর লোকসভা।বারাকপুর বিধানসভার মধ্যে বারাকপুর পুরসভা ছাড়াও টিটাগড় পৌরসভার একটা অংশ রয়েছে। বারাকপুরের পুরপ্রধান উত্তম দাস অর্জুন বিরোধী হওয়ায় তেমনভাবে প্রভাব ফেলতে দেবে না বলেই ধারনা। তবে অর্জুন সিংয়ের শ্যালক নোয়াপাড়া বিধানসভার বিধায়ক তথা গারুলিয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান সুনীল সিং এদিন জানান, তিনি তৃণমূলের সাথেই আছেন ও থাকবেন। তবে অর্জুনের দল-বদলে পুরসভার একটা বড় অংশ অর্জুনের পাশে থাকবে বলে জানা গিয়েছে। আর তার প্রভাব এদিনও এলাকায় পড়ে। অর্জুন সিংয়ের বাড়ির চারপাশে এদিন সবুজ আবিরের বদলে গেরুয়া রংয়ে ছেয়ে যায়। আবার বারাকপুর বিধানসভার বর্তমান বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ। মুকুল রায় তৃণমূল ছাড়ার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য দলে এক সময় কোণঠাসা হয়ে পরেন শীলভদ্র দত্ত । তখন শীলভদ্র দত্ত বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা দেখা দিয়েছিল। আজও অর্জুন সিং বিজেপিতে যোগ দেবার পরে শীলভদ্র দত্ত মুখ খোলেন নি। তবে এদিন ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় তাঁকে শুভেচ্ছা জানালেন তৃণমূলের বারাকপুর লোকসভার প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী৷ যদিও অর্জুন সিংয়ের উপর ভর করে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রটি তৃণমূলের থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে বিজেপি৷ অন্যদিকে এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী অর্জুন সিংয়ের দলবদলে মোটেই চিন্তিত নয়৷ বরং প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, ‘তিনি যে দলেই যান না কেন তার প্রভাব নির্বাচনে পড়বে না’৷ বৃহস্পতিবার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘পদের লোভে যারা রাজনীতি করেন, তাঁরা ক্ষণস্থায়ী রাজনীতিবিদ’৷ একই সাথে ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিংকে আগামীদিনের শুভেচ্ছা জানাতেও ভোলেন নি দীনেশ ত্রিবেদী। অর্জুন সিং তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়াতে এবারের লোকসভা নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে, তার লাখ টাকার প্রশ্ন বটে। হিনন সমাচার / হীরক/ সঞ্জয়
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image