Hindusthan Samachar
Banner 2 शुक्रवार, मार्च 22, 2019 | समय 14:17 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

বিদেশ ও কূটনীতি নীতি টুইটার দিয়ে চলে না, রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ রবিশঙ্কর প্রসাদের

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 14 2019 9:57PM
বিদেশ ও কূটনীতি নীতি টুইটার দিয়ে চলে না, রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ রবিশঙ্কর প্রসাদের
নয়াদিল্লি, ১৪ মার্চ (হি.স.): রাহুল গান্ধী বিদেশ নীতি এবং কূটনীতি খুবই গুরুতর বিষয়| এটি টুইটার থেকে চালিত হয় না| চিনের কারণেই মাসুদ আজাহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করা না যাওয়ায় কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর ট্যুইটকে দুৰ্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে একথা বলেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ | ভারতীয় জনতা পার্টির প্রবীণ নেতা তথা কেন্দ্রীয়মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধীর নিন্দায় সরব হন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে মাসুদ আজাহারকে ঘোষণা করার জন্য বাধা দিয়েছে চিন। আর এতে উৎফুল্ল হয়েছেন রাহুল গান্ধী। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় চিন ফের টেকনিক্যাল কারণ দেখিয়ে মাসুদ আজাহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করার ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছে। এই নিয়ে চারবার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রথম প্রচেষ্টা সোনিয়া-মনমোহন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ ২০০৯ সালে করা হয়েছিল। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমলে ২০১৬, ২০১৭ এবং এখন ২০১৯ সালে প্রচেষ্টা শুরু হয়। কিন্তু এবার উদ্যোগ সবচেয়ে বড়। কারণ চিন বাদে নিরাপত্তা পরিষদের বাকি দেশগুলিও ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে ভারতকে একা প্রস্তাব পেশ করত। এখন প্রস্তাবের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে চিন বাদে বাকি দেশগুলি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, চিনের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক এবং রণকৌশলের দিক থেকে কি পদক্ষেপ নেওয়া যায় সে বিষয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করে দিয়েছে ভারত সরকার। এই বিষয়ে আরও তথ্য প্রতি সময় অন্তর প্রদান করা হবে। কিন্তু বর্তমান কংগ্রেস ভিন্ন সুরে কথা বলছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। রবিশঙ্কর প্রসাদ আরও বলেন, চিনের কারণেই মাসুদ আজাহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা না হওয়ায় কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর ট্যুইট দুর্ভাগ্যপূর্ণ হয়। ভারতীয় জনতা পার্টি এর কড়া ভর্ৎসনা করছে। রাহুল গান্ধীর ট্যুইট উল্লেখ করে রবিশঙ্কর প্রসাদ আরও বলেন, দেশে সন্ত্রাসবাদী হামলায় সমগ্র দেশবাসী যখন ব্যথিত, তখন রাহুল গান্ধীর কি খুশি হন? আপনি দেশের সংকটজনক পরিস্থিতিতেও সেলিব্রিটিদের মত কথা বলেন? রাজনীতিতে বিরুদ্ধ মতামত গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রশ্নে চিনের চিন্তাজনক উদ্বেগেও খুশি হয়ে যান? রাহুল গান্ধী আপনি কি জানেন, আপনার এই মতামত পাকিস্তান সংবাদমাধ্যমে শিরোনামে চলে এসেছে। আপনার ট্যুইট ও মন্তব্য পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম খুশি হয়। আপনার মন্তব্য জৈশ-ই-মহম্মদ দফতরে আগ্রহের সঙ্গে পড়বে। উনি কংগ্রেসের অন্য নেতাদেরও কড়া আক্রমণ করেন। প্রবীন বিজেপি নেতা বলেন বিজেপি কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে কিছু কড়া ও বাস্তবিক প্রশ্ন করতে চাই ১. ২০০৯ সালে কেন্দ্রে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের সময়ও চিন প্রযুক্তিগত আপত্তি জানানোয় মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। রাহুল গান্ধী তখন এ বিষয়ে কোনও ট্যুইট করেছিলেন কি? ২. রাহুল গান্ধী, আপনার সঙ্গে চিনের তো খুব ভাল সম্পর্ক রয়েছে। ডোকলামে যখন ভারতীয় সেনা চিনের সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হয়েছিল, তখন তো আপনি রাতের অন্ধকারে চিনের উচ্চ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। যখন আপনি চিন যাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন, তখন চিন দূতাবাস থেকে আধিকারিক আপনাকে বিমানবন্দরে ছাড়তে আসতে তৈরি ছিলেন। এখানেই শেষ নয়, এমনকি আপনি যখন মানস সরোবর যাত্রা করেছিলেন, সেসময় চিনের এক মন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করে কথা বলেছিলেন, যার প্রমাণ আপনি নিজেই দিয়েছিলেন। আপনার সঙ্গে চিনের যদি এতই সুসম্পর্ক থাকে, তাহলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে চিনের সঙ্গে সুসম্পর্কে চিনকে সামলানো যায়. তাহলে তো ভালই হয়। এবিষয়ে আপনি চুপ কেন? রাহুল গান্ধী, বিদেশ নীতি আর কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ট্যুইট করে বিদেশ নীতি আর কূটনীতি চলে না। ৩ | চিন প্রসঙ্গে বিষয়টি অনেক দূর পর্যন্ত যাবে । আপনার ঐতিহ্যের কারণেই চিনের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক । আলোচনা এই বিষয়েও হবে আপনাদের পূর্বপুরুষদের ভূমিকা কি ছিল ? রবিশঙ্কর বলেন, কংগ্রেস প্রায় ৫৫ বছর ধরে দেশ শাসন করেছে | আশা করা যায় যে, বিদেশী নীতিতে আপনার মতামত সঠিক ছিল, কারণ সাধারনত সমগ্র দেশ বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে একটি নীতি অনুসরণ করে চলে । ২০০৪ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘ এবং বর্তমান কংগ্রেস দলের নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুরের প্রকাশিত "Nehru — The Invention of India" বই-এ বলা হয়েছিল ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের এক বরিষ্ঠ পদাধিকারী এই ফাইলটি দেখেছিলেন | যাতে এটা পরিষ্কার হয় যে, নেহরু নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী আসনটি চিনকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন । উল্লেখযোগ্য যে এই বইয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মনমোহন সিং ও সুশীল শিন্দে উপস্থিত ছিলেন। ২০০৪ সালের ১০ জানুয়ারি প্রতিবেদনটি ইংরেজি দৈনিক ''দ্য হিন্দু''-তে প্রকাশিত হয় । এছাড়াও বরিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনেও এর উল্লেখ করা হয়েছে। রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, দেশে আসা সঙ্কটের সময় (পুলওয়ামা জঙ্গি হামলা) আপনি কেবল দুই দিন সরকারের পাশে ছিলেন কিন্তু তারপর আপনি এবং আপনার দলের নেতারা প্রতিবেশী দেশের ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন | যখন দেশের বায়ু সেনা সাংবাদিক সম্মেলন করে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আমরা পাকিস্তানের একটি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছি | এরপর রাহুল গান্ধী, আপনি ও আপনার নেতারা জঙ্গিদের হত্যার প্রমাণ চাইছেন! তিনি টিভি চ্যানেল ও মিডিয়া এজেন্সিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে, জঙ্গি ঘাঁটিগুলি কীভাবে ধ্বংস হয়েছে এখন তার সমস্ত তথ্য রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় | এখন একটি ভিডিও মিডিয়া ভাইরাল হয়ে উঠছে যার মাধ্যমে পাকিস্তানের জনগণ বিশ্বকে দেখিয়েছে যে ভারতীয় বিমানবাহিনীর হামলায় ২০০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাহুল গান্ধীকে প্রশ্ন করে বলেন, রাহুল গান্ধী আপনার কী হয়েছে? সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে লড়াইয়ে কংগ্রেস এত গম্ভীর কেন, আজ এই নিয়েও এক গম্ভীর প্রশ্ন উঠছে। আমি এটার কড়া ভর্ত্সনা করি। কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের নীতি স্পষ্ট। সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দাতার বিরুদ্ধে স্ট্রাইক চলবে। মুম্বই ২৬/১১ আক্রমণের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তখনই বিমান বাহিনী তার প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু সোনিয়া-মনমোহন কংগ্রেস সরকার বিমানবাহিনীকে অনুমতি দেয়নি। মোদী সরকার সেনাবাহিনীর শত্রুদের শেষ করতে সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণের পুরো অনুমতি দিয়েছে। এটা মোদী সরকারের বিদেশ নীতির সাফল্য যে, পাকিস্তান আমাদের উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে দ্রুত ছেড়ে দিয়েছিল। এটা আমাদের কূটনীতির সফলতা যে জঙ্গি সংগঠন হিজবুলের সালাউদ্দিনকে গ্লোবাল টেররিস্ট ঘোষণা করা হয়েছে। রবিশঙ্কর প্রসাদের আরও মন্তব্য, আমরা আমাদের গণতন্ত্র এবং দেশের জন্য ক্রমাগত লড়াই করে চলেছি। যে সন্ত্রাসীরা দেশকে ভেঙে দিতে চায়, দেশের নাগরিকদের এবং সেনাবাহিনীকে শহীদ করে, আমরা ওই সন্ত্রাসীদের ও তার প্রশয়দাতাদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাব। কিন্তু, চিনের এই অবস্থানে যদি রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস দল খুশি হয়, তাহলে আমাদের কাছে সেটা যন্ত্রণাদায়ক। -হিন্দুস্থান সমাচার / কাকলি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image