Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, मार्च 23, 2019 | समय 10:17 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

(লিড)জল্পনার অবসান, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন বিধায়ক অর্জুন সিং, বারাকপুরে পরিবর্তনের হাওয়া, মানতে নারাজ তৃণমূল

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 14 2019 9:53PM
(লিড)জল্পনার অবসান, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন বিধায়ক অর্জুন সিং, বারাকপুরে পরিবর্তনের হাওয়া, মানতে নারাজ তৃণমূল
নয়াদিল্লি ও কলকাতা, ১৪ মার্চ (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে যাবতীয় গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-তে যোগ দিলেন ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং| বেশ কিছু দিন ধরেই অর্জুন সিংয়ের দলবদলের বিষয়টি নিয়ে জল্পনা চলছিল| অর্জুন সিংয়ের ইচ্ছা ছিল বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হওয়ার| দীনেশ ত্রিবেদী প্রার্থী হন, তা কোনওদিনই চাননি অর্জুন| আর এ নিয়েই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে বিক্ষুব্ধ এই তৃণমূল বিধায়কের| অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-তে যোগ দিলেন ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং| এদিন দুপুরে দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং মুকুল রায়ের উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন অর্জুন সিং| কৈলাস বিজয়বর্গীয় উত্তরীয় পরিয়ে অর্জুন সিংকে বিজেপিতে স্বাগত জানান| এদিকে অর্জুন সিং তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়াতে শুধুমাত্র লোকসভা নির্বাচনে নয়, ২০২১ সালে আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও একথা মানতে নারাজ শাসকদল তৃণমূল। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, বিধানসভা ভোট তো দূরের কথা অর্জুন সিং বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় লোকসভা ভোটে একবিন্দুও প্রভাব পড়বে না। দলের অবস্থানকে এদিন একথা স্পষ্ট করেন খোদ বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় এবং নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং। স্বাধীনতার পর থেকে কেন্দ্রটিতে বামেদের প্রাধান্য ছিল। ১৯৫১-র লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী জিতলেও ১৯৫৭-তে পিএসপি প্রার্থী হারিয়ে দেন কংগ্রেসকে। ১৯৬২ তে জেতেন সিপিএম-এর রেণু চক্রবর্তী। ১৯৬৭ ও ১৯৭১-এ সিপিএমের মহম্মদ ইসমাইল বারাকপুর লোকসভা ভোটে জেতেন। ১৯৭৭-এ তিনি হেরে যান কংগ্রেসের সৌগত রায়ের কাছে। ১৯৮০-তে মহম্মদ ইসমাইল আসনটি আসন পুনরুদ্ধার করেন ইন্দিরা কংগ্রেসের দেবী ঘোষালকে হারিয়ে। ১৯৮৪ তে দেবীবাবু জিতে যান তিনি পরাস্ত করেন সিপিএমের নেতা মহম্মদ আমিনকে। এরপর ১৯৮৯, ’৯১ ও ’৯৬— পর পর তিনটি লোকসভা ভোটে দেবীবাবু হেরে যান সিপিএমের তড়িৎ তোপদারের কাছে। এর পরেও ১৯৯৮, ’৯৯ এবং ২০০৪-এ জিতে তড়িৎবাবু সাংসদ হন। তাঁর বিজয়রথ থামে ২০০৯ সালে | তৃণমূল কংগ্রেসের দীনেশ ত্রিবেদী হারিয়ে দেন তাঁকে। তবে ২০০৪ সালে অর্জুনবাবু লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন বারাকপুরে । ভোট পান ২,৭৭,৯৭৭। তবে এবার অর্জুন সিং তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়াতে বারাকপুর লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা বীজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া, বারাকপুর, আমডাঙ্গা কেন্দ্রেও প্রভাব পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা। বুধবার রাত ৮.৩০ মিনিট নাগাদ দিল্লিগামী বিমান ধরেন অর্জুন সিং| তাঁর সঙ্গেই ছিলেন ভাটপাড়া পুরসভার ২৮ জন কাউন্সিলর, হালিশহর পুরসভার ১১ জন কাউন্সিলর, নৈহাটির ৬ জন কাউন্সিলর এবং পানিহাটি ও খড়দহ পুরসভার একাধিক কাউন্সিলর| এরপরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তুমুল জল্পনা| যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরেই গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন অর্জুন সিং| এদিন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন অর্জুন সিং| অর্জুনের কথায়, ‘৩০ বছর ধরে মমতার সঙ্গে কাজ করেছি| পুলওয়ামা জঙ্গি হামলায় ৪২-এরও বেশি জওয়ানা মারা যাওয়ার পর গোটা দেশবাসী যখন শোকস্তব্ধ, রাগে ফুঁসছে| তখন এয়ার স্ট্রাইক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা| মমতার ওই মন্তব্যের দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে| তখন খুবই লজ্জিত হয়েছিলাম|’ এরপর তৃণমূলকে আক্রমণ করে অর্জুন সিং বলেছেন, ‘মা-মাটি-মানুষ এখন, মানি-মানি-মানি হয়ে গিয়েছে|’ অর্জুন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেছেন, ‘মমতা রাজ ধীরে ধীরে শেষ হচ্ছে| মহাভারতের অর্জুন এখন বিজেপিতে| এখন তো সিনেমার ট্রেলার চলছে, আসন সিনেমা এখনও বাকি আছে| অর্জুন সিং যোগ দেওয়ায় বাংলায় আরও শক্তিশালী হবে বিজেপি|’ রাজনৈতিক মহলের মতে, বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিট না পাওয়ায় রীতিমতো চটে গিয়েছেন অর্জুন সিং| অর্জুন চটেছেন, এমন বুঝতে পেরেও সিদ্ধান্তে কোনও বদল আনেনি তৃণমূল কংগ্রেস| অর্জুন সিং বলেছিলেন, ‘বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়তে চেয়েছিলাম| কারণ, ভোটাররা বর্তমান সাংসদের প্রতি ক্ষুব্ধ|’ তা সত্ত্বেও সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন আনেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল| অবশেষে বিজেপিতে যোগ দিলেন ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং| বিজেপির এখন পাখির চোখ হচ্ছে বারাকপুর লোকসভা।বারাকপুর বিধানসভার মধ্যে বারাকপুর পুরসভা ছাড়াও টিটাগড় পৌরসভার একটা অংশ রয়েছে। বারাকপুরের পুরপ্রধান উত্তম দাস অর্জুন বিরোধী হওয়ায় তেমনভাবে প্রভাব ফেলতে দেবে না বলেই ধারনা। তবে অর্জুন সিংয়ের শ্যালক নোয়াপাড়া বিধানসভার বিধায়ক তথা গারুলিয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান সুনীল সিং এদিন জানান, তিনি তৃণমূলের সাথেই আছেন ও থাকবেন। তবে অর্জুনের দল-বদলে পুরসভার একটা বড় অংশ অর্জুনের পাশে থাকবে বলে জানা গিয়েছে। আর তার প্রভাব এদিনও এলাকায় পড়ে। অর্জুন সিংয়ের বাড়ির চারপাশে এদিন সবুজ আবিরের বদলে গেরুয়া রংয়ে ছেয়ে যায়। আবার বারাকপুর বিধানসভার বর্তমান বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ। মুকুল রায় তৃণমূল ছাড়ার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য দলে এক সময় কোণঠাসা হয়ে পরেন শীলভদ্র দত্ত । তখন শীলভদ্র দত্ত বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা দেখা দিয়েছিল। আজও অর্জুন সিং বিজেপিতে যোগ দেবার পরে শীলভদ্র দত্ত মুখ খোলেন নি। এখন পর্যন্ত এলাকায় বাম প্রার্থী হিসেবে গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের দাঁড়ানোর কথা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর গার্গী সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য। বিধানসভা উপনির্বাচনে দল তাঁকে নোয়াপাড়ায় প্রার্থী করেছিল। যদিও গার্গী অর্জুন সিং এর এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় তৃণমূল প্রার্থী সুনীল সিংয়ের কাছে হেরে যান। গার্গী প্রার্থী হলে আগামী ভোটে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কাটাকাটিতে বেশ কিছু সুবিধা পাবেন বলে কারও কারও অনুমান। আবার ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা পুরসভার চেয়ারম্যান অর্জুন সিংয়ের পর এবার এরাজ্যের আরও তিন বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে খবর। বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, বাগমুণ্ডির কংগ্রেস বিধায়ক নেপাল মাহাত, পুরুলিয়ার কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়, নোয়াপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক সুনীল সিং বিজেপি যোগ দিতে পারেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিবপ্রকাশের সঙ্গে বৃহস্পতিবার দফায় দফায় বৈঠক সারেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। জানা গেছে, এই তিন বিধায়ককে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে টিকিট দিতে পারে বিজেপি। এদিকে ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় তাঁকে শুভেচ্ছা জানালেন তৃণমূলের বারাকপুর লোকসভার প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী৷ যদিও অর্জুন সিংয়ের উপর ভর করে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রটি তৃণমূলের থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে বিজেপি৷ অন্যদিকে এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী অর্জুন সিংয়ের দলবদলে মোটেই চিন্তিত নয়৷ বরং প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, ‘তিনি যে দলেই যান না কেন তার প্রভাব নির্বাচনে পড়বে না’৷ বৃহস্পতিবার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘পদের লোভে যারা রাজনীতি করেন, তাঁরা ক্ষণস্থায়ী রাজনীতিবিদ’৷ একই সাথে ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিংকে আগামীদিনের শুভেচ্ছা জানাতেও ভোলেন নি দীনেশ ত্রিবেদী। সত্যিই কোনও প্রভাব পড়বে কীনা তা ২৩ মে লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন জানা যাবে৷ তবে অর্জুনের শিবির পরিবর্তন চিন্তায় ফেলেছে তৃণমূলকে৷ কারণ অর্জুন সিং বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের দাপুটে তৃণমূল নেতা৷ সাংগঠনিকস্তরেও তাঁর সমান দাপট৷ চারবারের এই বিধায়কের বিস্তর প্রভাব রয়েছে নৈহাটি, ভাটপাড়া, বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের পুরসভাগুলোতে৷ এই পুরসভাগুলোর অনেক কাউন্সিলরে সমর্থন রয়েছে অর্জুন সিংয়ের দিকে৷ তাই অর্জুন সিংয়ের বিজেপিতে যোগদানের আগে এলাকার কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে বসেন দীনেশ ত্রিবেদী৷ হিন্দুস্থান সমাচার/ রাকেশ/ সঞ্জয়
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image