Hindusthan Samachar
Banner 2 मंगलवार, अप्रैल 23, 2019 | समय 07:49 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

হাওড়ার ভোটে ভাঁজ ফেলেছে শাসকদলের কপালে

By HindusthanSamachar | Publish Date: Apr 11 2019 7:49PM
হাওড়ার ভোটে ভাঁজ ফেলেছে শাসকদলের কপালে
কলকাতা, ১১ এপ্রিল (হি. স.) : এক সময় দক্ষিণবঙ্গের রূঢ় অর্থাৎ শিল্পাঞ্চল হিসাবে নামডাক ছিল হাওড়ার। সালকিয়া-ঘুসুরি-দাসনগরে ছিল ছোট ছোট কারখানা। আর বড় বড় কারখানা গেস্ট কিন উইলিয়ামস, স্যানকিন, রেমিংটন, বার্ন কোম্পানি, চটকল, ময়দাকল— রমরম করে চলত। কিন্তু বাম আমলেই সব শুকিয়ে যায়। শিবপুর মন্দিরতলার বাসিন্দা ৬৭ বছরের প্রকাশ চক্রবর্তী স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলছিলেন, ওপরের কথাগুলি। তাঁর কথায়, বড় কারখানাগুলির অন্তত ২০০ গাড়ি রোজ ছুটত বড়বাবুদের জন্য। যখন প্রায় সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে বলেছিলেন, “ওদের কাছে তালা আছে, আমার কাছে চাবি আছে। আমাকে ভোট দিন। কারখানাগুলি খোলার ব্যবস্থা করব।” প্রকাশবাবুর কথায়, প্রিয়বাবুর সেই আশ্বাস তাঁর মুখেই থেকে গিয়েছিল। তাঁকে তো বটেই পরে নানা সময়ে যাঁরা হাওড়ার সাংসদ হয়েছেন, তাঁরা একবার করে ভোট চাইতে এসেছেন। কিন্তু কাউকে জেতার পর আর এলাকায় দেখিনি। উন্নয়ন তো দূরের কথা। যেটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তা নবান্ন-কেন্দ্রিক। বছর তিন আগেও হাওড়া লোকসভা কেন্দ্র বিধানসভার নিম্নলিখিত সাত কেন্দ্র নিয়ে গঠিত ছিল— বালি, হাওড়া উত্তর, হাওড়া মধ্য, হাওড়া দক্ষিণ, শিবপুর, সাঁকরাইল। ২০১৬-তে সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশনের আদেশানুসারে হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রের পরিবর্তিত সীমানা অনুসারে ডোমজুড়ের বদলে অন্তর্গত হয় পাঁচলা বিধানসভা। প্রথম কয়েকবার হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রে মোটামুটি লড়াইটা হয়েছে কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের। একবার কংগ্রেস একবার সিপিএম একে অপরকে টেক্কা দিয়েছে। পরের দিকে বেশি টেক্কা দিয়েছে সিপিএম। ১৯৫২ থেকে আজ পর্যন্ত এই আসন কংগ্রেস পেয়েছে চার বার, সিপিএম ৯ বার। ১৯৯৮-’৯৯, ২০০৯-’১৩, ’১৩-’১৪ এবং ’১৪-১৯— এই চার পর্যায়ে হাওড়ার সাংসদ ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের। সালকিয়ার বাসিন্দা কেন্দ্রীয় সরকারের অবসরপ্রাপ্ত অফিসার মঞ্জুশ্রী শিকদার ‘হিন্দুস্থান সমাচার‘-কে বলেন, “এলাকায় পুরসভার ইতিবাচক কিছু কাজ হয়েছে। তবে, সাংসদকে এক দিনও চোখে দেখিনি। ভবিষ্যতের সাংসদের কোন দিকে বেশি নজর দিলে উপকার হয়? প্রশ্নের উত্তরে মঞ্জুশ্রী শিকদার বলেন, “উত্তর হাওড়ার সঙ্গে এই শহরের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ভীষণ অপ্রতুল। ফলে, মানুষ খুব কষ্ট পান। এটা দূর করতে যদি সাংসদ প্রকৃতই কিছু করতে পারেন, উপকার হয়।” হাওড়াবাসীরা সাংসদ সম্পর্কে যে মতই পোষণ করুন না কেন, তৃণমূলপ্রার্থী প্রাক্তন ফুটবল তারকা প্রসূণ বন্দ্যোপাদ্যায় কিন্তু সাংসদ হিসাবে নিজের পূর্ণ সাফল্য দাবি করেছেন। তাঁর হিসাবে, গত ৫ বছর লোকসভায় অধিবেশনের ৩১২ দিনের মধ্যে তাঁর হাজিরা ছিল ২৩৬। অংশ নিয়েছেন ২৩৬ আলোচনায়। প্রশ্ন করেছেন ৭৭টি। সাংসদ উন্নয়ন তহবিলে তাঁর বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় সবই খরচ করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি তথ্যে অবশ্য দেখা যাচ্ছে খরচ না হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা। প্রসূণবাবু যা দাবিই করুন, সহমত পোষণ করতে পারেননি এবারের বিজেপি প্রার্থী, প্রাক্তন সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত। এবার জেতার ব্যাপারে তিনি রীতিমত আশাবাদী। প্রতি দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী কেন্দ্রের নানা অংশে। তাঁর মতে, উন্নয়ন না পেয়ে, সাংসদের দেখা না পেয়ে এই কেন্দ্রের প্রতিটি মানুষ ক্ষুব্ধ। ভোটে তার প্রতিফলন হতে বাধ্য। অংকের হিসেব কী বলছে? ২০০৯-এ তৃণমূল কঃগ্রেস, সিপিএম এবং বিজেপি-র প্রাপ্ত ভোট ছিল প্রদত্ত ভোটের যথাক্রমে ৪৮.০৩, ৪৪.১৭ এবং ৩.৭৯ শতাংশ। সাংসদ অম্বিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ফলে উপনির্বাচন হয়। তাতে ওই তিন দলের প্রাপ্ত ভোট ছিল প্রদত্তয়ভোটের যথাক্রমে ৪৪.৬৭, ৪১.৮৫ এবং ১০.১৩ শতাংশ। ২০১৪-র লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্রে ভোট দেন মোট ভোটদাতার ৭৪ ৭৭ শতাংশ অর্থাৎ ১১ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৯৯। ওই তিন দলের প্রাপ্ত ভোট ছিল যথাক্রমে ৪৩.৪০, ২৫.৯০ এবং ২২.০৪ শতাংশ। অনেক ব্যবধানে ছিল কংগ্রেস— মাত্র ৫.৬২ শতাংশ। এই সংখ্যাই বলে দিচ্ছে বিজেপি-র পালে হাওয়া না থাকলেও কীভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে গেরুয়া ভোট। এবার ওই হাওয়া আর রন্তিবাবুর মত উদ্যমী প্রার্থীর পরিশ্রমের সম্মিলিত ফসল কিন্তু শাসকদলের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। হিন্দুস্থান সমাচার/অশোক
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image