Hindusthan Samachar
Banner 2 शुक्रवार, अप्रैल 19, 2019 | समय 07:52 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

বাংলাদেশিদের এনে ভোটব্যাংক তৈরি করেছে কংগ্রেস, গোটা দেশকে বিক্রি করার ক্ষমতা রাখে এই দল : মোদী

By HindusthanSamachar | Publish Date: Apr 11 2019 8:07PM
বাংলাদেশিদের এনে ভোটব্যাংক তৈরি করেছে কংগ্রেস, গোটা দেশকে বিক্রি করার ক্ষমতা রাখে এই দল : মোদী
গুয়াহাটি, ১১ এপ্রিল (হি.স.) : অসম তথা উত্তরপূর্বকে সুরক্ষিত রাখতে পারে কেবল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। সীমান্ত উন্মু্ক্ত করে জামাই আদর করে অসমে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের এনে বিশাল ভোটব্যাংক তৈরি করেছিলেন কংগ্রেসিরা। কেবল অসম কেন, গোটা দেশকে বিদেশিদের কাছে বিক্রি করার ক্ষমতা রাখে এরা। তবে তাদের ওই অশুভ ক্ষমতা রুখতে পারে জনতার একটি মাত্র ভোট। গতবার জনতার আশীর্বাদে কেন্দ্র বিজেপি সরকার এসেই ওই অশুভ ভোট ব্যাংক তছনছ করে অসমকে সুরক্ষিত করতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এতেই তারা হেই-হেই, রে-রে করে উঠেছে। কখনও নাম ধরে, কখনও ইশারায় নিজস্ব ভঙ্গিতে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আজ এভাবেই সোচ্চার ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের নাম না ধরে তিনি বলেন, “৭১-এর যুদ্ধের পর অসমের সব সমস্যার সমাধান করতে পারত কংগ্রেস। সমাধান করতে পারত জম্মু ও কাশ্মীরের জ্বলন্ত সমস্যারও। কিন্তু করেনি। কাশ্মীর জ্বলছে, অসমে জ্বলছে তুষের আগুন, যে-কোনও সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তাই অসমের স্বার্থে, অসমকে সর্বক্ষেত্রে সুরক্ষিত রাখতে, অসমের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-পরম্পরা-শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষা করতে আমার সরকার কিছু কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’ এর মধ্যে একটি হল বাংলাদেশের সঙ্গে জমিচুক্তি।’ বৃহস্পতিবার গুয়াহাটির পার্শ্ববর্তী কামরূপের কেন্দুকোণায় মঙ্গলদৈ (দ্বিতীয় দফায় ১৮ এপ্রিল ভোট) এবং গুয়াহাটি লোকসভা আসনে (তৃতীয় দফায় ২৩ এপ্রিল) যথাক্রমে বিজেপি প্রার্থী দিলীপ শইকিয়া এবং কুইন ওঝার হয়ে বিজয় সঙ্কল্প শীর্ষক নিৰ্বাচনি সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন মোদী। নাম না ধরে রাহুল গান্ধীর ওপর হামলা করে তিনি বলেন, মুখে সোনার চামচ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে সোনার কাপে চা পান করেন যাঁরা, তাঁরা কী করে বুঝবেন ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চা পাতা তুলতে গিয়ে মা-বোনদের হাতের আঙুলের দশা কী হয়? ছয় দশক রাজত্ব করেছেন, একদিনও চা শ্রমিকদের জন্য দরদ দেখা যায়নি। অন্ধকারের গহ্বরে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল তাঁদের। এখন এই সব নেতাদের চোখ দিয়ে কুম্ভীরাশ্রু ঝরছে। এ সব বিষয় গভীরতার সঙ্গে ভাবতে জনতাকে পরামর্শ দিয়ে ১৮ এবং ২৩ তারিখ ভোট দান করতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। অসমিয়া ভাযায় উপস্থিত জনতাকে সম্বাষণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসের অজস্র দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলেন। বলেন এই তালিকায় নতুন পালক জুটেছে মধ্যপ্রদেশের কালোটাকা। শিশু, প্রসূতিদের জন্য বরাদ্দ কোটি কোটি টাকা দিল্লির তুঘলক রোডে এক নেতার বাড়িতে গিয়ে ঢুকেছে। যারা শিশু ও গর্ভবতীদের টাকায় ডাকাতি করে এদের মুখে দুর্নীতি-বিরোধী বক্তৃতা শোভা পায় না। বক্তব্যের মাঝে মাঝে অসমিয়া ভাষায় এই সব দুর্নীতিবাজ কংগ্রেসিদের হাতে দেশের ক্ষমতা তুলে দেওয়া উচিত কিনা জানতে চান জনতার কাছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোটব্যাংকই শতাব্দি প্রাচীন এই দলের সবকিছু। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনতা কংগ্ৰেসকে বিদায় দিয়েছেন, এই অঞ্চলের মানুষ মন থেকে মুছে ফেলেছেন কংগ্রেসকে।’ এবারের ভোটে ফের তা প্রমাণ করতে বলেছেন তিনি। এবার কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসে প্রথমেই অসমের ছয় জনগোষ্ঠী মটক, মরান, কোচ-রাজবংশী, তাই আহোম, চুতিয়া এবং চা জনগোষ্ঠীকে জনজাতির মর্যাদা প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মোদী। নরেন্দ্র মোদী আরও বলেন, এবারের নিৰ্বাচন ভরসার পক্ষে এবং ভ্ৰষ্টাচারের বিরুদ্ধে নিৰ্বাচন। এবারের নিৰ্বাচন উত্তর–পূর্বাঞ্চলের বিকাশে দিবারাত্রি একাকার করার পক্ষে এবং উত্তর–পূর্বাঞ্চলকে উপেক্ষা করার বিরুদ্ধে নিৰ্বাচন। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে উদাত্ত কণ্ঠে মোদী বলেন, ‘এবারের নিৰ্বাচন আপনাদের পরম্পরাকে অপমান করার বিরুদ্ধে এবং গৌরবকে স্বীকারকারীদের সপক্ষে নিৰ্বাচন।’ স্থানীয়দের উদ্দেশে মোদীর বক্তব্য, ‘আপনাদের আশা, বিশ্বাস, প্ৰয়োজনের প্ৰতি লক্ষ্য রেখে অহৰ্নিশি কাজ করছি। প্ৰতিশ্ৰুতি দিয়ে দশকের পর দশক ভুলে যাওয়ার মানুষ আমি বা আমার দল নয়। আমরা গরিব বোনদের রান্নাঘরের ধোঁয়া থেকে মুক্ত করার প্ৰতিশ্ৰুতি দেইনি। তবু আজ ৭ কোটির বেশি গরিব পরিবারকে বিনামূল্যের গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি কৃষকদের নাম নিয়ে ভোট ভিক্ষার মতো পাপ করিনি। অথচ কৃষকদের জন্য ‘প্ৰধানমন্ত্ৰী কৃষক সম্মান’ নামের এক প্রকল্পের প্রচলন করেছি। আমি সুস্বাস্থ্যের প্ৰলোভন দিইনি। তার পরও কিন্তু ‘আয়ুষ্মান’ প্রকল্প চালু করেছি। আজ বিশ্বের মধ্যে সৰ্ববৃহৎ প্রকল্প এই ‘আয়ুষ্মান’ প্রকল্প।’ এ-সব নানা কারণে আজ ঘরে ঘরে বিজেপির জয়-জয়কার, বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘কংগ্ৰেসের অপশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করে উন্নয়নের দুয়ার খুলেছে।’ গরিব-দুখিদের টাকা যারা উদরস্থ করে তাঁদের ভোট দিলে পাপ হবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন জনতাকে। আজকের নির্বাচনি সমাবেশে অন্যদের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন দলের দুই প্রার্থী দিলীপ শইকিয়া ও কুইন ওঝা, বিজেপির প্রদেশ সভাপতি রঞ্জিতকুমার দাস, নেডা-র আহ্বায়ক তথা রাজ্যের বহু দফতরের মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা, দুই সাংসদ বিজয়া চক্ৰবৰ্তী, রমেন ডেকা, মন্ত্ৰী চন্দ্ৰমোহন পাটোয়ারি, ভবেশ কলিতা, বিধায়ক বিনন্দ শইকিয়া, গুরুজ্যোতি দাস, অশোক শৰ্মা, সত্যব্ৰত কলিতা, প্রাক্তন সাংসদ অগপ নেতা বীরেন্দ্ৰপ্ৰসাদ বৈশ্য, মহেশ্বর বড়ো, কমলী বসুমতারি প্রমুখ। হিন্দুস্থান সমাচার / এসকেডি/ সঞ্জয়
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image