Hindusthan Samachar
Banner 2 मंगलवार, अप्रैल 23, 2019 | समय 07:28 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত অধ্যক্ষের যৌনক্ষুধার প্রতিবাদ করে চলে গেলেন

By HindusthanSamachar | Publish Date: Apr 11 2019 9:39PM
মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত অধ্যক্ষের যৌনক্ষুধার প্রতিবাদ করে চলে গেলেন
ঢাকা, ১১ এপ্রিল (হি.স.) : মাদ্রাসার অধ্যক্ষের যৌনক্ষুধার কাছে আত্মসমর্পণ করেননি ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। প্রতিবাদ করেছিলেন।মামলা করা হয়েছিল অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।অধ্যক্ষের লোকজন তারই প্রতিশোধ নিতে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার রাতে মারা যান নুসরাত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।নুসরাতের মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন । মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজি রিয়াজুল হক বলেছেন, দেশে যেভাবে যৌন হয়রানির ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। দেশের মানুষ সঠিক বিচার পাচ্ছে না বলেই এসব ঘটনা বাড়ছে।বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর কাছে হার মানা নুসরাত জাহান রাফির মরদেহ দেখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। রিয়াজুল বলেন, ‘নুসরাত একটি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।তাকে অপরাধীরা ভীত করতে পারেনি। অন্য শিক্ষার্থীদের মতো কারো যৌন লালসার কাছে মাথা নত করেনি সে’।এই দিনটিকে ‘নুসরাত ডে’ হিসেবে পালন করা হোক। অপরাধী সেই মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করার পরেও তার চেহারায় ভীতি দেখা যায়নি। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, আমি চাই দ্রুততার সঙ্গে এই ঘটনার বিচার করা হোক । যাতে অন্য অপরাধীদের কাছেও সতর্ক বার্তা যায়।এছাড়া পুলিশ মামলা নিতে দেরি করে এবং ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে নুসরাতের পরিবারের সঙ্গে যে অন্যায় অবমাননাকর আচরণ করেছে তারও বিচার দাবি করছি। গত ৬ এপ্রিল মাদ্রাসায় পরীক্ষা দিতে আসা নুসরাত জাহান রাফির শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।গুরুতর আহত অবস্থায় ওই দিন রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত জাহান রাফি মারা যান। নুসরাতকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তাঁর শরীরের ৭৫ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায় বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। নুসরাতের ফুসফুসকে সক্রিয় করতে গত মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সিঙ্গাপুর থেকে একটি চিকিৎসক দলেরও ঢাকায় আসার কথা ছিল। গত ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন মেয়েটির মা। ছাত্রীর স্বজনদের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষের পক্ষের লোকজন ছাত্রীটির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। গত শনিবার গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার আগে গত রোববার অগ্নিদগ্ধ ওই ছাত্রী চিকিৎসকদের কাছে জবানবন্দি দেন। তিনি বলেন, নেকাব, বোরকা ও হাতমোজা পরা চারজন তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই চারজনের একজনের নাম ছিল শম্পা। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খন্দকার গোলাম ফারুক গতকাল সোনাগাজীতে সাংবাদিকদের বলেন, শম্পা নামের যে হামলাকারীর কথা অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী বলেছেন, সেই শম্পাকে পুলিশ গত মঙ্গলবার সকালে সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে। তবে সোনাগাজী থানার পুলিশ বলছে, গ্রেফতার করা নারীর নাম উম্মে সুলতানা ওরফে পপি। মঙ্গলবার মাদ্রাসাছাত্রীটির পরিবার বলেছে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি তারা আস্থা রাখতে পারছে না। হাত-পা বেঁধে কেরোসিন ঢেলে মেয়েটিকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পুলিশ ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি মামলার এজাহার নিয়েও পুলিশ কূটচাল চেলেছে। পরিবারের এমন অভিযোগের পর গতকাল সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মাদ্রাসা ছাত্রীকে হত্যার মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল অভিযোগে থাকা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফউদ্দিন। ওই মাদ্রাসার প্রভাষক আফসার উদ্দিন ও ছাত্র আরিফের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। হিন্দুস্থান সমাচার/বাসুদেব/অর্পিতা / কাকলি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image