Hindusthan Samachar
Banner 2 शुक्रवार, अप्रैल 19, 2019 | समय 07:52 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

আপডেট...অসমের যে পাঁচ আসনে আজ ভোট হয়েছে, সবক’টি বিজেপির দখলে আসবে, দাবি মোদীর

By HindusthanSamachar | Publish Date: Apr 11 2019 10:01PM
আপডেট...অসমের যে পাঁচ আসনে আজ ভোট হয়েছে, সবক’টি বিজেপির দখলে আসবে, দাবি মোদীর
শিলচর (অসম), ১১ এপ্রিল (হি.স.) : ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্য পেতে চলেছে বিজেপি। অসমের যে পাঁচটি স্থানে আজ প্রথম দফার ভোট হচ্ছে এই সবকটি বিজেপির দখলে আসবে, দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বরাক উপত্যকার দুই বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচারে বৃহস্পতিবার শিলচরের রামনগর বাইপাস সংলগ্ন মাঠে এক নির্বাচনি বিশাল সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন মোদী। আজকের সমাবশে দেশ তথা অসমকে অন্ধকারের গহ্বরে ঠেলে দেওয়ার জন্য বহুবার কংগ্রেসের ওপর হামলা করেছেন তিনি। শিলচরের রামনগর মাঠে বিজেপি-র বিজয় সংকল্প সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা কার্যত এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে বৃহস্পতিবার। সবার মুখে একই স্লোগান ‘আবার একবার মোদী সরকার’। দ্বিতীয় দফায় ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় শিলচর লোকসভা আসনে দুই বিজেপি প্রার্থী ডা. রাজদীপ রায় এবং করিমগঞ্জ লোকসভা আসনে কৃপানাথ মালাহের হয়ে বিজয় সংকল্প সমাবেশে শিলচর রামনগর বাইপাস সংলগ্ন মাঠে উপস্থিত হয়ে বিশাল জনসমুদ্র দেখে আপ্লুত মোদী বলেন, ‘আপনাদের এই ভালোবাসা সুদ সমেত ফিরিয়ে দেবো।’ প্রায় সাড়ে তিন লক্ষাধিক জনতার সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এদিন দাবি করেছেন, সমগ্র ভারতে বিজেপির পালে হাওয়া বইছে, দেশের জনতা স্থির করে নিয়েছেন, ‘আগলিবার মোদী সরকার’। নাম না ধরে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে ঠুকে বলেন, প্রথমে মনে করতেন তিনিই কেবলমাত্র চা-ওয়ালা যাঁকে গালি দেওয়া হয়। কিন্তু অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের চা বাগানের ওপর দশকের পর দশক নজর দেয়নি কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে বলেন, সোনার চামচ মুখে নিয়ে যাঁরা জন্ম নেয় তাঁরা কেবল সোনার কাপে চায়ের স্বাদ নিতে পারেন। কিন্তু বুঝতে পারেন না চা পাতা তুলতে শ্রমিকদের হাতের চামড়া উঠে যায়, নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হন তাঁরা। নিজেকে চা-ওয়ালা বলে সম্বোধন করে বলেন, এই চা-ওয়ালা সকলের জীবন উন্নত করতে কোনও কসুর রাখছে না। তিনি চা শ্রমিকদের উদ্দেশে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিজেপি সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে। মোদী আরও বলেন, কংগ্রেস নেতারা বলছেন মোদী শৌচালয়ের চৌকিদার। এর পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে বলেন, তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন যে মা-বোনদের সম্মানের চৌকিদারি করতে পারছেন। প্রায় ২৭ মিনিটের ভাষণে অভিযোগ করে বলেন, কংগ্রেসের হাত বিকাশের জন্য নয়, কংগ্রেসের হাত কেবল ভ্রষ্টাচারের জন্য। বলেন কংগ্রেসের এক নেতার ঘর থেকে বাণ্ডিল বাণ্ডিল টাকা উদ্ধার করা হচ্ছে যা আপনারা টেলিভিশনে দেখেছেন। কংগ্রেসের দুর্নীতির জন্যই আজ উত্তর-পূ্র্বাঞ্চল উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। তবে কেন্দ্রে পাঁচ বছরের বিজেপি-শাসনে উত্তরপূর্বের অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে আয়ুষ্মান ভারতের অধীনে ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রদান করা হয়েছে, উজ্জ্বলা যোজনার অধীনে রান্নার গ্যাস প্রদান করা হয়েছে, এমন-কি ব্রজগেজ সম্প্রসারণের কাজ সম্পূর্ণ করে এ অঞ্চলকে রাজধানী ও দেশের অনান্য অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর নির্মাণের কাজেও গতি এসেছে। তিনি সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর নাম না ধরে বলেন, দিল্লির অনেক কংগ্রেস নেতা ধোকাদাড়ি ও ট্যাস্ক চুরির দায়ে জামানতে রয়েছেন। তিনি ভোটদাতাদের প্রতি আবেদন রেখে বলেন, কংগ্রেসিরা ভোট চাইতে আসলে তাঁদের জিজ্ঞাসা করুন, তাঁদের নেতাজি এবং মাতাজি জামানতে কেন? অভিযোগ করে বলেন, কংগ্রেস তাঁদের শীর্ষ পরিবারকে বাঁচাতে দেশের ক্ষতি করতে পারে, দেশকে বিক্রি করে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফ-এর মিলাওটদের ভোট দিলে নির্ঘাত বিপদ। তবে চৌকিদার সর্তক, তাঁদের এই মনসা বাস্তবায়িত হতে তিনি দেবেন না বলে আশ্বস্ত করেন জনতাকে। তিন তালাক প্রসঙ্গে মোদী বলেন, আগামীতে সংসদে তিন তালাক আইন পাশ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বিজেপি। কংগ্রেস যতই বাধা দেওয়ার চেষ্টা করুক না-কেন, তিন তালাক আইন পাশ হবেই। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল প্রসঙ্গে মোদীকে একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ অবলম্বন করতে দেখা গেছে। বলেন, নাগরিক অধিকার দেওয়ার প্রশ্নে সকলের সঙ্গে আলোচনা করে সকলের সম্মতিতে বিল পাশ করা হবেই। তবে তিনি জোরের সঙ্গে বলেন, পরবর্তী সরকার বিজেপিই গঠন করবে। তখন ধর্মীয় নির্যাতনের বলি হয়ে ভারত মায়ের কোলে আশ্রিত শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবেই এবং এ ব্যাপারে বিজেপি দায়বদ্ধ। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পরবর্তী মেয়াদে পাশ করা হবেই বলে দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন প্ৰধানমন্ত্ৰী। বলেন, ‘অসমবাসীর সুরক্ষার স্বাৰ্থে এই বিল খুব জরুরি। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সকল শ্ৰেণির মানুষকে সুরক্ষিত করবে।’ তিনি বলেন, ‘এই বিল আইনে পরিণত হলে অসমবাসীর কোনও ক্ষতি হবে না, বরং লাভ হবে। আমার হিন্দু ভাইবন্ধুদের জন্য এই বিল পাশ করাতেই হবে।’ পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধদের উপর অত্যাচারের জন্য তিনি সরাসরি কংগ্রেসকেই দায়ী করেছেন। অভিযোগ করে বলেন, কংগ্রেস কেবল সমস্যা সৃষ্টি করতে জানে, সমাধানের পথ জানে না। ইসলামের নামে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছে যখন, তখন সেখানকার হিন্দুদের ভবিষ্যতের কথা কেন চিন্তা করেনি কংগ্রেস? এই প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, বর্তমানে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উপর অত্যাচার চলছে। একমাত্র কংগ্রেসের ভুলের জন্যই নিজের দেশে দেশহারা হয়ে ঘুরছেন তাঁরা। উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে বিজেপি সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছে বলে মোদী জানান, ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আজকের সমাবেশে ভাষণের শুরুতে উপস্থিত জনতাকে বাংলা নববর্ষ ও বিহুর শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানিয়ে দেশের উন্নয়নে ভাগিদার হতে সকলকে ভোট প্রদানের আবেদন রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এদিন শিলচর এবং করিমগঞ্জের প্রার্থীর হয়ে নিজের নামে ভোট চান। বলেন রাজদীপ রায় এবং কৃপানাথ মালাহকে ভোট দেওয়া মানে তাঁকে দেওয়া। আজকের বিজয় সংকল্প সমাবেশে নিজের ভাষণে পাঁচগ্রামের বন্ধ কাগজ কল নিয়ে একটি কথা বলেননি মোদী। অন্যদিকে তিনি শিলচরে উপস্থিত হওয়ার আগে কাগজ কলের শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে তাঁদের আটক করা হয়। এদিকে সমাবেশে বক্তব্য পেশ করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল। তিনি বলেন, রাজ্যের বিজেপি সরকার বরাক এবং ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমবিকাশের জন্য প্রয়াস করছে। দুই উপত্যকার মধ্যে মৈত্রীর সেতু বন্ধনে এক মাত্র বিজেপি সরকারই একনিষ্ঠতার সঙ্গে কাজ করছে বলে দাবি করে তিনি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ যেগুলো বরাক উপত্যকার জন্য আরম্ভ করা হয়েছে সেগুলোর উল্লেখ করেন। বলেন, বরাকের জনসাধারণের সামাজিক-রাজনৈতিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিজেপি সরকার দায়বদ্ধ। ভূপেনদা এবং হেমাঙ্গ বিশ্বাসের সমন্বয়ে আদর্শের বরাক-ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, কংগ্রেস দশকের পর দশক ধরে এই উপত্যকাকে বঞ্চিত রেখেছে। এজন্যই বরাক উপত্যকার উন্নয়ন পিছিয়ে রয়েছে। তিনি সর্বাঙ্গীন উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়ে বিজেপির দুই প্রার্থীর হয়ে ভোট চান। এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা শিলচরের তিনবারের সাংসদ কবীন্দ্র পুরকায়স্থ, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য, আবগারিমন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য, কাছাড় জেলা বিজেপি সভাপতি কৌশিক রাই, শিলচরের বিজেপি প্রার্থী রাজদীপ রায়, করিমগঞ্জের প্রার্থী কৃপানাথ মালাহ, অসমে লোকসভা নির্বাচনে দলীয় পর্যবেক্ষক উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী মহেন্দ্র সিং, বরাক উপত্যকার সব বিজেপি বিধায়কবর্গ এবং অন্য নেতারা। হিন্দুস্থান সমাচার / পুলক / এসকেডি / কাকলি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image