Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, अप्रैल 20, 2019 | समय 18:18 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

নির্বাচনে দশভূজা, তৃণমূল প্রার্থী মৌসম নূর

By HindusthanSamachar | Publish Date: Apr 12 2019 2:36PM
নির্বাচনে দশভূজা,  তৃণমূল প্রার্থী মৌসম নূর
কলকাতা, ১২ এপ্রিল (হি. স.) : “জয়, জয় চেয়েছিনু আমি। জয়ী আমি আজ।”‘গান্ধারীর আবেদন’-এ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই অভিব্যক্তি যেন মৌসম নূরের মনের কথা। যে কোনও মূল্যে জয় চাই। আদর্শের প্রশ্নটা অনেক কিছুর মত রাজনীতিতেও বুঝি ব্রাত্য। মৌসমের বাবা ও মা যথাক্রমে সৈয়দ মহম্মদ নূর ও রুবি নূর। রুবি নূর সুজাপুর কেন্দ্র থেকে তিন বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর সেই বছরই মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সংসদে নির্বাচিত হন মৌসম। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনবিদ্যায় স্নাতক। ২০০৯ সালে মায়ের মৃত্যুর পর তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নির্বাচিত হন। ২০১৮-র ১৭ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসকে সঙ্গী করে মালদহ জেলা পরিষদে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। ভারত বন্‌ধের প্রচারে সেই সময় রাজ্যের অন্যত্র যখন তৃণমূলকে বিজেপির দোসর বলছিল কংগ্রেস, তখন মালদহে সভাধিপতি নির্বাচনে আগবাড়িয়ে তৃণমূল প্রার্থীকে কংগ্রেস সমর্থন করায় এলাকার দুই সাংসদ ডালু মিয়া ও মৌসম নূরের তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা আরও বাড়ে। কিন্তু মৌসম তা স্বীকার করেননি। গত ১৪ নভেম্বর রাজ্য কংগ্রেসের সদর দফতর বিধান ভবনে এসে প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্রকে এই মৌসমই বলেছিলেন, “সোমেন মামা, আমি কংগ্রেস ছাড়ব না।” কিন্তু কথা রাখেন নি মৌসম নূর। সাবেক কংগ্রেস রাজনীতির প্রবাদপ্রতিম বরকত গণিখান চৌধুরির ভাগনি দল বদল করে আশ্রয় নেন মমতা শিবিরে। উত্তর মালদা কেন্দ্র থেকে দু''বার কংগ্রেসের সাংসদ মৌসম। তবে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর ওই কেন্দ্রে কংগ্রেসের ভোট-ব্যাংকে কার্যত ধস নেমেছে। জেলা পরিষদের ১৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ও তৃণমূল একাই পায় ৬টি করে আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতে মাত্র ২টি। ২০০৯ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি মির্জা কায়েস বেগের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পারিবারিক পরিচয়ে মৌসমের দুই মামা আবু নাসের খান চৌধুরী ও আবু হাসেম খান চৌধুরীও সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এই সে দিন দুই সহোদরা মালদহের পাণ্ডুয়ায় মাগডুম পিরবাবার দরগায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দোয়া করলেন। তার পরে কাছেই মায়ের সমাধির সামনেও গিয়ে বসে রইলেন বেশ কিছু ক্ষণ। একজন মৌসম নূর, অন্য জন তাঁর দিদি সাহেদা সালেহা নূর ওরফে লিজু। সাহেদার স্বামী ইশা খান চৌধুরী উত্তর মালদহের কংগ্রেস প্রার্থী, অর্থাৎ মৌসমের প্রতিদ্বন্দ্বী। মৌসম এবার দল বদল করে তৃণমূলে। লিজু আর মৌসম দু’জনেরই ঠিকানা গনিখান চৌধুরীর কোতোয়ালির হাভেলি। মালদহের রাজনীতি এখনও নির্ধারণ করে এই ঠিকানাই। তাই এই পরিবারকে নিয়েই টানাটানি সব দলের। এবারও কোতোয়ালির বাড়িটি থেকেই ভোটে দাঁড়িয়েছেন গনির ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী (ডালু), গনির ভাগ্নী মৌসম এবং গনির ভাইপো ইশা। রাজনীতির ময়দানের লড়াইয়ের লেশমাত্র চিহ্ন ছিল না দুই বোনের মুখে। লিজু কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, “এটা পুরোপুরি ব্যক্তিগত বিষয়।” মৌসমের কথায়, “রাজনীতিতে মতাদর্শের ফারাক থাকতেই পারে। রাজনীতির ময়দানে লড়াইও হতে পারে। কিন্তু পরিবারের সম্পর্ক তাতে ভাঙবে কেন?’’ তিনি বলেন, ‘‘প্রতি বছরই আমরা দুই বোন মিলে উরস উৎসবে গিয়ে চাদর চড়ানোর পরে দোয়া করি। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।” মৌসমকে সমর্থন করে ইশার বক্তব্য, “রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি, পরিবারের জায়গায় পরিবার। কোতোয়ালি হাভেলি এটাই মেনে চলে।” এবার এক ঝলক দেখা যাক সাংসদ মৌসমের রিপোর্ট কার্ডে। সংসদে হাজিরা ৪৬ শতাংশ, বিতর্কে অংশগ্রণ ৯ বার, সংসদে প্রশ্ন ২৪৩। সাংসদ তহবিলে মঞ্জুর ১৫ কোটি, খরচ হয়নি ২ কোটি ৬০ লক্ষ। তাঁর নিজের দাবি, “প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ। বাকিগুলিও চলছে। পানীয় জল, শিক্ষা, আলোর ব্যবস্থা, যোগাযোগের জোর দিয়েছিলাম।“ কিন্তু মৌসমের কাছে সংসদে সরব হওয়া বা সাংসদ তহবিলের বরাদ্দের সুচারু রূপায়ণের চেয়েও হাওয়া বুঝে নির্বাচন যুদ্ধের প্রতীক বেছে নেওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোধনের জবানিতে রবীন্দ্রনাথ ধৃতরাষ্ট্রকে বলিয়েছিলেন, “শুধু জয়ধর্ম আছে, মহারাজ, তাই আজি আমি চরিতার্থ— আজি জয়ী।” প্রশ্ন জাগছে, ২৩ মে কি তাহলে এটাই হবে মৌসমের আপ্তবাক্য?হিন্দুস্থান সমাচার/অশোক
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image