Hindusthan Samachar
Banner 2 मंगलवार, अप्रैल 23, 2019 | समय 07:36 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

বিমানবন্দর কান্ডে রাজ্য সরকারকে নোটিশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

By HindusthanSamachar | Publish Date: Apr 12 2019 8:04PM
বিমানবন্দর কান্ডে রাজ্য সরকারকে নোটিশ দিল সুপ্রিম কোর্ট
কলকাতা, ১২ এপ্রিল (হি.স): তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাগে তল্লাশি চালানোর বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে নোটিশ দিল সুপ্রিম কোর্ট । শুক্রবার প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি দীপক গুপ্ত এবং বিচারপতি সঞ্জীব খন্নার বেঞ্চ এই নোটিশ দেয় । প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন । বেঞ্চ একই সঙ্গে বলেছে, ‘কেউ একজন কোনও একটি বিষয়ে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন । বিষয়টি খুব খুব সিরিয়াস । আমরা জানি না কার দাবি গ্রাহ্য’। এই আবেদনের ব্যাপারে কোনও নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি যে আবেদন করেছিলেন তাতে কর্ণপাত করেনি সুপ্রিম কোর্ট । ১৫ মার্চ গভীর রাতে থাই এয়ারওয়েজের বিমানে চড়ে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছন রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মেনকা গম্ভীর । কোনও ডিক্লারেশন ছাড়া অতিরিক্ত সোনা বহন করার জন্য রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকান শুল্ক দফতরের অফিসাররা । এর পরেই বিষয়টির মধ্যে ঢুকে পড়ে রাজ্য পুলিশ । শুল্ক আধিকারিকরা রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন, পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন রুজিরাও। গত ২৯ মার্চ সারদাকাণ্ডের শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাগে তল্লাশি চালানোর বিষয়টি উত্থাপিত করে সিবিআই । প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি দীপক গুপ্ত এবং বিচারপতি সঞ্জীব খন্নার বেঞ্চে সারদা মামলার শুনানি চলার সময় সলিসিটর জেনারেল বিমানবন্দর কাণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেন । তিনি বিচারপতিদের বলেন, কলকাতা বিমানবন্দরের একটি সাম্প্রতিক ঘটনার দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই । যে ঘটনা থেকে আপনারা বুঝতে পারবেন, পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে । কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, রাজ্য পুলিশ ১৬ মার্চ শুল্ক বিভাগের আধিকারিকদের ভয় দেখিয়েছিল । এতেই বোঝা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক অরাজকতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং আইন শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে । সলিসিটর জেনারেল আদালতকে জানান, গত ১৫ ও ১৬ মার্চের মাঝের রাতে কলকাতা বিমানবন্দরে থাই এয়ারওয়েজের বিমানে দুই মহিলা এসে নামেন । এঁদের কাছে সাতটি বড় ব্যাগ ছিল । এক্স-রে মেশিনে স্ক্যান করার সময় তাঁদের দুটি ব্যাগে সন্দেহজনক জিনিস দেখা যায় । তাঁদের ব্যাগ খুলতে বলেন বিমানবন্দরে দায়িত্বরত শুল্ক দফতরের কর্তারা । কিন্তু তাঁরা তা না করে পুলিশকে ডাকেন । তারপর বচসা জুড়ে দেন । পুলিশ এসে শুল্ক দফতরের কর্তাদের কাজে বাধা দেয় । তারপর রাত দুটো পর্যন্ত পুলিশের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে । পরিস্থিতি এমন দিকে এগোয় যে পুলিশ এক সময়ে শুল্ক দফতরের অফিসারদের গ্রেফতার পর্যন্ত করতে যায় । পরে তারা শুল্ক দফতরের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করেছে। গোটা ঘটনাই যে সিসিটিভি ফুটেজে ধরা রয়েছে তা বার বার আদালতকে জানান সলিসিটর জেনারেল । রাজ্যের তরফে আইনজীবী ছিলেন কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি । সলিসিটর জেনারেল যখন এ কথাগুলি বলেন, তখন অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি আপত্তি করেন । তিনি বলেন, চলতি মামলার সঙ্গে এ ঘটনার কোনও যোগ নেই, প্রাসঙ্গিকতা নেই। কিন্তু প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ তাঁকে থামিয়ে দেন । বরং সলিসিটর জেনারেলকে বলেন, গোটা ঘটনা, তল্লাশির সবিস্তার জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি লিখিত রিপোর্ট পেশ করতে । একইসঙ্গে সিবিআইয়ের উদ্দেশ্যে বিচারপতিরা জানান, ‘আবেদনপত্র জমা দিন । এ বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে কী পদক্ষেপ চাইছেন, তা স্পষ্ট করুন’ ? এর আগে এই মামলায় হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ নির্দেশ দিয়েছিলেন, ৮ এপ্রিল, শুল্ক দফতরের কাছে হাজিরা দিতে হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীকে । ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যান রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় । দু’পক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল জবাবের পর আদালত বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তোলেন শুল্ক দফতরের দিকে । প্রথমত, ঘটনা ঘটেছিল ১৫ ও ১৬ মার্চের মাঝের রাতে । তাহলে কেন অভিযোগ দায়ের করতে ২২ তারিখ হয়ে গেল । দ্বিতীয়ত, সমন পাঠাতে কেন ২৬ তারিখ হয়ে গেল । ৮ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় এবং বিচারপতি মহম্মদ নিজামুদ্দিনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, শুক্ল দফতরের কাছে এক্ষুণি হাজিরা দিতে হবে না রুজিরাকে । ২০ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানান বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় । এর মধ্যে অবশ্য কেন্দ্রীয় শুল্ক দফতর এবং রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হলফনামা দিতে হবে কলকাতা হাইকোর্টে । প্রসঙ্গত, ব্যাঙ্কক থেকে এ দেশে ফেরার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নুরুলা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ২ মহিলাকে আটক করেন শুল্ক দফতরের আধিকারিকরা । সুটকেসে করে অভিষেকের স্ত্রী সোনা ও টাকা নিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ ওঠে । এ অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি । কলকাতা বিমানবন্দরে শুল্ক দফতরের আওতাধীন এলাকায় কার নির্দেশে পুলিশ ঢুকল ? কার নির্দেশে শুল্ক দফতরের কাজে স্থানীয় পুলিশ হস্তক্ষেপ করল, এ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি ও বামেরা । অন্যদিকে, স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিষেক বলেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর স্ত্রীকে আক্রমণ করা হচ্ছে । তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করতে পেরেই পরিবারকে আক্রমণ করা হচ্ছে । অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নির্বাচনী অফিসে ‘ব্যক্তিগত’ সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী বলেই রুজিরাকে হেনস্থা করেছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা । পাল্টা শুল্ক আধিকারিকরা আদালতে জানান, তাঁদের কাজে বাধা দিয়েছে রাজ্য পুলিশ । বিমানবন্দরে যে এলাকায় শুল্ক আধিকারিকরা ছাড়া অন্য কারও ঢোকার এক্তিয়ার নেই, সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ । আদালতে শুল্ক আধিকারিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সমস্ত ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে । শুল্ক দফতরের বক্তব্য, রুজিরা একজন থাই নাগরিক। ১৫ ও ১৬ মার্চের মাঝের রাতে তিনি ব্যাঙ্কক থেকে থাই এয়ারওয়েজের বিমান কলকাতায় ফেরেন । তাঁর সঙ্গে অন্য এক জন মহিলা ছিলেন । এবং দু’জনের কাছে মোট সাতটি ব্যাগ ছিল । গ্রিন চ্যানেল দিয়ে যাওয়ার সময় শুল্ক দফতরের কর্তারা তাঁদের দু’টি ব্যাগ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্ক্যান করতে চান। কিন্তু তাতে বাধা দেন রুজিরা । শুধু তা নয়, বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে শুল্ক দফতরের কাজে বাধা দেয়। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এ কথা সুপ্রিম কোর্টকেও সম্প্রতি জানিয়েছেন । হিন্দুস্থান সমাচার / হীরক / কাকলি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image