Hindusthan Samachar
Banner 2 मंगलवार, अप्रैल 23, 2019 | समय 08:04 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

লাঙ্গলবন্দে অষ্টমী সম্পন্ন : প্রায় ১৪ লাখ পূণ্যার্থীর অংশগ্রহণ

By HindusthanSamachar | Publish Date: Apr 13 2019 6:30PM
লাঙ্গলবন্দে অষ্টমী সম্পন্ন : প্রায় ১৪ লাখ পূণ্যার্থীর অংশগ্রহণ
ঢাকা, ১৩ এপ্রিল (হি. স.) : রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পূণ্যতীর্থ লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানোৎসব শেষ হয়েছে। পূণ্যস্নান উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও প্রতিবেশী ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পূণ্যার্থীরা এখানে সমবেত হন। চৈত্রের শুক্লাতিথি অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ১১টা ৫ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে স্নান শুরু হয়, শেষ হয়েছে শনিবার সকাল ৮টা ৫৮ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে। রাতেও বিরতি ছিল না। পূণ্যার্থীরা জগতের যাবতীয় সংকীর্ণতা ও পঙ্কিলতা থেকে মুক্তির বাসনায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দের ব্রহ্মপুত্র নদে অষ্টমী স্নান করেন। লাঙ্গলবন্দ সব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সরোজ সাহা এদিন সকালে হিন্দুস্থান সমাচারকে বলেন, "প্রতি বছরের মতো এবারও পূণ্যার্থীরা দলে দলে অংশ নেন। এবার প্রায় ১৪ লক্ষের মত পূণ্যার্থী লাঙ্গলবন্দে এসেছেন। অত্যন্ত শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।" শ্যামপুর ঘাট, ললিত সাধুর ঘাট, অন্নপূর্ণা ঘাট, রাজ ঘাট, পাষাণকালী মন্দির ঘাট, মাকুঁড়ি সাধুর ঘাট, মহাত্মা গান্ধী ঘাট, ভদ্রেশ্বরী ঘাট, জয়কালী মন্দির ঘাট, রক্ষাকালী ঘাট, প্রেম তলা ঘাট, পঞ্চপান্ডব ঘাট, সাবদি ঘাট, দক্ষিণেশ্বরী মন্দির ঘাট, শিবমন্দির ঘাট ও জগৎবন্ধু ঘাটে স্নান করেন পূণ্যার্থীরা। ব্রহ্মপুত্রের জলে স্নান করে মাতৃহত্যার পাপ থেকে মুক্ত হয়েছিলেন পরশুরাম। পুরাণ মতে, পরশুরাম মুনি পাপমুক্তির জন্য ব্রহ্মপুত্র নদের যে স্থানের জলে স্নান করেছিলেন তা লাঙ্গলবন্দে অবস্থিত। সেই থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস চৈত্র মাসের শুক্লা তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করলে পাপ থেকে মুক্তি মেলে। এ স্নানের ফলে ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে পাপমোচন হয়। শ্রীচৈতন্যদেব এখানে এসে স্নান করেছিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণের নির্দেশে স্বামী বিবেকানন্দ লাঙ্গলবন্দে এসেছিলেন পূণ্যস্নানে। ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী তাঁর চিতাভস্ম এখানে যে ঘাট থেকে ব্রহ্মপুত্র নদে বিসর্জন দেওয়া হয়, সেই ঘাটটি পরবর্তী কালে মহাত্মা গান্ধী শ্মশানঘাট নামে পরিচিতি পায়। কয়েক বছর আগে ভারতীয় হাইকমিশন ঘাটটি সংস্কার করে। বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী বলেন, স্নান নির্বিঘ্নে করতে জেলা প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন। আগত পূণ্যার্থীরা নির্বিঘ্নে স্নান করেছেন। স্নান ঘাটগুলোতে কাপড় পরিবর্তনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, টানা বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিশুদ্ধ খাবার জল সরবরাহ, পূণ্যার্থীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ১০ শয্যা বিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতালসহ ৫টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করেছে। এছাড়াও পূণ্যার্থীদের উন্নত সেবা প্রদানে ১০টি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস প্রস্তুত রাখা হয়। পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশ ৩ স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে মোতায়েন করা হয় দেড় হাজার পুলিশ। তবে শুক্রবার স্নান করার সময় প্রিয় বালা দাস নামে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। প্রচন্ড ভিড়ে ২০১৫ সালে অষ্টমী স্নানের সময় পদপিষ্ট হয়ে ১০ জন পূণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। ওদিকে ময়মনসিংহ শহরের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদে পুণ্যস্নানে নামার পর সাঁতার না জানা এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। আজ সকাল ৮টার দিকে রাহুল সরকার (২০) নামে এই তরুণের মৃত্যু হয়। হিন্দুস্থান সমাচার/ বাসুদেব/ শ্রেয়সী / কাকলি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image