Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, अप्रैल 20, 2019 | समय 18:22 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

অনাচারের বিরুদ্ধে শুভবোধ জাগ্রত করার প্রত্যয়ে বাংলাদেশে নববর্ষ উদযাপন

By HindusthanSamachar | Publish Date: Apr 14 2019 5:22PM
অনাচারের বিরুদ্ধে শুভবোধ জাগ্রত করার প্রত্যয়ে বাংলাদেশে নববর্ষ উদযাপন
ঢাকা, ১৪ এপ্রিল (হি. স.) : সূর্যোদয়ের আগেই রমনা বটমূলে ছায়ানট-এর বর্ষ আবাহন শুরু, গানে গানে। ষাটের দশক থেকে নববর্ষে বাঙালির ভোরের ঠিকানা রমনা। পূবাকাশে সূর্য রঙ ছড়ানোর আগেই গোটা রমনা জনসমুদ্র। রাজধানীর সব সড়কই যেন পৌঁছে গেছে রমনায়। নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রাজধানীতে রমনায় বাড়তি নিরাপত্তা, ২০০১ সালে এখানেই জঙ্গিগোষ্ঠী হরকাতুল জিহাদের (হুজি) বোমা হামলায় ১০ জন প্রাণ হারিয়েছিল। আহত হয়েছিল বহু যাদের অনেকেই এখন পঙ্গু জীবন যাপন করছেন। বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি জঙ্গিবাদের হামলার শিকার হবে, এটাই স্বাভাবিক। ছায়ানটের এবারের বর্ষবরণের শ্লোগান ‘অনাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক শুভবোধ’। ছায়ানটের সভাপতি সনজীদা খাতুন আবাহন বক্তব্যে বললেন, অত্যাচার অনাচার নিপাত যাক, জয় হোক সত্যের। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নববর্ষ উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বাণীতে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিন সরকারি ছুটির দিন, ছুটি সংবাদমাধ্যমেও। প্রধানমন্ত্রী এদিন সকালে গণভবনে নববর্ষ উপলক্ষ্যে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রমনায় ছায়ানটের শতাধিক শিক্ষার্থী-প্রাক্তনী-শিক্ষক পরিবেশন করেন ১৩টি একক, ১৩টি সম্মেলক গান এবং ২টি আবৃত্তি। ছায়ানটের রীতি অনুযায়ী রবীন্দ্র রচনা থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে আবৃত্তি দু’টি। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানার আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার আগে সনজীদা খাতুনের আহ্বানে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ জানান ছায়ানট শিল্পীদল ও উপস্থিত সবাই। নীরবতা পালন করেন এক মিনিট। নুসরাত, তনুদের ওপর অত্যাচার-অবিচারের প্রতিবাদে এই নীরবতা পালন। পাকিস্তানি আমলের বৈরী পরিবেশে ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশত বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ছায়ানটের যে যাত্রার সূচনা তা মূলত ছিল বাঙালির আপন সত্তাকে জাগিয়ে তোলবার, আপন সংস্কৃতি নিয়ে বাঁচবার অধিকার ও বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করার জন্য। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্মেষ ঘটাবার জন্য ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে শুরু হয় বাংলা বছরকে আবাহনের আয়োজন। বাঙালির জাগরণের অংশ এই রমনা। রমনায় ছায়ানটের বর্ষবরণের পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে যাত্রা শুরু করে আনন্দ শোভাযাত্রা। এবছরের শোভাযাত্রার শ্লোগান ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’। কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে শোভাযাত্রা পথ পরিক্রমণ করে। এদিন সারাদেশেই জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আনন্দ শোভাযাত্রা বেরোয়। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আজ আলপনা এঁকে ভরিয়ে দেন চারুকলার ছাত্র-ছাত্রীরা। সুরের ধারা বর্ষবরণ আয়োজন করে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র চত্বরে। এখানে গতকাল সন্ধ্যায় আয়োজিত হয় চৈত্র সংক্রান্তির অনুষ্ঠান। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার নেতৃত্বে সমবেত কন্ঠে বরণ করা হয় নতুন বছরকে। এছাড়া ধানমন্ডিতে রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চে এবং উত্তরায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে আয়োজিত হয় বর্ষবরণের। বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমি পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত হয়েছে ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা, যেখানে সারাদেশের চারু ও কারু শিল্পীরা নানা গ্রামীণ সামগ্রী নিয়ে স্টল সাজিয়েছেন। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে নববর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত হয়েছে দুদিনের অনুষ্ঠানমালা। হালখাতার মুল আয়োজন এখানেই। এছাড়া হিন্দু ব্যবসায়ীরা অন্যান্য মন্দিরেও হালখাতার সূচনা করেন। ঢাকেশ্বরী মন্দির চত্বরে বসেছে দুদিনের মেলা। বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলা পঞ্জিকায় পয়লা বৈশাখ ভিন্ন ভিন্ন তারিখে হওয়ায় হিন্দু সম্প্রদায় দুদিনেই নববর্ষ পালন করেন। হিন্দুস্থান সমাচার/ বাসুদেব/ শ্রেয়সী / কাকালি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image