Hindusthan Samachar
Banner 2 रविवार, अप्रैल 21, 2019 | समय 02:33 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

বিজেপির আমলে দেশের জাতীয় সংহতি নষ্ট হয়েছে, সৌভ্রাতৃত্বে চিড় ধরেছে : রহিম

By HindusthanSamachar | Publish Date: Apr 15 2019 8:13PM
বিজেপির আমলে দেশের জাতীয় সংহতি নষ্ট হয়েছে, সৌভ্রাতৃত্বে চিড় ধরেছে : রহিম
করিমগঞ্জ (অসম), ১৫ এপ্রিল (হি.স.) : ভারতবর্ষে মুসলমানরা সাতশো বছর ধরে রাজত্ব করেছে। কিন্তু ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম করতে চায়নি। ব্রিটিশরা প্রায় দুশো বছর করেছে, তাঁরাও খ্রিষ্টান রাষ্ট্র বানায়নি। এমন-কি দেশ স্বাধীন হওয়ার ষাট বছর পর্যন্ত কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সরকার গঠিত হলেও কেউ দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর ওপর আঘাত হানেনি। কিন্তু মাত্র পাঁচ বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত নরেন্দ্র মোদী পরিচালিত বিজেপি সরকার দেশের জাতীয় সংহতি বিনষ্ট করে ফেলেছে। আজ দেশের হাজার হাজার বছরের গড়ে ওঠা সৌভ্রাতৃত্বে চিড় ধরেছে। কবিগুরুর ভারততীর্থে আজ পশুর নামে মানুষকে খুন করা হচ্ছে। আখলাক থেকে শুরু করে অসমের বিশ্বনাথ চারিআলির সৌকত আলি পর্যন্ত। এ-দেশ তো এমন ছিল না। এ-দেশ মহাত্মা গান্ধী, আবুল কালাম আজাদ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দদের মতো মহাত্মাদের দেশ। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, বৈদান্তিক মস্তিষ্ক ও ইসলামিক শক্তির মধ্যে আমি ভারতবর্ষের ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু আজ একটা জাতিকে সম্পূর্ণভাবে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। বারইগ্রাম বাজারে অনুষ্ঠিত এআইইউডিএফ-এর এক নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে এ-কথাগুলি বলেন গুয়াহাটি উচ্চ আদালতের আইনজীবী আব্দুর রহিম তালুকদার। প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত সভাপতি আব্দুল বাসিতের পৌরোহিত্য অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা রহিম তালুকদার আরও বলেন, দেশের বুদ্ধিজীবী ধর্মনিরপেক্ষ মানুষজন বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে গোটা দেশবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। আর বিজেপিকে সরাতে হলে সকল ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারার রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের এক মঞ্চে আসতে হবে। এই কথা চিন্তা করে এআইইউডিএফ-সুপ্রিমো মওলানা বদরউদ্দিন আজমল আল কাসিমি অসম থেকে বিজেপিকে উৎখাত করতে ১৪টি লোকসভা আসনের ১১টি কংগ্রেসের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। শুধুমাত্র এআইইউডিএফ-এর দখলীকৃত তিনটি আসনেই দলীয় প্রার্থী দিয়েছেন। কিন্তু অসমের কংগ্রেস নেতৃত্ব প্রতারণা করে ওই তিন আসনে তাদের প্রার্থী দিয়ে বিজেপিকে সাহায্য করছে। আব্দুর রহিম বলেন, করিমগঞ্জ লোকসভা আসনে কংগ্রেস-প্রার্থী স্বরূপ দাসের অবস্থান তৃতীয় স্থানে জেনেও সিদ্দেক-গৌতম-কমলাক্ষরা বিজেপির মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার সঙ্গে গোপন বোঝাবুঝি করে সংখ্যালঘু ভোট বিভাজনের খেলায় মেতে উঠেছেন। তাই কোনও অবস্থাতেই সিদ্দেকদের প্ররোচনায় পা না দিয়ে দলীয় প্রার্থী রাধেশ্যাম বিশ্বাসকে ভোট প্রদানের আর্জি জানান তিনি। দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক এআইইউডিএফ নেতা আজিজ আহমদ খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দেক আহমেদকে আহ্বান জানাই, তিনি যেন মুসলিম ভোট বিভাজনের খেলা থেকে বিরত থাকেন। যদি বিজেপি প্রার্থী জয়ী হয়ে যান তবে করিমগঞ্জ লোকসভা আসনের লক্ষ লক্ষ মুসলমান তাঁকে কোনও দিন ক্ষমা করবেন না। আজিজ বলেন, বিধানসভা নির্বাচন এলে আপনার আমার মধ্যে লড়াই হবে। এখন ব্যক্তিস্বার্থের জন্য জাতির ক্ষতি করবেন না। দলীয় প্রার্থী রাধেশ্যাম বিশ্বাস বক্তব্যে তাঁর কাজকর্মের খতিয়ান তুলে ধরেন। বলেন, আমি আপনাদের ভোটের অমর্যাদা করিনি। নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতা করে আমি আপনাদের পাশে ছিলাম। করিমগঞ্জে পাসপোর্ট অফিস নিয়ে এসেছি। করিমগঞ্জ লোকসভা এলাকার উন্নতির জন্য সংসদে সরব ছিলাম। স্বাধীনতার পর করিমগঞ্জ লোকসভা আসনে থেকে যতজন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন তাঁদের চেয়ে অনেক বেশি আমি কাজ করেছি। এমন-কি আগামীতে আবার নির্বাচিত হলে দুল্লভছড়া পর্যন্ত প্রতিদিন ট্রেন চালুর পাশাপাশি এক্সপ্রেস ট্রেন নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাধেশ্যাম। রাতাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত মণ্ডল কংগ্রেসের সদ্যপ্রাক্তন সভাপতি এককালের সিদ্দেক-ঘনিষ্ঠ বাহা উদ্দিন তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দেক আহমেদের বিভিন্ন কুকার্যকলাপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সিদ্দেক আহমেদ নিজের ব্যক্তিস্বার্থে কংগ্রেস, অগপ, বিজেপি, আরএসএস পর্যন্ত করতে পারেন। কংগ্রেসের ক্যাবিনেট মন্ত্রী হয়ে গত লোকসভা নির্বাচনে রাধেশ্যামকে জয়ী করতে গোপনে কাজ করেছেন। তাঁর কাছে নীতি আদর্শের কোনও বালাই নেই। এমন স্বার্থপর নেতার প্ররোচনায় পড়ে প্রতারিত না হওয়ার জন্য তিনি জনগণকে অনুরোধ জানান। হিন্দুস্থান সমাচার / জন্মজিৎ / এসকেডি / কাকলি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image