
গুয়াহাটি, ২৩ মে (হি.স.) : অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা আজ শনিবার রাজ্যের বিভিন্ন ঈদ কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং প্রচলিত আইন মেনে চলার স্বার্থে এ বছরের ঈদ-উল-আজহা যেন ‘গরু কোরবানিমুক্ত’ভাবে পালন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছে অসমের মুসলিম সমাজ।
অসমের তিনসুকিয়া জেলার মার্ঘেরিটায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় আসন্ন ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষ্যে গরু কোরবানি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২৮ মে অনুষ্ঠেয় ঈদ-উল-আজহার আগে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশংসার ঢেউ উঠেছে।
আজ শনিবার মার্ঘেরিটা সেন্ট্রাল মুসলিম কমিটি এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা করেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী, যুব প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।
কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসম সরকারের নীতি ও নির্দেশিকা এবং মার্ঘেরিটা কো-ডিস্ট্রিক্ট প্রশাসনের নির্দেশ সম্পূর্ণভাবে মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে কমিটির নেতারা বলেন, ঈদ-উল-আজহা মূলত ত্যাগ, ভক্তি এবং হৃদয়ের পবিত্রতার প্রতীক। ধর্মীয় উৎসব কখনও অন্যের অনুভূতিতে আঘাত করা বা সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করার কারণ হওয়া উচিত নয়।
নেতারা বলেন, ‘অসমে বহু প্রজন্ম ধরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে উঠেছে, সেটা সবার ঊর্ধ্বে। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালন করাও আমাদের ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
মার্ঘেরিটা মহকুমার অন্তর্গত সমস্ত মসজিদ কমিটি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের প্রশাসনের নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলা এবং এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে সমর্থন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন মৌলানা রুস্তম উল কাদরি, উজের আলম খান, আলফাজ আহমেদ, সমাজকর্মী তৌফিক খান এবং মঈনুল হক তালুকদারের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে এই পদক্ষেপকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে। অনেকে একে সামাজিক দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয় নাগরিক ও বিভিন্ন সংগঠন আশা প্রকাশ করেছে, এই সিদ্ধান্ত অসমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, নিজের অফিশিয়াল সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেছেন, বিভিন্ন সংগঠন ও কমিটির আহ্বানের পর ধুবড়ি টাউন ঈদগাহ কমিটিও আসন্ন ঈদে গরু কোরবানি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কমিটির আহ্বানের পর ধুবড়ি টাউন ঈদগাহ কমিটিও হিন্দু সম্প্রদায়ের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানাতে এবং দেশের আইন মেনে চলতে গরু কোরবানি থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছে।’ পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী অসমের সমস্ত ঈদ কমিটির প্রতি এই উদ্যোগকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি রাজ্যের সমস্ত ঈদ কমিটির কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন এগিয়ে এসে এ বছরের ঈদকে গরু কোরবানিমুক্ত করে তুলেন।’
রাজ্যে গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত আইন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর এই আহ্বান বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস