বিনামূল্যে বিদ্যুতের প্রতিশ্রুতি ভেঙে জনগণের উপর বোঝা চাপিয়েছে কংগ্রেস : বিজেপি
শিমলা, ২৩ মে (হি.স.) : হিমাচল প্রদেশে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও ভর্তুকি কমানোকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল বিজেপি। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির প্রদেশ মিডিয়া সমন্বয়ক কর্ণ নন্দা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিনামূল্যে বি
বিনামূল্যে বিদ্যুতের প্রতিশ্রুতি ভেঙে জনগণের উপর বোঝা চাপিয়েছে কংগ্রেস : বিজেপি


শিমলা, ২৩ মে (হি.স.) : হিমাচল প্রদেশে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও ভর্তুকি কমানোকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল বিজেপি। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির প্রদেশ মিডিয়া সমন্বয়ক কর্ণ নন্দা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় এসে তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস সরকার। উল্টে সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বাড়তি আর্থিক বোঝা।

কর্ণ নন্দা বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের সময় কংগ্রেস ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর করা হয়নি। তাঁর দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিত, অথচ বর্তমানে মানুষকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল গুনতে হচ্ছে।

বিজেপি নেতার অভিযোগ, কংগ্রেস সরকার ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুতের শুল্ক বাড়িয়ে চলেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বড় শিল্প সংস্থাগুলির উপর বিদ্যুৎ শুল্ক ১১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয় এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তা বাড়িয়ে ৩৭.৫ শতাংশ করা হয়। এছাড়াও ২০২৬ সালে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের উপর ইউনিটপিছু এক টাকা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সেস চাপানো হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে হোটেল, মল, বেসরকারি হাসপাতাল, পেট্রোল পাম্প ও কোচিং সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলিতে।

কর্ণ নন্দা বলেন, আগে ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে মিলত, এখন গ্রাহকদের ইউনিটপিছু ৫.৪৪ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। ১২৬ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের মূল্য হয়েছে ইউনিটপিছু ৫.৮৯ টাকা। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল কয়েক হাজার টাকায় পৌঁছে যাচ্ছে এবং ন্যূনতম বিলও প্রায় ৭৫০ টাকার কাছাকাছি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি দাবি করেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ভাড়াবাড়িতে থাকা মানুষ, পড়ুয়া, শ্রমিক, চাকরিজীবী ও আউটসোর্স কর্মীরা। বিজেপির অভিযোগ, দুইটির বেশি মিটার থাকা বাড়ির বিদ্যুৎ ভর্তুকি বন্ধ করে দেওয়ায় গরিব ও মধ্যবিত্তদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। পেয়িং গেস্ট ও ভাড়া বাড়িতে থাকা ছাত্রছাত্রী এবং কর্মীদেরও এখন ভর্তুকি ছাড়াই বিদ্যুৎ বিল মেটাতে হচ্ছে।

একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের ‘প্রাইড অফ হিলস’ প্রকল্পের আওতায় হিমাচল প্রদেশ বিপুল আর্থিক সহায়তা পেলেও রাজ্য সরকার সেই অর্থ উন্নয়নের কাজে ব্যবহার না করে নির্বাচনী গ্যারান্টি পূরণে খরচ করছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande