নকশাল কার্যকলাপমুক্ত বস্তার, তবে ‘মাইন ফ্রি’ হতে এখনও সময় লাগবে : সুন্দররাজ পি
বস্তার, ২৩ মে (হি. স.): ছত্তিশগড়ের বস্তার। একসময় ভারতের নকশাল আন্দোলনের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জঙ্গলাঞ্চলকে এখন “নকশাল কার্যকলাপমুক্ত” বলে দাবি করছে প্রশাসন। শনিবার জগদলপুরে সাংবাদিক বৈঠকে বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পি বলেন, “২০২৬ স
নকশাল কার্যকলাপমুক্ত বস্তার, তবে ‘মাইন ফ্রি’ হতে এখনও সময় লাগবে : সুন্দররাজ পি


বস্তার, ২৩ মে (হি. স.): ছত্তিশগড়ের বস্তার। একসময় ভারতের নকশাল আন্দোলনের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জঙ্গলাঞ্চলকে এখন “নকশাল কার্যকলাপমুক্ত” বলে দাবি করছে প্রশাসন।

শনিবার জগদলপুরে সাংবাদিক বৈঠকে বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পি বলেন, “২০২৬ সালের মার্চের পর থেকে বস্তারে কার্যত নকশাল হিংসা বন্ধ। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।”

তবে প্রশাসনের এই সাফল্যের দাবির মাঝেও রয়ে গেছে বড় উদ্বেগ—জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ল্যান্ডমাইন ও আইইডি। নিরাপত্তাবাহিনীর ভাষায়, বস্তার এখনও পুরোপুরি “মাইন ফ্রি” নয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী নকশাল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক এলাকায় ডি-মাইনিং অভিযান চলছে। নিরাপত্তাকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, বহু বিস্ফোরক এখনও জঙ্গলের গভীরে মাটির নীচে লুকিয়ে রয়েছে। দুর্গম ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে পুরো অঞ্চলকে নিরাপদ ঘোষণা করতে আরও সময় লাগবে।

বস্তারের বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী কার্যকলাপের কেন্দ্র ছিল। “জল, জঙ্গল, জমি”-র ইস্যুকে সামনে রেখে স্থানীয় জনজাতিদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেছিল নকশাল সংগঠনগুলি। তবে পুলিশের দাবি, এখন গ্রামবাসীদের বড় অংশ নকশালদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, “আগে ভয় ছিল। এখন মানুষ উন্নয়ন চায়। রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল—এই চাহিদাগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”

প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে বস্তারের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে রাস্তা নির্মাণ, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও সরকারি প্রকল্প পৌঁছে দেওয়ার কাজ জোরকদমে চলছে। নিরাপত্তাবাহিনী ও প্রশাসনের কর্মীরাও নিয়মিত গ্রামে গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শুধুমাত্র সশস্ত্র আন্দোলন কমে যাওয়া মানেই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান নয়। দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য, বঞ্চনা এবং জনজাতি অঞ্চলের উন্নয়ন ঘিরে প্রশ্ন এখনও পুরোপুরি মেটেনি।

ফলে প্রশাসনের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে মাটির নীচে লুকিয়ে থাকা বিস্ফোরকের হুমকি সরানো, অন্যদিকে মানুষের আস্থা ধরে রাখা।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande