এক সপ্তাহে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তিনবার, সংকটে হাফলঙের নানা শ্রেণির মানুষ
হাফলং (অসম), ২৩ মে (হি.স.) : এক সপ্তাহের ব্যবধানে টানা তিনবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় হাফলং শহর সহ আশপাশ এলাকার সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসা
পেট্রোলপাম্প_প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র


হাফলং (অসম), ২৩ মে (হি.স.) : এক সপ্তাহের ব্যবধানে টানা তিনবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় হাফলং শহর সহ আশপাশ এলাকার সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

বারবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিত্যদিনের খরচ হঠাৎ বেড়ে গেছে। অনেকেই অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে গণপরিবহণের ভাড়াও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করায় সাধারণ পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কলেজ, টিউশন ও কোচিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য যারা দু-চাকার যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের পক্ষে নিয়মিত যাতায়াত চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

উদ্বেগের বিষয়, মেধার ভিত্তিতে সরকার থেকে বিনামূল্যে প্রাপ্ত স্কুটি ব্যবহারই করতে পারছেন না ছাত্রী। জ্বালানির বাড়তি খরচ বহন করা তাদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ভালো ফলাফলের জন্য স্কুটি পেয়েছিলাম, কিন্তু এখন পেট্রোলের দাম এত বেড়েছে যে প্রতিদিন ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। অতিরিক্ত ক্লাস ও গ্রুপ স্টাডিতেও যেতে পারছি না।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপরও পড়তে শুরু করেছে। অনেক অভিভাবক আশঙ্কা করছেন, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে না পারলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে, যে সকল শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম কাজ করেন, তাদের অনেকেই নিয়মিত কর্মস্থলে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।

এদিকে, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা সরকার ও প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা ছাত্রছাত্রীদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত পরিবহণ ব্যবস্থা, সাময়িকভাবে জ্বালানির ওপর কর কমানো এবং সাশ্রয়ী গণপরিবহণ পরিষেবা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় জনৈক ব্যক্তির বক্তব্য, ‘বারবার মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।’

পরিবহণ শ্রমিক সংগঠন ও ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এভাবে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিন-আনা-দিন-খাওয়া মানুষের জীবন আরও সংকটের মুখে পড়বে।

বর্তমানে অনেক পরিবারই খরচ কমাতে দৈনন্দিন রুটিন পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। সাধারণ মানুষের আশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে এবং ছাত্রছাত্রী সহ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো স্বস্তি ফিরে পাবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande