বার্নপুরে সেল-আইএসপির বড় পদক্ষেপ, তৃণমূল কাউন্সিলরের অফিস-সহ একাধিক অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দিল
আসানসোল, ২৩ মে (হি. স.) : আসানসোলের বার্নপুরে সেল-আইএসপি (ইস্কো স্টিল প্ল্যান্ট) কর্তৃপক্ষের তরফে এক বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হল। শনিবার সকালে কোম্পানি সংলগ্ন এলাকায় জবরদখল ও অবৈধ নির্মাণ হঠাতে এই অভিযান চালায় কারখানা কর্তৃপক্ষ। এই অভিযানের সবচে
অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে


আসানসোল, ২৩ মে (হি. স.) : আসানসোলের বার্নপুরে সেল-আইএসপি (ইস্কো স্টিল প্ল্যান্ট) কর্তৃপক্ষের তরফে এক বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হল। শনিবার সকালে কোম্পানি সংলগ্ন এলাকায় জবরদখল ও অবৈধ নির্মাণ হঠাতে এই অভিযান চালায় কারখানা কর্তৃপক্ষ। এই অভিযানের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে আসানসোল পুরনিগমের ৭৮ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানকার তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর অশোক রুদ্রর কার্যালয়টি বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

জানা গিয়েছে, অভিযানে কেবল ওই কাউন্সিলরের কার্যালয়ই নয়, সেলের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা তৃণমূল কংগ্রেসের আরও বেশ কয়েকটি দলীয় কার্যালয় এবং ক্লাব ঘরও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কারখানার এই আকস্মিক ও বড়সড় অ্যাকশনকে কেন্দ্র করে আসানসোল-বার্নপুর শিল্পাঞ্চলে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

সেল কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যে সমস্ত নির্মাণ বা কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে, সেগুলি সবই কোম্পানির নিজস্ব জমিতে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গড়ে উঠেছিল। এই অবৈধ দখলদারদের আগে বহুবার আইনি নোটিশ পাঠিয়ে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও দখলদাররা সেই নির্দেশ পালন করেনি। ফলত, নিয়ম অনুযায়ী বাধ্য হয়েই এই পদক্ষেপ করতে হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এটি কোনও হঠকারী বা হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং দীর্ঘদিনের আইনি প্রক্রিয়ারই অংশ। তাঁরা আরও জানান, ভবিষ্যতের উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থেই এই জমি জবরদখল মুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। উদ্ধার হওয়া এই জমিতে আগামীদিনে পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সেল-আইএসপি কর্তৃপক্ষের।

এই উচ্ছেদ অভিযান সফল করতে পুলিশ-প্রশাসনও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সেল ম্যানেজমেন্ট পুলিশের এই সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করে জানিয়েছে যে, প্রশাসনের সঙ্গে সঠিক সমন্বয়ের কারণেই কোনওরকম বড় অশান্তি ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি আইনের সমস্ত ধারা মেনেই করা হয়েছে এবং আগামীদিনেও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান জারি থাকবে।

এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, আসানসোলের বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্যের পূর্বতন সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। বিজেপি নেতাদের দাবি, আগে প্রশাসনের তরফে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না মেলার কারণে কারখানার জমিতে এই ধরনের বেআইনি নির্মাণ ও জবরদখল সরানো সম্ভব হতো না। এখন এই সমস্ত অবৈধ দখলদারদের হঠিয়ে এলাকার প্রকৃত উন্নয়নের রাস্তা পরিষ্কার হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande