নিট পেপার ফাঁসের ধাক্কা, আত্মঘাতী ঝুনঝুনুর ছাত্রের পরিবারকে ফোনে সান্ত্বনা রাহুল গান্ধীর
ঝুনঝুনু, ২৩ মে (হি. স.): নিট পেপার ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের আবহে আত্মঘাতী রাজস্থানের ছাত্র প্রদীপ মেঘওয়ালের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিলেন রাহুল গান্ধী। শনিবার এনএসইউআই এর সমাজমাধ্যমে করা এক পোস্টে লেখেন , পেপার ফাঁসের কারণে ভেঙে পড়া পরিবার
নিট পেপার ফাঁসের ধাক্কা, আত্মঘাতী ঝুনঝুনুর ছাত্রের পরিবারকে ফোনে সান্ত্বনা রাহুল গান্ধীর


ঝুনঝুনু, ২৩ মে (হি. স.): নিট পেপার ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের আবহে আত্মঘাতী রাজস্থানের ছাত্র প্রদীপ মেঘওয়ালের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিলেন রাহুল গান্ধী। শনিবার এনএসইউআই এর সমাজমাধ্যমে করা এক পোস্টে লেখেন , পেপার ফাঁসের কারণে ভেঙে পড়া পরিবারগুলোর কণ্ঠস্বর সামনে আনতে এনএসইউআই ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

এনএসইউআই পোস্টে লেখেন, নিট পেপার লিক এবং “ব্যবস্থার ব্যর্থতার” কারণে যে পরিবার তাদের সন্তানকে হারিয়েছে, তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তিনি ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। একইসঙ্গে এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

পোস্টে আরও বলা হয়, এনএসইউআই-এর জাতীয় সভাপতি বিনোদ জাখড় মৃত ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর কথা বলিয়ে দেন। কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই জানিয়েছে, “দেশের প্রতিটি ছাত্র এবং প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে তারা দৃঢ়ভাবে রয়েছে এবং পেপার লিকের বিরুদ্ধে এই লড়াই চলবে।”

রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার গুঢ়াগৌড়জি এলাকার কানিকা ঢাণি বাড্যা নালার বাসিন্দা ছিলেন ২২ বছরের প্রদীপ মেঘওয়াল। গত তিন বছর ধরে সিকার শহরে থেকে তিনি মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

পরিবারের দাবি, ৩ মে ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত পরীক্ষার পর প্রদীপ অত্যন্ত আশাবাদী ছিল। সে বাড়িতে জানিয়েছিল, তার ৭২০ নম্বরের মধ্যে প্রায় ৬৫০ নম্বর আসতে পারে এবং এ বার তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

কিন্তু নিট পেপার ফাঁস নিয়ে বিতর্ক এবং পরীক্ষা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে শুরু করেন তিনি।

গত ১৫ মে সিকারের পিপরালি রোডের ভাড়া বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন প্রদীপ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় প্রদীপের এক বোন কোচিং ক্লাসে গিয়েছিল এবং অন্য বোন বাথরুমে ছিল। বাইরে এসে সে প্রদীপকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত ছাত্রের বাবা রাজেশ কুমার জানান,“পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বেরিয়েই ও বলেছিল, এইবার ওর সিলেকশন হয়ে যাবে।”

মা কান্নাজড়িত গলায় বলেন,“তিন বোনের একমাত্র ভাই ছিল ও। এখন আমরা কী করব?” পরিবারের দাবি, প্রদীপকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্নে তারা প্রায় ৮ থেকে ১১ লক্ষ টাকা খরচ করেছিলেন। এমনকি ছেলের পড়াশোনার জন্য নিজেদের বাড়ি তৈরিও পিছিয়ে দিয়েছিলেন।

শুক্রবার এনএসইউআই-এর জাতীয় সভাপতি বিনোদ জাখড় প্রদীপের বাড়িতে যান। সেখান থেকেই ফোনে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মৃত ছাত্রের মা, বাবা ও কাকার কথা বলানো হয়।

পরিবারের কথা শুনে রাহুল গান্ধী বলেন, “এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। ওকে তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না, তবে যদি কোনওভাবে সাহায্য করা যায়, অবশ্যই জানাবেন।” তিনি পরিবারকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেন।

প্রদীপের মৃত্যুর পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গ্রামবাসীদের একাংশ জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত প্রদীপ মেঘওয়ালের অস্থি গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়া হবে না। এই ঘটনা আবারও দেশের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাব্যবস্থা, পেপার ফাঁস এবং ছাত্রছাত্রীদের উপর বাড়তে থাকা মানসিক চাপ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande