আরজি কর কাণ্ডের পর বিতর্কে জড়ানো চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ
কলকাতা, ২৩ মে (হি.স.) : আর জি কর হাসপাতাল কাণ্ডের পর সরকারি হাসপাতালগুলিতে ''দাদাগিরি'' বা থ্রেট কালচারের অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিল স্বাস্থ্য ভবন। এর পাশাপাশি, তিনি কীভাবে ''স
অভীক দে


কলকাতা, ২৩ মে (হি.স.) : আর জি কর হাসপাতাল কাণ্ডের পর সরকারি হাসপাতালগুলিতে 'দাদাগিরি' বা থ্রেট কালচারের অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিল স্বাস্থ্য ভবন। এর পাশাপাশি, তিনি কীভাবে 'সার্ভিস কোটা'-র মাধ্যমে স্নাতকোত্তর (পিজি) পাঠ্যক্রমে ভর্তি হয়েছিলেন, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

অভীক দে বর্ধমান মেডিকেল কলেজের রেডিওলজি বিভাগের প্রাক্তন আরএমও ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি এসএসকেএম হাসপাতালের জেনারেল সার্জারি বিভাগের প্রথম বর্ষের স্নাতকোত্তর ট্রেনি বা পিজি ট্রেনি হন। আরজি কর কাণ্ডের পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছিল এবং তিনি এখনও পর্যন্ত স্থগিতাদেশের অধীনেই রয়েছেন।

শনিবার স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এই বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক মহিলা ট্রেনি চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সেই ঘটনায় ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। এর পরই সরকারি হাসপাতালগুলিতে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কথিত দাপট ও ‘থ্রেট কালচার’ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে, যেখানে অভীক দে-র নামও জড়ায়।

ঘটনার পর এমন অভিযোগও উঠেছিল যে, এসএসকেএম হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও ঘটনার দিন অভীক দে আরজি কর হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত ছিলেন। এই নিয়ে একাধিক চিকিৎসক সংগঠন তীব্র প্রশ্ন তুলেছিল। একই সঙ্গে, এসএসকেএম-এ তাঁর স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছিল।

আরজি কর কাণ্ডের পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অভীক দে-কে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এর কিছুদিন পর স্বাস্থ্য দফতর স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছিল যে, তিনি এসএসকেএম হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার এবং আউটডোর বিভাগে প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি তাঁকে হাসপাতালের হস্টেলের ঘরে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিলও (ডব্লিউবিএমসি) তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেয় যে, অভীক দে তাদের কোনও বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন না। যদিও প্রায় চার মাস পর, ডিসেম্বরে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। এবার স্বাস্থ্য দপ্তর সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

এদিকে, ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম স্বাস্থ্য ভবনের এই বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই ঘটনায় জড়িত সমস্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সমভাবে ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিতকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande