ফলনে ভাটা, তবু স্বাদে অমলিন চাকমাঘাটের বিখ্যাত লিচু
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ২৩ মে (হি.স.) : গ্রীষ্ম মানেই রসালো ফলের ''উৎসব'। আর সেই ''উৎসবের'' অন্যতম আকর্ষণ লিচু। বছরের এই সময়টাতে খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমার চাকমাঘাট উত্তর গোকুলনগর এলাকার বিখ্যাত লিচু বাগানকে ঘিরে যেন আলাদা প্রাণচাঞ্চল্
চাকমাঘাটের লিচু


তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ২৩ মে (হি.স.) : গ্রীষ্ম মানেই রসালো ফলের 'উৎসব'। আর সেই 'উৎসবের' অন্যতম আকর্ষণ লিচু। বছরের এই সময়টাতে খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমার চাকমাঘাট উত্তর গোকুলনগর এলাকার বিখ্যাত লিচু বাগানকে ঘিরে যেন আলাদা প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সুস্বাদু, মিষ্টি ও রসালো লিচুর টানে প্রতিবছরই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু চলতি বছরে সেই চেনা ছবিতে যেন বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে।

একসময় যে বাগানের ডালে ডালে ঝুলে থাকত লাল টুকটুকে লিচুর থোকা, সেখানে এ বছর ফলনের পরিমাণ অনেকটাই কম। দীর্ঘদিনের পুরনো গাছগুলো যেন ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। ফলে বাগান জুড়ে এখন আগের মতো প্রাণ নেই। বিক্রেতা ও বাগান কর্মীদের চোখেমুখেও স্পষ্ট হতাশা।

শনিবার উত্তর গোকুলনগরের ঐতিহ্যবাহী লিচু বাগানে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের আগ্রহ এখনও অটুট। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে বাগানে এসে লিচু কিনছেন, কেউ আবার স্মৃতির টানে পুরনো দিনের স্বাদ খুঁজছেন। কিন্তু চাহিদা থাকলেও পর্যাপ্ত ফলন না থাকায় বিক্রেতাদের মুখে হাসি নেই। বর্তমানে প্রতি ১০০টি লিচু ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবুও কাঙ্ক্ষিত আয় হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় জনৈক বিক্রেতা আক্ষেপের সুরে বলেন, “আগে গাছে এত লিচু হতো যে সামলানো কঠিন হয়ে যেত। এবার গাছে ফলই কম। ক্রেতারা আসছেন ঠিকই, কিন্তু বিক্রি করার মতো পর্যাপ্ত লিচু নেই।”

আরেক বাগান কর্মী জানান, বহু বছরের পুরনো গাছ হওয়ার কারণেই ধীরে ধীরে ফলন কমে যাচ্ছে। নিয়মিত পরিচর্যা, ছাঁটাই ও নতুন চারা রোপণের উদ্যোগ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

এলাকাবাসীরও দাবি, চাকমাঘাটের এই লিচু শুধু একটি ফল নয়, এটি এলাকার পরিচিতি ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। প্রতিবছর এই লিচু বাগানকে কেন্দ্র করে ছোটখাটো উৎসবের আবহ তৈরি হয়। তাই ফলন কমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে সকলের মধ্যে।

বাগান সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই যদি পুরনো গাছগুলোর বৈজ্ঞানিক পরিচর্যা এবং নতুন গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর সেই আশঙ্কাই আজ সবচেয়ে বেশি কাঁদাচ্ছে চাকমাঘাটের মানুষকে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande