১২ বছর ধরে নিখোঁজ যুবক, কাঠগড়ায় টিএসআর জওয়ান
বিশালগড় (ত্রিপুরা), ২৩ মে (হি.স.) : অসহায় পিতার বুকফাটা আর্তনাদ, “আমার ছেলে কোথায়?”—এই প্রশ্ন ঘিরেই তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে সিপাহীজলা জেলার বিশালগড় থানাধীন গোকুলনগর রাস্তার মাথা এলাকায়। অভিযোগের তীর জনৈক টিএসআর জওয়ানের বিরুদ্ধে। অভিযুক্
বারো বছর ধরে হদিশ নেই যুবকের


বিশালগড় (ত্রিপুরা), ২৩ মে (হি.স.) : অসহায় পিতার বুকফাটা আর্তনাদ, “আমার ছেলে কোথায়?”—এই প্রশ্ন ঘিরেই তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে সিপাহীজলা জেলার বিশালগড় থানাধীন গোকুলনগর রাস্তার মাথা এলাকায়। অভিযোগের তীর জনৈক টিএসআর জওয়ানের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম বিজয় দাস। অভিযোগ, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে পাশের বাড়ির যুবক সজল দেবনাথকে বিদেশে পাঠিয়ে গত এক যুগ ধরে কার্যত গুম করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে এলাকার বাসিন্দা নারায়ণ দেবনাথের ছেলে সজল দেবনাথকে বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন টিএসআর জওয়ান বিজয় দাস। পরিবারের আর্থিক অনটন দূর করার আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠান বৃদ্ধ পিতা-মাতা। প্রথম দিকে কিছু যোগাযোগ থাকলেও ধীরে ধীরে সব সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার সাত বছর পর একবার রাজ্যে ফিরে আসে সজল। কিন্তু সেই সময়েও তাকে নিজের মা-বাবা কিংবা ভাই-বোনদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। বিজয় দাসের বাড়িতেই তাঁকে আটকে রাখা হয় বলে পরিবারের দাবি। মাত্র এক মাসের মধ্যেই ফের তাঁকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত ছেলে কোথায় আছে, কী কাজ করছে, আদৌ বেঁচে আছে কিনা—সেই খবরও জানেন না তাঁর পরিবার।

অসহায় বাবার চোখে আজ শুধু অপেক্ষা আর কান্না। বহুবার বিজয় দাসের কাছে ছেলের খোঁজ জানতে চাইলেও কোনও সদুত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ। উল্টে তিন বছর আগে ছেলের অবস্থান জানতে গেলে নারায়ণ দেবনাথকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

পরিবারের দাবি, সম্প্রতি বিজয় দাসের এক ভাতিজা বিদেশ থেকে বাড়ি ফিরে আসার পর ফের ছেলের খবর জানতে চান নারায়ণ দেবনাথ। গত ১৯ মে সেই প্রশ্ন করতেই নাকি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত টিএসআর জওয়ান। অভিযোগ, প্রকাশ্য রাস্তায় বৃদ্ধকে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

এদিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে সজল দেবনাথের বোন বলেন, “আমরা জানি না আমার ভাই বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে। ১২ বছর ধরে ভাইয়ের মুখ দেখিনি। আমরা শুধু ওকে ফিরে পেতে চাই।” রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ভাইকে ফিরিয়ে আনার আকুল আবেদনও জানান তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে বিশালগড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত টিএসআর জওয়ান বিজয় দাসকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, অভিযুক্তকে কড়াভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সজল দেবনাথের নিখোঁজ রহস্যের জট খুলে যেতে পারে। কিন্তু পুলিশ আদৌ সেই পথে হাঁটবে কিনা, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।

একদিকে ছেলেহারা পরিবারের কান্না, অন্যদিকে প্রশাসনের নীরবতা—সব মিলিয়ে গোকুলনগরের বাতাস যেন আজ ভারী হয়ে উঠেছে এক অজানা আতঙ্ক আর অপেক্ষায়।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande