
আগরতলা, ২৩ মে (হি.স.) : চাকরি দেওয়ার নাম করে বেকার যুবকের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারককে গ্রেফতার করল এনসিসি থানার পুলিশ। ধৃত অভিযুক্তের নাম তঞ্জুর আলী। তাঁর বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায়। সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে ‘ত্রিপুরা কর্মসংস্থান অ্যাপ’ নামে একটি ভুয়ো অ্যাপ চালু করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিল বলে অভিযোগ পুলিশের।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাজ্যের বহু বেকার যুবক-যুবতী চাকরির আশায় বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাপের ওপর নির্ভর করছেন। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক ভুয়ো সংস্থা ও প্রতারক চক্র। এই চক্রের সদস্যরা সামাজিক মাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ‘ত্রিপুরা কর্মসংস্থান অ্যাপ’ নামে একটি অ্যাপে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হত। চাকরিপ্রার্থীদের যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বরও দেওয়া থাকত। নলছড় এলাকার বেকার যুবক রাহুল মল্লিক ওই বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন অভিযুক্ত তঞ্জুর আলীর সঙ্গে।
রাহুল মল্লিকের অভিযোগ, যোগাযোগের পর তাঁকে ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এফসিআই)-তে চাকরির অফার লেটার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় তঞ্জুর আলী। চাকরি নিশ্চিত করার নাম করে প্রথমে তার কাছ থেকে চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে আরও এক লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা দাবি করে অভিযুক্ত। সব মিলিয়ে প্রায় ছয় লক্ষ টাকারও বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
প্রতারিত যুবকের দাবি, টাকা দেওয়ার পর তাঁকে একটি অফার লেটারও পাঠানো হয়। কিন্তু দু’দিন পর অভিযুক্ত জানায়, টিটিএএডিসি নির্বাচনের কারণে আপাতত কাজে যোগদান সম্ভব নয়। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে তাঁকে ঘুরিয়ে রাখা হয়। এমনকি আরও কয়েকটি চেকও নিয়ে নেয় অভিযুক্ত। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে রাহুল মল্লিক প্রথমে মেলাঘর থানায় একটি জিডি করেন। পরে এনসিসি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে এনসিসি থানার পুলিশ। কর্মসংস্থান অ্যাপে দেওয়া মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে শুক্রবার রাতে রাজধানীর বটতলা এলাকা থেকে তঞ্জুর আলীকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার প্রতারিত যুবক রাহুল মল্লিক সাংবাদিকদের সামনে পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বহিঃরাজ্যের একটি বড় চাকরি প্রতারক চক্র ত্রিপুরার বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় রয়েছে। ধৃত তঞ্জুর আলী সেই চক্রেরই একজন সদস্য বলে সন্দেহ পুলিশের। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং কতজন যুবক-যুবতী প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এনসিসি থানার পুলিশ শনিবার অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ