নিয়মভঙ্গের অভিযোগে ১০৩টি হোমস্টের লাইসেন্স বাতিল, কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের
দেহরাদূন, ২৪ মে (হি. স.) : আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মজবুত করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল জেলা প্রশাসন। নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত ১০৩টি হোমস্টের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটন দফতরের ওয়েবসাইট থেকেও ওই হোমস্
নিয়মভঙ্গের অভিযোগে ১০৩টি হোমস্টের লাইসেন্স বাতিল, কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের


দেহরাদূন, ২৪ মে (হি. স.) : আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মজবুত করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল জেলা প্রশাসন। নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত ১০৩টি হোমস্টের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটন দফতরের ওয়েবসাইট থেকেও ওই হোমস্টেগুলিকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রবিবার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় ১৭টি, দ্বিতীয় দফায় ৭৯টি এবং তৃতীয় দফায় আরও ৭টি হোমস্টের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। জেলাজুড়ে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের দল গঠন করে মোট ১৫৩টি হোমস্টেতে পরিদর্শন চালানো হয়। তদন্তে একাধিক ক্ষেত্রে উত্তরাখণ্ড হোমস্টে নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে আসে।

জেলাশাসক সাভিন বনসল-এর নির্দেশে সহসপুর ও রায়পুর ব্লকের শহরাঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। প্রশাসনের দাবি, বহু হোমস্টেতে কার্যত হোটেল বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মতো ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা আইনশৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে, একাধিক হোমস্টেতে রান্নাঘরের ব্যবস্থা ছিল না। কোথাও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা অনুপস্থিত, আবার কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছিল। অনেক জায়গায় মালিক নিজে বসবাস করতেন না এবং সম্পূর্ণ ইউনিট ভাড়া বা লিজে চালানো হচ্ছিল। নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ঘর ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ।

প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় অপরাধ, মাদক সেবন, গভীর রাতে ডিজে পার্টি, বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও অবৈধ কার্যকলাপ বাড়ার পিছনে এই ধরনের হোমস্টেগুলির ভূমিকা পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, কিছু হোমস্টে রাতভর বার ও পার্টি স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, যেখানে উপদ্রবকারী ও অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের আনাগোনা বাড়ছিল। এমনকি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গুলি চালানোর ঘটনাও সামনে এসেছে।

এছাড়াও বিদেশি নাগরিকদের থাকার তথ্য সংক্রান্ত বাধ্যতামূলক ‘সি-ফর্ম’ জমা না দেওয়ার ঘটনাও ধরা পড়েছে। কিছু হোমস্টে আবার কাগজে রেজিস্টার্ড থাকলেও বাস্তবে চালু ছিল না।

প্রশাসনের বক্তব্য, হোমস্টে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার ও পর্যটনকে উৎসাহ দেওয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আয় বৃদ্ধি করা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেই উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে এগুলিকে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান চলবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande