ত্বিশা শর্মা মৃত্যুরহস্যে নতুন মোড়, দিল্লি এইমসের চিকিৎসকদের পুনরায় ময়নাতদন্ত; স্বামী সমর্থের দাবি ‘সম্পর্ক স্বাভাবিকই ছিল’
ভোপাল, ২৪ মে (হি. স.): অভিনেত্রী ও মডেল ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়। দিল্লি এইমস থেকে আসা চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল শনিবার ভোপাল এইমসে টুইশার দেহের পুনরায় ময়নাতদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোপাল এইমস চত্বর ও মর্গ এলাকায়
ত্বিশা শর্মা মৃত্যুরহস্যে নতুন মোড়, দিল্লি এইমসের চিকিৎসকদের পুনরায় ময়নাতদন্ত; স্বামী সমর্থের দাবি ‘সম্পর্ক স্বাভাবিকই ছিল’


ভোপাল, ২৪ মে (হি. স.): অভিনেত্রী ও মডেল ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়। দিল্লি এইমস থেকে আসা চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল শনিবার ভোপাল এইমসে টুইশার দেহের পুনরায় ময়নাতদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোপাল এইমস চত্বর ও মর্গ এলাকায় কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা হাসপাতাল কার্যত পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রাখা হয়েছে।

ত্বিশা ভাই মেজর হর্ষিত জানিয়েছেন, পুনরায় ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর রবিবার সন্ধ্যা ৫টায় ভদভদা শ্মশানঘাটে ত্বিশার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তবে অভিযুক্ত স্বামী সমর্থ সিং ও শাশুড়ি শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। অন্যদিকে, ত্বিশার বাবা নবনিধি শর্মা দ্রুত এই মামলার তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১২ মে রাতে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় রহস্যজনক অবস্থায় মৃত্যু হয় ত্বিশা শর্মার। শ্বশুরবাড়ির দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। যদিও ত্বিশার পরিবার শুরু থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলে আসছে।

এই মামলায় সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত স্বামী সমর্থ সিংকে শনিবার প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে জেরা করেছে পুলিশ। জেরার মুখে সমর্থ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানিয়েছেন, বিয়ের পর তাঁদের সম্পর্ক স্বাভাবিকই ছিল। তাঁর দাবি, ১৭ এপ্রিল ত্বিশার গর্ভধারণের খবর জানার পর থেকেই তাঁর আচরণে পরিবর্তন আসে। ত্বিশা নাকি বলেছিলেন, তিনি ‘গ্ল্যামার দুনিয়ার মানুষ’, তাই সংসারী জীবন তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এরপর তিনি দিল্লি-নয়ডা চলে যান। পরে বোঝানোর পর ২৩ এপ্রিল তাঁকে আবার ভোপালে ফিরিয়ে আনা হয়।

সমর্থ আরও দাবি করেছেন, ২৪ এপ্রিল বেঙ্গালুরু যাওয়ার জন্য টিকিট কাটা হয়েছিল। কিন্তু ত্বিশা যেতে রাজি হননি এবং আজমেরের নাসিরাবাদে ভাইয়ের কাছে চলে যান। ৩০ এপ্রিল তিনি ফের ভোপালে ফিরে আসেন।

পুলিশকে দেওয়া বয়ানে সমর্থ ১২ মে রাতের ঘটনাও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, সেদিন সন্ধ্যায় পার্লার থেকে ফেরার পর তাঁরা একসঙ্গে হাঁটতে যান এবং রাতের খাবার খান। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ তাঁরা ঘরে টিভি দেখছিলেন। পরে ত্বিশা নীচতলার ঘরে গিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে থাকেন এবং তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর তাঁর মা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গিরিবালা সিং এবং ত্বিশা মায়ের ফোন আসে যে ত্বিশা কান্নাকাটি করছেন। এরপর ছাদে গিয়ে দেখা যায়, ত্বিশা ব্যায়ামের ইলাস্টিক বেল্ট দিয়ে ফাঁস লাগিয়েছেন। সমর্থের দাবি, তিনি ও তাঁর মা মিলে ত্বিশাকে নামিয়ে সিপিআর দেন। পরে প্রতিবেশীদের সাহায্যে তাঁকে এইমসে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, কাটারা হিলস থানায় পুলিশ হেফাজতে সমর্থের রাতও ছিল অস্বস্তিকর। সূত্রের খবর, তিনি বোতলজাত জল চাইলেও পুলিশ তা দেয়নি। সাধারণ জলই দেওয়া হয়। ঘরে কুলারের ব্যবস্থাও না থাকায় গরমে তাঁকে রাত কাটাতে হয়েছে।

আগামী সোমবার এই মামলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি রয়েছে, অন্যদিকে ভোপাল জেলা আদালতে অভিযুক্ত শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের অগ্রিম জামিন বাতিলের আবেদনের শুনানি হবে। ইতিমধ্যেই আদালত সমর্থ সিংয়ের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande