
- ডিব্রুগড়কে অসমের দ্বিতীয় রাজধানী গড়তে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ, স্বাগত প্রদেশ বিজেপির
গুয়াহাটি, ৬ জুন (হি.স.) : কেবল গুয়াহাটি-কেন্দ্রিক উন্নয়ন নয়, গোটা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করে চলেছে। ডিব্রুগড়ের উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রীর পরিকল্পনায় সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন দেখা গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এ ধরনের ভূমিকাকে স্বাগত জানাচ্ছে অসম প্রদেশ বিজেপি।
প্রদেশ বিজেপির মুখপাত্র মানস শরণিয়া আজ শনিবার এক প্রেস বিবৃতিতে বলেছেন, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে ডিব্রুগড়কে রাজ্যের দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করার পদক্ষেপকে অসম বিজেপি স্বাগত জানিয়েছে।
তিনি বলেন, অসমে এনডিএ-৩.০ সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডিব্রুগড়কে রাজ্যের দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে স্টেট ক্যাপিটাল রিজিয়ন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, ডিব্রুগড় গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ডিব্রুগড় জেলার অন্তর্গত রাজধানী অঞ্চলের ২০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকা নিয়ে বিদ্যমান উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য আগামী পাঁচ বছরে মোট ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করবে সরকার। এটি বিজেপি সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার দূরদর্শী চিন্তার ফল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন মানস শরণিয়া।
বিবৃতিতে মানস শরণিয়া বলেন, ঐতিহাসিক ডিব্রুগড় শহরকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করে তুলতে এবং উজান অসমের মানুষ যাতে প্রশাসনিক সমস্ত সুবিধা সহজে পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই মুখ্যমন্ত্রী কাজ করে চলেছেন। প্রশাসনিক কাজের জন্য গুয়াহাটি যাতায়াত করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের যেমন সময় নষ্ট হয়, তেমনি অতিরিক্ত অর্থও ব্যয় হয়। ডিব্রুগড় দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে উঠলে উজান অসমের মানুষের সময় ও অর্থ, উভয়েরই সাশ্রয় হবে।
এছাড়া ডিব্রুগড়ের বিধায়ক প্রশান্ত ফুকনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় তাঁকেও অভিনন্দন জানিয়েছে রাজ্য বিজেপি। মানস শরণিয়া বলেন, রাজ্য রাজধানী অঞ্চল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান হিসেবে প্রশান্ত ফুকনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে যথাযোগ্য সম্মান দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে ডিব্রুগড় শহর নতুন রূপ লাভ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিধায়কদের স্থানীয় এলাকা উন্নয়ন তহবিল আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের সব বিধানসভা কেন্দ্রের সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে প্রত্যেক বিধায়কের স্থানীয় এলাকা উন্নয়ন তহবিল বছরে ১.৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষ থেকে এই তহবিলের পরিমাণ বছরে ২ কোটি টাকা করা হবে।
জনকল্যাণের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলিকে প্রদেশ বিজেপি স্বাগত জানিয়েছে, জানান মানস শরণিয়া। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ) ও সহায়তা বৃদ্ধি এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পদোন্নতির সুযোগ বাড়ানোর জন্য গৃহীত সিদ্ধান্তগুলিকেও অসম প্রদেশ বিজেপি স্বাগত জানিয়েছে বলে বিবৃতিত উল্লেখ করেছেন মানস শরণিয়া।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস