
কলকাতা, ৭ জুন (হি. স. ) : সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নকে ধর্মীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানালেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
তিনি বলেন, মাদ্রাসার পরিকাঠামো দেখার জন্য সরকার ৫,৭১৩ কোটি টাকা অনুদানের কথা বলছে। কিন্তু সেই অর্থের সুফল কতজন শিক্ষার্থী বাস্তবে পাচ্ছেন এবং টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে 'ভোট ব্যাঙ্ক' হিসেবে ব্যবহার করা অনুচিত । মুসলিম হোক বা পার্সি- সব সম্প্রদায়ের মানুষই প্রকৃত উন্নয়ন, শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ পাওয়ার অধিকারী।
উত্তরবঙ্গের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এতদিন কেবল উৎসবেই ব্যস্ত ছিল, উন্নয়নের দিকে তাদের নজর ছিল না। অথচ চিংড়িঘাটার মতো দীর্ঘদিনের কাজ আমাদের সরকার আসার পর দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা হয়েছে।
পাহাড় ও সমতলের উন্নয়নে নিজের কর্মসূচির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমাকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। বন্যায় যাতে কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি না হয়, তা নিশ্চিত করা এবং মহিলাদের অবস্থা খতিয়ে দেখাই আমার প্রাথমিক লক্ষ্য। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও মিরিকের মতো এলাকাগুলোর পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে। পাহাড়কে আর অবহেলার চোখে দেখা হবে না।
তৃণমূল সাংসদদের দল ছাড়ার বিষয়ে মন্ত্রী কটাক্ষের সুরে বলেন, যাদের কোনও সুনির্দিষ্ট আদর্শ নেই, সেই দল যে দ্রুত টুকরো টুকরো হবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। এতে আমাদের কাছে কোনও গুরুত্ব নেই।
এছাড়া বিএসএফ-এর জমি সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে তিনি বলেন, বিএসএফকে জমি না-দেওয়ার মতো কাজ প্রথম থেকেই করে এসেছে বর্তমান রাজ্য সরকার। অথচ উন্নয়নের প্রয়োজনে সমন্বয় ও সহযোগিতা প্রয়োজন। পরিশেষে, রাজ্যের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা এবং দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত