
কাঙপোকপি (মণিপুর), ৭ জুন (হি.স.) : রাজ্যের পুলিশ-প্রধান (ডিজিপি)-এর দায়িত্ব নিয়েই আজ রবিবার কাঙপোকপি জেলা সফর করেছেন মুকেশ সিং। তিনি জেলার পুলিশ সুপার সহ পুলিশের অন্য পদস্থ আধিকারিক, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর আধিকারিকদের পাশাপাশি কুকি-জো সম্প্রদায়ের বিভিন্ন নাগরিক সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন।
মণিপুরে চলমান নিরাপত্তা ও জাতিগত সংকটের প্রেক্ষাপটে নবাগত ডিজিপির সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের এই উদ্যোগকে এক গুরুত্বপূর্ণ জনসংযোগ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে মণিপুরের অন্যতম স্পর্শকাতর জেলা কাঙপোকপির বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরাসরি মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কাঙপোকপির পুলিশ সুপার-এর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আইন-শৃঙ্খলা) আইপিএস এলহারি দর্জি, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) আইপিএস লুনসিয়েহ কিপগেন, পুলিশ সুপার আইপিএস রাহুল গুপ্তা সহ অন্যান্য পদস্থ ও জ্যেষ্ঠ পুলিশ আধিকারিকগণ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গে জেলার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন নবাগত ডিজিপি মুকেশ সিং। রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সংবেদনশীল এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ডিজিপি মুকেশ সিংকে পুলিশ সুপার-এর কার্যালয়ে কুকি ইনপি মণিপুর (কেআইএম)-এর নেতৃত্বে বিভিন্ন কুকি-জো নাগরিক সমাজ সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাঁকে স্বাগত-অভিনন্দন জানান। তাঁকে ফুলের তোড়া ও ঐতিহ্যবাহী শাল পরিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনাকালেয় কুকি ইনপি মণিপুর একটি তিন পাতার স্মারকপত্র ডিজিপি মুকেশ সিঙের হাতে তুলে দিয়েছে। স্মারকপত্রে চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে কুকি-জো সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ও দাবিদাওয়া তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা, সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা, জনআস্থা পুনর্গঠন এবং নিরপেক্ষভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়গুলি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সফর শেষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলির মধ্যে ধারাবাহিক আলাপ-আলোচনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি আশা প্রকাশ করেছে, সমন্বয় বৃদ্ধি এবং নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে জেলার বাসিন্দাদের জন্য আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস