
পূর্ব বর্ধমান, ৭ জুন (হি . স. ) : দিল্লির পূর্বাঞ্চলের বসুন্ধরা এনক্লেভ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপিকার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অধ্যাপিকার দেহ উদ্ধারের দু’দিনের মধ্যেই ধরা হল দুজনকে। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হল খুনে মামলা।
নিহত দেবস্মিতা পাল দিল্লির শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা ছিলেন। তিনি বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে একাই থাকতেন। স্বামী কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকেন। সূত্রের খবর, বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় ২০২২ সালে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার দেবস্মিতার বোন দেবারতি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, বারবার ফোন করেও দিদির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। এরপর তিনি ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেখেন দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। সন্দেহ হওয়ায় দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেবারতি দিদির মরদেহ দেখতে পান।
ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাতায়াতকারী ২০০ জনকে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ। তাঁদের মধ্যে থেকে ১৩ জনকে আলাদা করে সন্দেহভাজনদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। দেবস্মিতার স্বামীও তদন্তকারীদের নজরে ছিলেন। গত দু’দিনে দিল্লি পুলিশের সাতটি দল চার রাজ্যে ঘুরে ঘুরে চিরুনিতল্লাশি চালিয়েছে। বহু লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অবশেষে রবিবার বর্ধমানে ধরা পড়লেন অভিযুক্ত দম্পতি।
বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকায় দেবস্মিতা পালের দাদুর বাড়ি থেকে রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাসকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের নাবালক পুত্রকেও আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের বর্ধমান আদালতে তোলা হবে। সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন হেফাজতের আবেদন জানিয়ে তাঁদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে দিল্লি পুলিশ।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত