ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন : প্রচারে বাড়ি বাড়ি আইনজীবী উন্নয়ন মঞ্চ
আগরতলা, ৭ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচারের লড়াই। নির্বাচনের আগে শেষ রবিবারে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাল শাসকদল সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন আইনজীবী উন্নয়ন মঞ্
বাড়ি বাড়ি ভোট প্রচার


আগরতলা, ৭ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচারের লড়াই। নির্বাচনের আগে শেষ রবিবারে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাল শাসকদল সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন আইনজীবী উন্নয়ন মঞ্চ। একই সঙ্গে ভোট প্রচারে দাদন বিলির যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আগামী ১৩ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। ১৫টি পদে নির্বাচনের জন্য মোট ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে আইনজীবী উন্নয়ন মঞ্চ এবং বর্তমান বার পরিচালনাকারী কংগ্রেস ও সিপিএম সমর্থিত সংবিধান বাঁচাও মঞ্চের মধ্যে।

নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আদালত চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচারের জোর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। সভা, সাংবাদিক সম্মেলন এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও প্রচার চালাচ্ছে উভয় পক্ষ। রবিবার ছিল নির্বাচনের আগে শেষ ছুটির দিন হওয়ায় প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রার্থীরা।

এদিন আইনজীবী উন্নয়ন মঞ্চের প্রার্থীদের সঙ্গে সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে প্রচার চালান। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে নিজেদের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং নির্বাচনী কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন। প্রচারে অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দের দাবি, আইনজীবী মহলের মধ্যে তাঁদের পক্ষে ইতিবাচক সাড়া মিলছে এবং পরিবর্তনের পক্ষে জনমত গড়ে উঠছে।

প্রচার কর্মসূচির ফাঁকে আইনজীবী উন্নয়ন মঞ্চের জনৈক সদস্য বর্তমান বার পরিচালনাকারী সংবিধান বাঁচাও মঞ্চের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে জয়ী হয়ে বর্তমান নেতৃত্ব আইনজীবীদের কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আদালত চত্বরকে ওয়াই-ফাই জোনে পরিণত করা, মহিলা আইনজীবীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।

তাঁর দাবি, আইনজীবী উন্নয়ন মঞ্চ ক্ষমতায় এলে আইনজীবীদের পেশাগত সুবিধা বৃদ্ধি, আধুনিক পরিষেবা চালু, আদালত চত্বরে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং মহিলা আইনজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নবীন আইনজীবীদের স্বার্থ রক্ষায়ও একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারে দাদন বা আর্থিক প্রলোভন দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনজীবী উন্নয়ন মঞ্চের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, আইনজীবীরা একটি স্বাধীন ও সচেতন পেশার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের ভোট প্রভাবিত করার জন্য দাদন বা প্রলোভন দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচনী পরিবেশকে বিভ্রান্ত করার জন্যই ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন সংগঠনের নেতারা।

নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের রাজনৈতিক সমীকরণ। দুই পক্ষই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। এখন নজর ১৩ জুনের ভোটগ্রহণ এবং তার ফলাফলের দিকে, যা আগামী দুই বছরের জন্য ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande