
মোহনপুর (ত্রিপুরা), ৭ জুন (হি.স.) : নেশা বিরোধী অভিযানে সাফল্যের কৃতিত্ব নিতে গিয়ে এক নিরীহ পরিবারকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সিধাই থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোহনপুর মহকুমার রবীন্দ্রপল্লী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অমৃত পাল ও তাঁর পরিবারের দাবি, সম্পূর্ণ নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ মে রাতে মোহনপুর থানাধীন রবীন্দ্রপল্লী এলাকার বাসিন্দা অমৃত পাল প্রতিদিনের মতো নিজের টিফিনের দোকান বন্ধ করে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বাড়ি ফেরেন। বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খেতে বসেছিলেন তিনি। সেই সময় কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি হঠাৎ দৌড়ে এসে তাঁর বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে একটি প্যাকেট ফেলে রেখে পূর্ব দিকের জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায় বলে দাবি তাঁর।
অমৃত পালের বক্তব্য, ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি দ্রুত খাবার শেষ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী তাঁর বাড়িতে হানা দেয়। পুলিশ বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে এবং উঠানে পড়ে থাকা প্যাকেটটি উদ্ধার করে। তাঁর দাবি, ওই প্যাকেট থেকে ট্যাবলেটজাতীয় কিছু সামগ্রী বের করতে দেখা যায় পুলিশকে। ঘটনাস্থলে একজন ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট (ডিসিএম) উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি জানান।
অমৃত পালের অভিযোগ, তিনি পুলিশকে গোটা ঘটনার বিবরণ দিলেও তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং উদ্ধার হওয়া ট্যাবলেটের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ফলে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম মানসিক, সামাজিক এবং আর্থিক চাপে পড়েছেন।
রবিবার নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের ডেকে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন অমৃত পাল। তিনি বলেন, “পুলিশ ও প্রশাসনের উপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমি চাই নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং প্রকৃত সত্য সামনে আসুক। আমি নির্দোষ। তদন্তে তা প্রমাণিত হবে বলেই বিশ্বাস করি।”
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলা হওয়ার পর থেকে অমৃত পাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নানা প্রশ্ন ও কটূক্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বাজার ও এলাকায় তাঁদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুজবও ছড়ানো হচ্ছে, যা পরিবারটির সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ।
এদিকে, ঘটনার নেপথ্যে মোহনপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযানের পরদিনই বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখা হলেও পরবর্তীতে অভিযোগ উঠার পর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় গ্রামবাসীদের একাংশও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, যদি অমৃত পাল সত্যিই নির্দোষ হন, তাহলে তাঁর ও তাঁর পরিবারের উপর যে সামাজিক কলঙ্কের বোঝা চাপানো হয়েছে তার সুষ্ঠু প্রতিকার হওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি তুলেছেন তাঁরা।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন প্রশাসনের তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে স্থানীয়দের।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ