জলাবাজারে পুরনো মার্কেট শেড ভাঙা ঘিরে বিতর্ক, জমির মালিকানা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ৭ জুন (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরা জেলার উত্তর পদ্মবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন জলাবাজার এলাকায় পুরনো মার্কেট শেড ভাঙার কাজ শুরু হতেই তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিকানা, শেড অপসারণের প্রক্রিয়া এবং ভাঙা সামগ্রীর ব্যবস্থাপনা
জলাবাজারে ভাঙা শেড


ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ৭ জুন (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরা জেলার উত্তর পদ্মবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন জলাবাজার এলাকায় পুরনো মার্কেট শেড ভাঙার কাজ শুরু হতেই তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিকানা, শেড অপসারণের প্রক্রিয়া এবং ভাঙা সামগ্রীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, জমির মালিক এবং ব্যবসায়ীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলাবাজার এলাকায় একটি নতুন মার্কেট শেড নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত নতুন নির্মাণকাজের দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি। এরই মধ্যে পুরনো মার্কেট শেড ভাঙার কাজ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর একাংশ।

অভিযোগকারীদের দাবি, যে জমির উপর নতুন মার্কেট শেড নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেটি ৮২ জন ব্যক্তির যৌথ মালিকানাধীন ব্যক্তিগত জমি। তাঁদের অভিযোগ, জমির মালিকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সম্মতি বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংগ্রহ না করেই পুরনো শেড ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, কৃষি দফতরের উদ্যোগে প্রকল্পের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও পুরনো মার্কেট শেড অপসারণের আগে বাজার কমিটি কিংবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনও আলোচনায় বসা হয়নি। এতে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন তাঁরা। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, নতুন মার্কেট শেড নির্মাণে বিলম্ব হলে তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, উত্তর পদ্মবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রবীর দাস ওরফে প্রণয় দাস এই কাজের বরাত পেয়েছেন। পাশাপাশি পুরনো মার্কেট শেডের টিন, কাঠ, লোহাসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী সরকারি অনুমোদন কিংবা নিলাম প্রক্রিয়া ছাড়াই বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

এছাড়া বাজার কমিটির কার্যক্রম এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে একই ব্যক্তির সম্পৃক্ততা নিয়ে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নও তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে আনা প্রয়োজন, যাতে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর হয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জলাবাজার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ, জমির মালিকানা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশ এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে উত্তর পদ্মবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রবীর দাস ওরফে প্রণয় দাস কিংবা সংশ্লিষ্ট দফতরের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করা হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande