গারো বস্তিতে জনসংযোগে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ৭ জুন (হি.স.) : সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে রবিবার খোয়াই জেলার কৃষ্ণপুর বিধানসভা এলাকার চাকমাঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গারো বস্তিতে অনুষ্ঠিত হল ‘
মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা


তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ৭ জুন (হি.স.) : সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে রবিবার খোয়াই জেলার কৃষ্ণপুর বিধানসভা এলাকার চাকমাঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গারো বস্তিতে অনুষ্ঠিত হল ‘উঠোনে জনগণের সঙ্গে প্রশাসন’ কর্মসূচি। বিজেপির ২৯ নম্বর কৃষ্ণপুর মণ্ডলের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা।

এদিনের কর্মসূচিতে মন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণপুর মণ্ডলের সহ-সভাপতি গোপাল দাস, দলের স্থানীয় নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন স্তরের কর্মী-সমর্থকরা। বৈঠকে এলাকার শতাধিক বাসিন্দা অংশগ্রহণ করে তাঁদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়ার কথা তুলে ধরেন।

আলোচনায় গ্রামবাসীরা বিশেষভাবে পানীয় জলের সংকট, বেহাল রাস্তাঘাট এবং বুনো হাতির উপদ্রবের বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আনেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্ষাকালে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দুর্বিষহ হয়ে পড়ে এবং হাতির হামলার আশঙ্কায় বহু পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটায়। এছাড়াও কিছু এলাকায় পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দাদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে জানান তাঁরা।

এলাকাবাসীর বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনার পর মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, রাজ্য সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের আলো পৌঁছে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, পানীয় জল ও রাস্তা সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা ইতিমধ্যেই বহু পরিবারের কাছে পৌঁছেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় অসংখ্য পরিবার পাকা ঘর নির্মাণের সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎচালিত রাস্তার আলো স্থাপনের বিষয়েও ইতিবাচক আশ্বাস দেন তিনি।

কর্মসূচির এক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় অংশ নেন মন্ত্রী। সেই অনানুষ্ঠানিক আলোচনাতেও স্থানীয়দের নানা সমস্যার কথা উঠে আসে। এসময় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তাঁরা নিয়মিত এবং নির্ধারিত সময়ে রেশন সামগ্রী পাচ্ছেন না। অভিযোগ শোনামাত্রই মন্ত্রী ঘটনাস্থল থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

গ্রামবাসীদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ, সমস্যার তাৎক্ষণিক শুনানি এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাসকে ঘিরে এলাকায় ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমছে এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হচ্ছে।

‘উঠোনে জনগণের সঙ্গে প্রশাসন’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের জনমুখী উদ্যোগ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande