আয়ুষ্মান ভারতে শামিল পশ্চিমবঙ্গ, দেশজুড়ে প্রকল্পের সম্প্রসারণ সম্পূর্ণ
নয়াদিল্লি, ৮ জুন (হি.স.) : দেশের বৃহত্তম সরকারি স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’-তে এবার যুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গও। এর সঙ্গেই জাতীয় স্তরে এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলো। বর্তমানে দেশের সবকটি রাজ্য ও ক
আয়ুষ্মান ভারতে শামিল পশ্চিমবঙ্গ


নয়াদিল্লি, ৮ জুন (হি.স.) : দেশের বৃহত্তম সরকারি স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’-তে এবার যুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গও। এর সঙ্গেই জাতীয় স্তরে এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলো। বর্তমানে দেশের সবকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে মোট ৩৬টি এলাকাতেই এই প্রকল্প কার্যকর করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প চালু হওয়ার ফলে রাজ্যের প্রায় ১.৪৩ কোটি পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে স্বাস্থ্য কভারেজের সুবিধা পাবেন।

সোমবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি’ (এনএইচএ) এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে এই মর্মে একটি সমঝোতা স্মারকপত্র (মউ) স্বাক্ষরিত হয়। এই অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল সহ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।

দেশের বৃহত্তম এই স্বাস্থ্য প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হওয়ার বিষয়টিকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। তিনি বলেন, “২০১৮ সালে এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল এবং আজ এটি বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনায় পরিণত হয়েছে।” তিনি জানান, এ পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় ১২ কোটিরও বেশি চিকিৎসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, যার মোট খরচ ১.৮২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। এর ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি মারাত্মক সব রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক সাহায্য পাবে। এই প্রকল্পের অধীনে চিকিৎসা সম্পূর্ণ ক্যাশলেস এবং পেপারলেস হবে। রোগীরা দেশের ৩৬,০০০-এরও বেশি তালিকাভুক্ত হাসপাতালে এই সুবিধা পাবেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্পের ফলে দরিদ্র পরিবারগুলির চিকিৎসার জন্য নিজস্ব পকেট থেকে খরচের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা ২০১৮ সালের আগে ছিল ৬৪.৬ শতাংশ এবং বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩.৪ শতাংশে।

জে পি নাড্ডা বলেন, এই প্রকল্পের ‘পোর্টেবিলিটি’ সুবিধার কারণে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা দেশের যেকোনো রাজ্যে গিয়ে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। এর পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে, জরায়ুমুখের ক্যানসার (সার্ভাইকাল ক্যানসার) প্রতিরোধের লক্ষ্যে কিশোরীদের জন্য ‘এইচপিভি’ টিকাকরণ কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে এবং পশ্চিমবঙ্গেও সম্প্রতি এই টিকাকরণ অভিযান শুরু হয়েছে।

এই উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য ভারত সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (এনএইচএম) অধীনে ভারত সরকার সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৫২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, যা রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের পরিকাঠামো এবং পরিষেবা প্রদানকে আরও শক্তিশালী করবে।

মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, রাজ্যের প্রায় ১.২৪ কোটি যোগ্য পরিবার এখন থেকে এই স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পাবেন, যা তাঁদের উন্নত আর্থিক সুরক্ষা এবং গুণমানসম্পন্ন চিকিৎসার সুযোগ সুনিশ্চিত করবে। তিনি আরও যোগ করেন, আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং প্রবীণ নাগরিকদের এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার পর রাজ্যে মোট উপভোক্তা পরিবারের সংখ্যা দাঁড়াবে ১.৪৩ কোটি। প্রতিষেধক স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রতি রাজ্য সরকারের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে যেখানে ৭.৫ লক্ষেরও বেশি এইচপিভি ভ্যাকসিনের ডোজ বরাদ্দ করা হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই টিকাকরণ কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেন, এই প্রকল্প রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও মজবুত করবে এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ১১ কোটি মানুষ এর দ্বারা উপকৃত হবেন। এই পদক্ষেপ রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক বিশাল পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande