
- জয়ন্তমল্ল বরুয়াকে অর্থ, ডা. রণোজ পেগুকে শিক্ষা, কৌশিক রায়কে খাদ্য ও গণবণ্টন ইত্যাদি, কৃষ্ণেন্দু পালকে জনস্বাস্থ্য কারিগরি, বরাক উপত্যকা উন্নয়ন ইত্যাদি, কেশব মহন্তকে রাজস্ব ও সাধারণ প্রশাসন ইত্যাদি দফতরের দায়িত্ব
গুয়াহাটি, ৮ জুন (হি.স.) : গৃহ ও রাজনৈতিক, পূৰ্ত, জনসংযোগ ইত্যাদি নিজের হাতে রেখে তাঁর মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যদের দফতর বণ্টন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা। এর আগে গত ১২ মে চারজন মন্ত্রী যথাক্রমে অজন্তা নেওগ, রামেশ্বর তেলি, অতুল বরা এবং চরণ বড়োকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আজ আরও ১২ জন নতুন মন্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন দফতর বণ্টন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) অসমের সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণের তিন দিনের মাথায় আজ মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন করা হয়েছে। আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) অপরাহ্নে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এই দফতর বণ্টনের ঘোষণা করেছেন।
অসমকে আরও উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে মন্ত্রীদের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগ বণ্টন করা হয়েছে। এ বার পূর্ববর্তী সরকারের একাধিক মন্ত্রীর দফতরে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা নিজের কাছে রেখেছেন গৃহ ও রাজনৈতিক বিভাগ, লোকনির্মাণ (ভবন ও জাতীয় সড়ক), লোকনির্মাণ (সড়ক), বিদ্যুৎ, তথ্য ও জনসংযোগ এবং অন্যান্য অবণ্টিত দফতর।
অন্যদিকে, পূর্বতন জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়াকে অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি পরিবেশ ও বন এবং খনি ও খনিজ সম্পদ দফতরের দায়িত্বও পালন করবেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ডা. রণোজ পেগুকে পুনরায় শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ এবং জনজাতি উন্নয়ন দফতরের দায়িত্বও সামলাবেন। তাঁর হাতে থাকবে বিদ্যালয় শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, জনজাতীয় বিষয়ক (সমতল অঞ্চল) এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।
২০২১-২৬ মেয়াদের সরকারে জনসংযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী পীযূষ হাজরিকাকে এ বার সেই দফতর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে কৃষি, সেচ এবং সংসদীয় বিষয়ক দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনসংযোগ বিভাগ এ বার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তদারকি করবেন।
একইভাবে, অশোক সিংহলের হাতে থাকবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, চিকিৎসা শিক্ষা এবং গবেষণা দফতর।
নবনিযুক্ত মন্ত্রী অশ্বিনী রায় সরকারের হাতে থাকবে সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন, ভূমি সংরক্ষণ, সংখ্যালঘু কল্যাণ ও উন্নয়ন দফতর।
বিমল বরার হাতে থাকবে সাংস্কৃতিক বিষয়ক, শিল্প, বাণিজ্য ও সরকারি উদ্যোগ এবং অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি বিষয়ক দফতর।
বিশ্বজিৎ দৈমারির হাতে থাকবে হস্ততাঁত, বস্ত্র ও রেশম শিল্প, ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও উদ্যোগিতা এবং খিলঞ্জিয়া (ভূমিপুত্র) ও জনজাতীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক দফতর।
কৌশিক রায়ের হাতে থাকবে খাদ্য, গণবণ্টন ও ভোক্তা বিষয়ক, গৃহনির্মাণ ও নগরোন্নয়ন এবং সমবায় দফতর।
কেশব মহন্তের হাতে থাকবে রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং সাধারণ প্রশাসন দফতর।
কৃষ্ণেন্দু পালকে দেওয়া হয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য এলাকা এবং বরাক উপত্যকা উন্নয়ন দফতর।
নবনিযুক্ত মন্ত্রী নীলিমা দেবীর হাতে থাকবে পশুপালন ও পশুচিকিৎসা এবং মৎস্য দফতর।
নবনিযুক্ত মন্ত্রী সুশান্ত বরগোহাঁইয়ের হাতে থাকবে জলসম্পদ এবং আইন দফতরের দায়িত্ব।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ১৪ মে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা চার মন্ত্রীকে দফতর করেছিলেন। সে অনুযায়ী বিগত সরকারের অর্থমন্ত্রী অজন্তা নেওগকে এবার মহিলা ও শিশু উন্নয়ন এবং পর্যটন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজেপি-নেতৃত্বাধীন বিগত সরকারের আমলে অসমের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে রাজ্যের আর্থিক ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে বিবেচিত ছিলেন অজন্তা।
এছাড়া রামেশ্বর তেলিকে রূপান্তর ও উন্নয়ন, শ্রম কল্যাণ এবং চা-জনগোষ্ঠী ও আদিবাসী কল্যাণ দফতর।
অতুল বরাকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, অসম চুক্তি রূপায়ণ, সীমান্ত সুরক্ষা ও উন্নয়ন এবং আবগারি দফতর, চরণ বড়োকে পরিবহণ দফতরের পাশাপাশি বড়োল্যান্ড কল্যাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত এবার হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকারে অশ্বিনী রায় সরকার, অসম বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ দৈমারি, সুশান্ত বড়গোহাঁই এবং নীলিমা দেবী প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।
মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ এবং নবীন নেতৃত্বের সমন্বয় রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশ্বজিৎ দৈমারির অন্তর্ভুক্তি অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিধানসভার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব সম্পাদন করেছেন তিনি। তাছাড়া, বরাক উপত্যকা থেকে কৌশিক রায় এবং কৃষ্ণেন্দু পালকেও এবারের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লোয়ার এবং আপার আসামেরও প্রতিনিধিত্ব রেখেছেন ড. শর্মা।
এদিকে মঙ্গলদৈ আসন থেকে প্রথমবারের বিধায়ক এবং বিজেপির প্রবীণ মহিলা নেত্রী নীলিমা দেবীর অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর অন্তর্ভুক্তির ফলে অসম মন্ত্রিসভায় মহিলা মন্ত্রীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দুই। অন্য মহিলা হলেন অর্থমন্ত্রী অজন্তা নেওগ। তিনি গত ১২ মে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।
মন্ত্রিসভায় জোটসঙ্গীদের প্রতিনিধিত্বও বজায় রাখা হয়েছে। অসম গণ পরিষদ (অগপ)-এর অতুল বরা এবং কেশব মহন্ত এবারও রাজ্য মন্ত্রিসভায় স্থান লাভ করেছেন।
অন্যদিকে, বডোল্যান্ড পিপলস্ ফ্রন্ট (বিপিএফ)-এর প্রতিনিধিত্ব বজায় রেখেছেন চরণ বড়ো। তিনি সরকারের একমাত্র বিপিএফ মন্ত্রী।
অন্যদিকে প্রবীণ নেতা প্রদ্যুৎ বড়দলৈ এবং ভূপেন কুমার বরার সম্ভাব্য মন্ত্রিত্ব নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটেছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁরা বিজেপিতে যোগদান করলেও তাঁদের কারও নাম ঘোষিত মন্ত্রী তালিকায় স্থান পায়নি।
বিগত সরকারে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বিজেপির একাধিক প্রবীণ নেতাকে নতুন মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারি এবং প্রবীণ বিজেপি নেতা প্রশান্ত ফুকন। তবে প্রশান্ত ফুকনকে ক্যাবিনেট পদমর্যাদা দিয়ে রাজ্যের প্রস্তাবিত দ্বিতীয় রাজধানী ডিব্রুগড়ের বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ১২৬ সদস্যের অসম বিধানসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ১০২টি আসনে জয়লাভ করার পর গত ১২ মে হিমন্তবিশ্ব শর্মা টানা দ্বিতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করেছেন। ওইদিন (১২ মে) মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শরিক দলের দুই বিধায়ক যথাক্রমে অগপ-সভাপতি অতুল বরা ও বিপিএফ-এর চরণ বড়ো এবং বরা, বিজেপি দুজন অজন্তা নেওগ ও রামেশ্বর তেলি ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস