
শিলং, ৮ জুন (হি.স.) : মেঘালয় ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এমডিএ)-এর পূর্ণ সমর্থন নিয়ে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্য বিধানসভার সচিব মালথাস এস সাংমা-র কাছে মনোনয়ন পেশ করেছেন শাসকদল ‘ন্যাশনাল পিপলস্ পাৰ্টি’ (এনপিপি)-র নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক জেমস পাংসাং কঙ্খল সাংমা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় এনপিপি-প্রার্থী জেমস সাংমার সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা দলের জাতীয় সভাপতি কনরাড কঙ্খল সাংমা, মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যবৃন্দ, বিধায়ক এবং শরিক দলগুলির প্রতিনিধিরা।
প্ৰসঙ্গত, এনপিপি-প্ৰাৰ্থী জেমস পাংসাং কঙ্খল সাংমা মুখ্যমন্ত্ৰী কনরাড কঙ্খল সাংমার দাদা এবং লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার প্ৰয়াত পিএ সাংমার ছেলে। জেমসের প্রার্থিত্বকে সমর্থন করেছেন জোটশরিক যথাক্রমে ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক পার্টি (ইউডিপি), ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি),হিল স্টেট পিপলস্ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এইচএসপিডিপি) এবং নির্দলীয় বিধায়করা।
মনোনয়ন জমা দিয়ে জেমস পিকে সাংমা তাঁকে সমর্থনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা, উপ-মুখ্যমন্ত্রী প্রেস্টোন টিনসং, স্নিয়াওভালাং ধার সহ জোটের সকল বিধায়ক ও সহযোগী দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
জেমস সাংমা বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলন্ত বিভিন্ন বিষয় রাজ্যসভায় উত্থাপন করবেন। সংসদের উচ্চকক্ষে মেঘালয়ের কণ্ঠস্বর যাতে শোনা যায় তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন তিনি।
শাসক জোটের সর্বসম্মত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জেমস সাংমা বলেন, তাঁর ওপর যে কোনও দায়িত্ব অর্পণ করা হলে তিনি তা পালন করতে প্রস্তুত। তিনি জানান, এমডিএ-র সব অংশীদার দলের সঙ্গে আলোচনা করেই তাঁর প্রার্থিত্ব চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা বলেন, রাজ্যসভার সদস্যকে সংসদে বিতর্ক ও আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। একই সঙ্গে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি তুলে ধরতে হবে তাঁকে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করি, সাংসদ রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করবেন। আমার বিশ্বাস, তিনি সেই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করবেন।’
কনরাড জানান, নতুন রাজ্যসভা সদস্য কেন্দ্রের কাছে দীর্ঘদিন ধরে মুলতুবি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করবেন। এর মধ্যে অন্যতম ইনার লাইন পারমিট কার্যকর করা। তিনি বলেন, জাতীয় স্তরে ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করার মতো আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ইনার লাইন পারমিট সহ এর মধ্যে রয়েছে খাসি ও গারো ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করা, ষষ্ঠ তফশিল-সংক্রান্ত বিষয়, বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (ফরেন কনট্রিবিউশন রেগুল্যাশন অ্যাক্ট)-এর সংশোধন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মেঘালয় রেসিডেন্টস্ সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাক্ট ইত্যাদি।
মুখ্যমন্ত্ৰী সাংমা বলেন, ‘সংসদ এবং ভারত সরকারের বিভিন্ন স্তরে মেঘালয়ের উদ্বেগ ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরার ক্ষেত্রে নতুন সাংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস