
হাফলং (অসম), ৮ জুন (হি.স.) : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫-তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে অসম সরকারের ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে ডিমা হাসাও জেলা সদর হাফলঙে রাজ্যস্তরের রবীন্দ্রসংগীত ও রবীন্দ্রনৃত্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিযোগীদের উৎসাহী অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানস্থল এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে পর্ষদের সদস্য অজয় চক্রবর্তী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার রঘুরাজ বৈদ্য, প্রাক্তন কার্যনির্বাহী সদস্য কুলেন্দ্র দাওলাগুপু এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শ্যামানন্দ চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা সমন্বয়ক পঙ্কজকুমার দেব উপস্থিত অতিথি, প্রতিযোগী ও দর্শকদের স্বাগত জানান। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য ও মানবতাবাদী দর্শনে অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি তা সংরক্ষণ ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জেলার বিভিন্ন ভাষিক সম্প্রদায়ের প্রায় একশো প্রতিযোগী অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রসংগীত ও রবীন্দ্রনৃত্য বিভাগে তাঁদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা সারাদিন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। গোটা অনুষ্ঠান বিশ্বকবির সৃষ্টিশীল চেতনা ও সাংস্কৃতিক আদর্শের এক অনন্য আবহ সৃষ্টি হয়।
সভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে অধ্যাপক শ্যামানন্দ চৌধুরী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করতে হলে তাঁর গভীর দর্শন ও চিন্তাধারাকে বুঝতে হবে। তিনি রবীন্দ্রনাথকে কেবল একজন কবি নয়, একজন মহান মানবতাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিমা হাসাও জেলা ভবিষ্যতেও রাজ্যস্তরে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
প্রাক্তন কার্যনির্বাহী সদস্য কুলেন্দ্র দাওলাগুপু বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। কবি, সাহিত্যিক, গল্পকার ও সুরস্রষ্টা হিসেবে তাঁর অবদান আজও বিশ্বজুড়ে সমানভাবে সমাদৃত।
প্রধান অতিথি অজয় চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক ডিমা হাসাও জেলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শ ও চিন্তাধারা আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিভিন্ন ভাষিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজক কমিটির সভাপতি আশিস দত্ত ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি উপস্থিত অতিথি, বিচারক, প্রতিযোগী, অভিভাবক এবং অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আয়োজকরা জানান, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিশীল চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হাফলঙে জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত রবীন্দ্র সংগীত ও রবীন্দ্রনৃত্য প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগ ক, খ, গ শাখায় প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান লাভকারী প্রতিযোগিরা আগামী ১৩ জুন গুয়াহাটিতে রাজ্য পর্যায়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণ করবেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব