টানা বৃষ্টি, তারপর প্রখর রোদ - ফসল নষ্টের আশঙ্কায় কুমারঘাটের কৃষকরা
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ৮ জুন (হি.স.) : একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে হঠাৎ প্রখর রোদ—প্রকৃতির এই বৈরী আচরণে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমার কৃষকদের। মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা বিভিন্ন সবজি ফসলে পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ক্ষতির মুখে পড
বৃষ্টির পর রোদ, ফসলের ক্ষতি


কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ৮ জুন (হি.স.) : একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে হঠাৎ প্রখর রোদ—প্রকৃতির এই বৈরী আচরণে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমার কৃষকদের। মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা বিভিন্ন সবজি ফসলে পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন বহু কৃষক। ফসল বাঁচানো এবং ঋণের বোঝা সামাল দিতে সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।

সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মতো কুমারঘাট মহকুমাতেও একনাগাড়ে বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। বৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা কমতেই দেখা দিয়েছে তীব্র রোদ। আবহাওয়ার এই আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে কৃষিক্ষেত্রে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফটিকরায় এলাকার কৃষ্ণনগর, রাধানগর, আসাম বস্তি, গঙ্গানগর, শ্রীপুর, রাতাছড়া-সহ বিভিন্ন কৃষিপ্রধান অঞ্চলের কৃষকরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টির কারণে জমিতে জল জমে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তার উপর এখন প্রচণ্ড রোদের তাপে গাছ শুকিয়ে যাওয়া এবং পচন ধরার আশঙ্কা বেড়েছে। ফলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ফটিকরায়ের কৃষ্ণনগর এলাকার কৃষক প্রদীপ পাল জানান, ধার-দেনা করে তিনি বেগুন, ঝিঙে, মরিচ-সহ বিভিন্ন সবজির চাষ করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে অধিকাংশ গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন আবার রোদের তীব্রতায় সেই গাছগুলো আরও নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “কৃষিকাজ করেই সংসার চালাই। বাজার থেকে ধার করে বীজ, সার কিনেছি। ফসল নষ্ট হয়ে গেলে ঋণ শোধ করা সম্ভব হবে না। সরকার যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে কিছুটা স্বস্তি পাব।”

একই সুর শোনা গেল এলাকার আরেক কৃষক জয়ন্ত পালের কথায়। তিনি জানান, শসা, ঝিঙে, মরিচ, ঢেঁড়স-সহ বিভিন্ন সবজির চাষ করেছেন তিনি। কিন্তু লাগাতার বৃষ্টি ও পরবর্তী প্রখর রোদে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর কথায়, “প্রতি বছর ফসল বিক্রি করে ধার-দেনা শোধ করি। কিন্তু এবার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে খরচের টাকাও উঠে আসবে কি না সন্দেহ। সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তার আবেদন জানাচ্ছি।”

স্থানীয় কৃষকদের মতে, কৃষিই এই অঞ্চলের বহু পরিবারের প্রধান জীবিকা। ফলে ফসলের ক্ষতি শুধু কৃষকদেরই নয়, গোটা এলাকার অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলবে। উৎপাদন কমে গেলে বাজারে শাকসবজির সরবরাহও হ্রাস পাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ ক্রেতাদের উপর। শাকসবজির দাম বৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

কৃষকদের দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করা হোক এবং ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক। কৃষকবান্ধব বলে দাবি করা রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেদিকে নজর সংশ্লিষ্ট মহলের। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় যখন কৃষকদের মুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট, তখন সরকারি সহায়তার আশাতেই দিন গুনছেন কুমারঘাট মহকুমার কৃষিজীবী মানুষ।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande