
চুড়াইবাড়ি (ত্রিপুরা), ৮ জুন (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরা জেলার চুড়াইবাড়ি রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দ্রুতগতির একটি পণ্যবাহী ট্রেনের ধাক্কায় যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি আত্মহত্যার ঘটনা—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে স্থানীয় জনগণ ও পুলিশের মধ্যে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম রাজু মিয়া (৩৫)। তাঁর বাড়ি সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জ থানার অন্তর্গত নোনতাই ছড়া এলাকায়। তবে বিয়ের পর গত আট-নয় বছর ধরে তিনি উত্তর ত্রিপুরার চুড়াইবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার ভোর চারটা নাগাদ অসম-ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী এলাকায়, ত্রিপুরায় প্রবেশের মুখে একটি ডাউন বিসিএন পণ্যবাহী ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন রাজু মিয়া। ঘটনার সময় এলাকাটি প্রায় জনশূন্য থাকায় কেউ প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না বলে জানা গেছে।
সকাল প্রায় ছয়টা নাগাদ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার নজরে আসে রেললাইনের পাশে পড়ে থাকা মৃতদেহ। এরপরই খবর দেওয়া হয় চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ এবং রেল পুলিশকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে।
স্থানীয়দের দাবি, রাজু মিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ কারণে তাঁর পারিবারিক জীবনে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। পাশাপাশি বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর একাংশের। সেই কারণে ঘটনার পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রেললাইনের পাশে ঘোরাফেরা করার সময় তিনি ট্রেনের ধাক্কায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তবে আত্মহত্যার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের উপরই জোর দিচ্ছে পুলিশ ও রেল পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে বিশ্রামগঞ্জে থাকা মৃতের পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় চুড়াইবাড়ি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ