
আগরতলা, ৮ জুন (হি.স.) : পবিত্র হজ পালন শেষে ৪৫ দিন পর সুস্থ ও নিরাপদে রাজ্যে ফিরলেন ত্রিপুরার ৭৪ জন হজযাত্রী। সোমবার মহারাজা বীর বিক্রম (এমবিবি) বিমানবন্দরে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন কল্যাণ দফতর। উপস্থিত ছিলেন দফতরের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, ত্রিপুরা রাজ্য হজ কমিটির চেয়ারম্যান শাহ আলম, মাইনোরিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, বিশেষ সচিব নির্মল অধিকারীসহ অন্যান্যরা।
জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল রাজ্যের ৭৪ জন হজযাত্রী আগরতলা থেকে কলকাতা হয়ে বিমানযোগে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ৪৫ দিনের সফর শেষে সোমবার তাঁরা রাজ্যে ফিরে আসেন।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর হজযাত্রীদের উত্তরীয় পরিয়ে ও ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। দীর্ঘ ধর্মীয় সফর শেষে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে পুনর্মিলনের মুহূর্তে বিমানবন্দর চত্বরে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত অতিথিরা হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাঁদের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংখ্যালঘু উন্নয়ন কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন কল্যাণ দফতর এবং কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে রাজ্যের হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সকলের সহযোগিতায় হজযাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে এবং যাত্রীরা নিরাপদে রাজ্যে ফিরে এসেছেন।
মন্ত্রী বলেন, এই সফল আয়োজনের জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, সংশ্লিষ্ট আধিকারিক এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন। তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সমন্বয়ের ফলেই হজযাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের প্রতিটি অংশের মানুষের কাছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে।
অন্যদিকে, রাজ্যে ফিরে হজযাত্রীরা সরকারের ব্যবস্থাপনা ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তারা জানান, যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা ও নির্দেশনা পাওয়া গেছে। সৌদি আরবে অবস্থানকালীন সময়েও হজযাত্রীদের সুবিধা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং সফল হজ সম্পন্ন হওয়ায় তাঁদের পরিবার-পরিজনদের মধ্যেও আনন্দের আবহ লক্ষ্য করা গেছে। বিমানবন্দরে আত্মীয়-স্বজনদের ভিড় ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনটি এক আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ