সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টায় ধরা ৩ বাংলাদেশি, আটক ভারতীয় অটোচালকও
কদমতলা (ত্রিপুরা), ৮ জুন (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরা জেলার কদমতলা থানাধীন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বজেন্দ্রনগর এলাকা থেকে তিন বাংলাদেশি নাগরিক এবং এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে তাঁদের কদমতলা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়
তিন বাংলাদেশি নাগরিক আটক


কদমতলা (ত্রিপুরা), ৮ জুন (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরা জেলার কদমতলা থানাধীন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বজেন্দ্রনগর এলাকা থেকে তিন বাংলাদেশি নাগরিক এবং এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে তাঁদের কদমতলা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত আইনে মামলা রুজু করে চারজনকেই সোমবার ধর্মনগর জেলা আদালতে সোপর্দ করেছে।

পুলিশ ও বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিনের বেলায় বজেন্দ্রনগর এলাকার কাঁটাতারের বেড়ার সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় টহলরত রানীবাড়ি বিওপির অধীন বিএসএফের ৯৭ ব্যাটালিয়ানের ‘সি’ কোম্পানির জওয়ানরা সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে তিন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে। পরে ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী এলাকা থেকে জনৈক ভারতীয় অটোচালককেও আটক করা হয়।

আটক বাংলাদেশি নাগরিকরা হলেন লিটন মিয়া (৩৭), পিতা- মাহমুদ মিয়া, বাড়ি শ্রীমঙ্গল জেলা, বাংলাদেশ, সবুজ মিয়া (২৫), পিতা- চাঁন্দ মিয়া এবং অপরজন সায়েল মিয়া (৩০), পিতা-আয়াজ উল্লাহ। উভয়ের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলা, বাংলাদেশ। তাঁদের সঙ্গে আটক হয়েছেন ভারতীয় নাগরিক মানিক রায় (৪২), পিতা- মোহন লাল রায়। তিনি পেশায় অটোচালক এবং পেঁচারথল এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃত তিন বাংলাদেশি নাগরিক প্রায় তিন চার মাস আগে খোয়াই জেলার আশারামবাড়ি ও বজেন্দ্রনগর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর তাঁরা ঊনকোটি জেলার পেঁচারথল এলাকায় অবস্থান করে মাছের পোনা বিক্রির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তাঁরা পূর্ব থেকেই বজেন্দ্রনগর এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত দালাল সুশীল দাস এবং তার ছেলে সঞ্জয় দাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। অভিযোগ, তিন হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানোর চুক্তি হয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চুক্তি অনুযায়ী রবিবার পেঁচারথল এলাকা থেকে টিআর০২সি৩৬৬৯ নম্বরের একটি হাইস্পিড অটো ভাড়া করে তাঁরা বজেন্দ্রনগরে পৌঁছান। মাছ ফেরির অজুহাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় আসার পর সুশীল দাস ও সঞ্জয় দাসের সহায়তায় বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। ঠিক সেই সময় বিএসএফ-র নজরে পড়ে যান এবং আটক হন।

এ ঘটনায় কদমতলা থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।অভিযুক্ত সুশীল দাস ও সঞ্জয় দাস বর্তমানে পলাতক বলে জানা গেছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, কোনও বৃহত্তর মানব পাচার চক্র সক্রিয় আছে কি না এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত পারাপারের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande