
‘তাঁদের মুক্তির ব্যাপারে ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, নাগাল্যান্ড এবং মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ ও কনরাডের’
ইমফল, ৯ জুন (হি.স.) : মণিপুরে ১৪ জন কুকি জিম্মি (বন্দি)-কে মুক্তি দিয়েছে নাগা সংগঠন। ‘ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল’ (ইউএনসি)-এর হস্তক্ষেপে আজ মঙ্গলবার বিকালের দিকে তাঁদের সেনাপতি জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এই অগ্রগতির মধ্যেও ছয়জন নিখোঁজ নাগা বন্দির অবস্থান নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
‘ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল’-এর সভাপতি এনজি লোরহো বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিওর মাধ্যমে ছয়জন নিখোঁজ (জিম্মি) নাগা নাগরিকের অবস্থান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চলছে বলে আশ্বাস দেওয়ায় এই সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন খ্রিষ্টান সংগঠনের আবেদন এবং মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধও ১৪ জন কুকি আটক ব্যক্তিকে মুক্তির সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, মানবিক কারণে এই মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি নাগা সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, যুদ্ধনীতির প্রতি আনুগত্য, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান এবং মানবাধিকারের সুরক্ষার প্রতিফলন, বলেন ইউএনসি-র সভাপতি।
ইউএনসি-সভাপতি লোরহো আরও জানান, মণিপুর সরকার সংগঠনকে আশ্বাস দিয়েছে, ছয়জন নিখোঁজ নাগা বন্দির পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে মুক্তিপ্রাপ্ত জিম্মিদের একজন কোখিতা গ্রামের পাওটিনকাই চংলোই বলেছেন, তাঁরা নাগাদের হেফাজতে ২৭ দিন কাটিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হয়েছে। চংলোই বলেন, ‘আমাদের নাগা ভাইদের কাছ থেকে আমরা বড় শিক্ষা পেয়েছি। তাঁরা আমাদের প্রতি অসাধারণ ছিলেন।’ তিনি আরও জানান, সেখানে থাকাকালীন তাঁদের খাবার, পোশাক, কম্বল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করা হয়েছে।
এক আবেগঘন আবেদনে তিনি নিজ-সম্প্রদায়ের (কুকি) সদস্যদের প্রতি অনুরূপ মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে নিখোঁজ ছয়জন নাগা নাগরিককে মুক্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে কোটলেন এলাকায় একটি প্রাণঘাতী হামলার পর এই কুকি-নাগাদের মধ্যে বন্দি পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়। ওই ঘটনার পর অভিযোগ ওঠে, কাঙপোকপি জেলার কনসাখুল গ্রামের ১৮ জন নাগাকে একই জেলার লেইলন ভাইফেই এলাকায় কুকি গোষ্ঠীগুলি আটক করে রেখেছিল। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় নাগা গোষ্ঠীগুলি ২৮ জন কুকি ব্যক্তিকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে দুই সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে ছয় জন নাগা বন্দি এবং ১৪ জন কুকি ব্যক্তি তখনও আটক থাকায় তাঁদের নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত ছিল।
এর আগে ১৪ জন কুকি আটক ব্যক্তিকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিল ইউএনসি। কিন্তু নাগা সম্প্রদায়ের কিছু অংশের আপত্তি ও প্রতিবাদের দরুন ওই পদক্ষেপ স্থগিত হয়। অবশেষে আজ মঙ্গলবার তাঁদের মুক্তি দিয়ে সেনাপতি জেলার সাধারণ এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস