(আপডেট ) স্বাক্ষর বিতর্ক মামলায় সিআইডির কাছে ফের অতিরিক্ত সময় চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের দফতরে তল্লাশি
কলকাতা, ৯ জুন (হি. স.) : স্বাক্ষর বিতর্ক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডির দেওয়া নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ফের অতিরিক্ত সময় চাইলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডি তাঁকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে হাজি
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়


কলকাতা, ৯ জুন (হি. স.) : স্বাক্ষর বিতর্ক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডির দেওয়া নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ফের অতিরিক্ত সময় চাইলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডি তাঁকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরোনোর আগেই তিনি নতুন একটি চিঠি পাঠিয়ে হাজিরার জন্য আরও কিছু দিন সময় চেয়েছেন।

সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, এই স্বাক্ষর বিতর্ক এবং সিআইডির নোটিশ সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। এই কারণ দেখিয়েই তিনি তদন্তকারী সংস্থার কাছে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

এই মামলাটি মূলত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের সই করা একটি প্রস্তাবিত চিঠিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ওই চিঠিতে বেশ কয়েকজন বিধায়কের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছিল। এই বিতর্ক সামনে আসার পর তৃণমূলের অন্দরেও শোরগোল পড়ে যায়। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা প্রথম এই বিষয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। পরবর্তীকালে দল অবশ্য এই দুই বিধায়ককেই সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে দেয়।

নবান্ন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় পুলিশ এবং রাজ্য অপরাধ অনুসন্ধান বিভাগ (সিআইডি) যৌথভাবে তদন্ত করছে। প্রাথমিক অভিযোগের পর এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয় এবং তদন্তের স্বার্থে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।

এই তদন্তের সূত্র ধরেই মঙ্গলবার সিআইডির একটি দল কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে তল্লাশি অভিযান চালায়। একই সময়ে সংস্থার আরেকটি দল কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছায় এবং সেখানেও দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানো হয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, কালীঘাটের এই কার্যালয়েই সম্প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল, যেখানে বিধানসভার বিভিন্ন পদ বণ্টন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠক সংক্রান্ত নথিপত্র এবং গতিবিধিও এখন তদন্তকারীদের আতস কাঁচের তলায়।

সিআইডি সূত্রে খবর, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে ইতিমধ্যেই একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে পারদ চড়তে শুরু করেছে। অভিষেকের নতুন করে সময় চাওয়ার পর এবার সিআইডি পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande