ঐতিহাসিক মুহূর্ত, জোজিলা টানেলের চূড়ান্ত সংযোগ স্থাপন সম্পন্ন
কার্গিল, ৯ জুন (হি.স.): জোজি-লা টানেলের চূড়ান্ত সংযোগ স্থাপনের (ব্রেক-থ্রু) মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে মঙ্গলবার। এই সাফল্যের ফলে কাশ্মীর উপত্যকা ও লাদাখের মধ্যে সারা বছর চলাচলের উপযোগী সংযোগ স্থাপনের কয়েক দশকের পুরনো স্বপ্ন বাস্
ঐতিহাসিক মুহূর্ত, জোজিলা টানেলের চূড়ান্ত সংযোগ স্থাপন সম্পন্ন


কার্গিল, ৯ জুন (হি.স.): জোজি-লা টানেলের চূড়ান্ত সংযোগ স্থাপনের (ব্রেক-থ্রু) মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে মঙ্গলবার। এই সাফল্যের ফলে কাশ্মীর উপত্যকা ও লাদাখের মধ্যে সারা বছর চলাচলের উপযোগী সংযোগ স্থাপনের কয়েক দশকের পুরনো স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি এদিন লাদাখের মিনিমার্গে জোজিলা টানেলের মূল অংশের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এই সংযোগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তিনি কাশ্মীর ও লাদাখের মধ্যে সারা বছর চলাচলের উপযোগী সংযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটিকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানে জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা এবং মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নীতিন গড়করি বলেন, এই টানেলটি শ্রীনগর ও লেহ-র মধ্যে সারা বছর চলাচলের সুবিধা প্রদান করবে এবং এর ফলে কৌশলগত যাতায়াত ব্যবস্থা, পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নতি ঘটবে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১,৫৭৮ ফুট উচ্চতায় নির্মিত জোজিলা টানেলটি কাজ শেষ হওয়ার পর এশিয়ার দীর্ঘতম দ্বি-মুখী সড়ক টানেলে পরিণত হবে। এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মূল টানেল, একটি জরুরি নির্গমন পথ, তিনটি ভেন্টিলেশন শ্যাফট এবং প্রায় ১৮ কিলোমিটার সংযোগকারী সড়ক।

মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ জোজিলা টানেলের এই সংযোগ স্থাপনকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কাশ্মীর ও লাদাখের মধ্যে সারা বছর সংযোগ বজায় রাখার দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণ হলো। তিনি উল্লেখ করেন, শীতকালে জোজিলা পথ বন্ধ থাকার ফলে দীর্ঘকাল ধরে মানুষকে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে; এই টানেলটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও বাণিজ্যের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনবে।

উল্লেখ্য, জোজিলা টানেলটি দেশের অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্প। এই সংযোগ স্থাপনের ফলে লাদাখের কার্গিল জেলার দ্রাস অঞ্চলের মিনিমার্গ এবং কাশ্মীরের বালতালের মধ্যে জাতীয় সড়ক-১-এর ওপর নির্মিত ১৩.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল টানেলটির দুই প্রান্ত যুক্ত হলো। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একবার চালু হয়ে গেলে, এই টানেলটি জোজিলা গিরিপথ (পাস) অতিক্রমের সময় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় কমিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটে নামিয়ে আনবে এবং একইসঙ্গে মহাসড়কের বরফাচ্ছাদিত ও দুর্ঘটনাপ্রবণ অংশগুলোকে এড়িয়ে চলার সুবিধা দেবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ




 

 rajesh pande