
দুর্গাপুর, ৮ জুন (হি. স.) : জবরদখল! পঞ্চায়েতের অনুমতি ছাড়াই, তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা টাঙিয়ে চালানো হয়েছে নির্মাণকাজ। পূর্বতন সরকারের জামানায় সরকারি নির্দেশিকার তোয়াক্কাই করা হয়নি। এবার রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তন হতেই সোমবার সেই অবৈধ কাঠামো ভেঙে ফেলার নোটিশ দিল পঞ্চায়েত।
এমনই ছবি ধরা পড়ল কাঁকসার ক্যানেলপাড়ে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, প্রকাশ্য রাস্তার পাশে পঞ্চায়েতের অনুমতি ছাড়াই কীভাবে এই বেআইনি নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলো?
পানাগড় বাজারের কাঁকসা রোড। পাশ দিয়েই চলে গেছে ডিভিসির সেচ ক্যানেল। তার পাশেই রয়েছে সামান্য কিছু জমি, যেখানে অনেক আগে থেকেই বেশ কিছু দোকানপাট গড়ে উঠেছে। পানাগড় বাজার থেকে কাঁকসা গ্রাম, থানা, স্কুল ও বিডিও অফিসে যাওয়ার একমাত্র সড়ক এটি। স্বাভাবিকভাবেই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল। মাস ছয়েক আগে ওই সড়কের লাগোয়া সরকারি জমির ওপর ছ'টি দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ওই সময় কাঁকসা পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি সদস্য আনন্দ কুমার এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য আনন্দ কুমার বলেন, ওই রাস্তাটি খুবই সংকীর্ণ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ। তার ওপর টার্নিং পয়েন্টে সরকারি জমি জবরদখল করে নির্মাণকাজ চলছে। আমরা আপত্তি জানিয়ে অভিযোগ করেছিলাম। পরে দেখা যায়, পঞ্চায়েতের কোনও অনুমতি ছাড়াই তৃণমূলের মদতে এই কাজ হচ্ছে। তাই জনস্বার্থে বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করার এবং তা ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছি।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই সময় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে বেআইনি নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি আবারও ওই দোকানঘরগুলির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। ইতিমধ্যেই ছাদ তৈরি করে সাটারও বসানো হয়েছে। আর তাতেই আবারও প্রশ্ন উঠেছে— পঞ্চায়েত অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করার পরও কীভাবে নতুন করে কাজ চলল? এমনকি দোকানের ভেতরে তৃণমূল কংগ্রেসের পোস্টার ও মুখ্যমন্ত্রীর ছবিও টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, তবে কি বেআইনি কাজের দোষ ঢাকতেই তৃণমূলের পতাকা ও পোস্টার ব্যবহার করা হচ্ছে?
বিজেপির দুর্গাপুর-বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রমন শর্মা বলেন, সবই রাজ্যের দিদিমণির অনুপ্রেরণায় হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের মদতেই যত্রতত্র জবরদখল করে বেআইনি নির্মাণ চলছে। জবরদখলের হাত থেকে সেচনালা, নিকাশী নালা, জলাশয় বা পুকুর— কিছুই বাদ পড়ছে না। যার পরিণামে সামান্য বৃষ্টিতেই জনবসতি এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনা বাড়ছে এবং জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম, কিন্তু তখন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এবার রাজ্যে আইনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কোনওরকম জবরদখল বরদাস্ত করা হবে না। আইন আইনের পথে চলবে। প্রয়োজনে সরকারি নিয়ম মেনে এই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হবে।
এই বিষয়ে স্থানীয় কাঁকসা পঞ্চায়েতের প্রধান সুমনা সাহা বলেন, ওই নির্মাণে পঞ্চায়েতের কোনওরকম অনুমতি নেই। কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা